
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানায় স্ত্রীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগ করেছেন মো. রবিউল ইসলাম (৩৯) নামে এক ব্যক্তি।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, রবিউল ইসলাম গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি অভিযোগে তার স্ত্রী রোজিয়া খাতুন ওরফে সোনিয়া (৩৭)সহ আরও চারজনকে অভিযুক্ত করেছেন।
অভিযোগে রবিউল ইসলাম দাবি করেন, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে গাজীপুর মহানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণার জাল বিস্তার করে সাধারণ মানুষের হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতি করে আসছেন। গত ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক অভিযুক্ত রোজিয়া খাতুন ওরফে সোনিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয় বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা তাকে সামাজিকভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাতে থাকেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, গত ১০ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে প্রথম অভিযুক্তসহ অন্য অভিযুক্তরা রবিউল ইসলামের বাসায় গিয়ে তাকে ডেকে বাইরে বের করে দেন। এ সময় তার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রবিউল ইসলামের অভিযোগ, প্রথম অভিযুক্ত তার গলা চেপে ধরে এবং এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নীলাফুলা জখম হয়। অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও তাকে মারধর, কিল-ঘুষি এবং ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তার পরনের শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে অভিযুক্তরা তার ব্যবহৃত একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি মোবাইল ফোন, যার আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা, নিয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগকারীর আরও দাবি, অভিযুক্তদের একজন দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি সৃষ্টি করেন এবং তার প্যান্টের পেছনের পকেটে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেন।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নেন রবিউল ইসলাম।
অভিযোগপত্রে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাশিমপুর থানার পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।













