
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও সাশ্রয় সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘স্বচ্ছতা’ সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান। এতে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
সভায় বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহার, অপচয় রোধ, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যুৎ বিলের ব্যয় কমানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ বলেন, জাতীয় সম্পদ বিদ্যুৎ সংরক্ষণে সচেতন নাগরিকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতা শুধু মাসিক বিদ্যুৎ বিল কমাতে সহায়তা করে না, বরং দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের ব্যয় কমাতে নিয়মিত পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
পুলিশ সুপার বিদ্যুতের অপচয় রোধে অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অফিসের কার্যক্রম শেষে সব ধরনের বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
এ ছাড়া দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি অফিসের বিভিন্ন কক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সঠিক নিয়ম অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী, সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব নয়; প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিদ্যুতের অপচয় রোধে ভূমিকা রাখতে হবে। অপ্রয়োজনীয় বাতি, ফ্যান, এসি, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করা সম্ভব।
সভায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়, নাগরিক দায়িত্ব পালন এবং আইন মেনে চলার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, স্থিতিশীল ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।













