
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বহুজাতিক পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা পুরাতন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে ফতুল্লার পাগলা তালতলা এলাকায় অবস্থিত নির্জন গার্মেন্টস কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কারখানার শ্রমিকরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে বয়লার বিস্ফোরিত হলে কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দে শ্রমিকরা প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে জরুরি বহির্গমন পথ ও চলাচলের রাস্তায় বিভিন্ন মালামাল রাখা থাকায় অনেকেই সময়মতো বের হতে পারেননি। এতে হতাহতের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তারা।
শ্রমিকদের দাবি, বিস্ফোরিত বয়লারটিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি ছিল। বিষয়টি একাধিকবার কারখানা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মালিকপক্ষের অবহেলা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তাদের।
দুর্ঘটনার পর কারখানার ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার পিএম জসিম উদ্দিন ও সুপারভাইজার মনিরকে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে শ্রমিকরা কারখানার সামনে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা পুরাতন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বয়লার বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ, শিল্প পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনা শেষে তাদের দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে আরবিন, জাকির, মঞ্জু, শাহীন, জয়, হৃদয়, সাবিনা, খাদিজা, নাসিমা, আল-আমিন ও অন্তরের নাম জানা গেছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এদিকে, দুর্ঘটনায় একজন শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লেও তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, “একজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা বিষয়টি যাচাই করছি। নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে জানানো হবে।”
তিনি আরও জানান, “ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।”
ঘটনার পর শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কারখানার বয়লারের রক্ষণাবেক্ষণ এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।













