
বিশেষ প্রতিনিধিঃ ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ছাত্র ও সাধারণ জনগণ হত্যার নির্দেশদাতার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী মামলার রায় ঘোষণার দিন ঠিক করা হয়েছে আগামী ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। রায়ের ঘনিয়ে আসা নিরিখে ঢাকাসহ গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ ‘লকডাউন’ কর্মসূচি দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান মামলার রায় ঘিরে সারা দেশে যখন রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে, তখন গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোতে শুরু হয়েছে ব্যাপক তৎপরতা। শেখ হাসিনার জন্মভূমি হওয়ায় এখানে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে এক ধরনের আবেগময় প্রতিরক্ষা মনোভাব।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ‘লকডাউনের’ মূল নেতৃত্ব গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাদের হাতে থাকবে। দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ইতিমধ্যেই সারা দেশে কয়েকশ নেতাকর্মীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। চিহ্নিতদের তালিকা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
সরকারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে কালবেলা নিশ্চিত করেছে,
“লকডাউন কর্মসূচি কার্যকর করতে কেউ যেন রাস্তায় নামতে না পারে, সে জন্য অভিযান আরও জোরদার করা হবে। প্রতিটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।”
সূত্র জানায়, যেখানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি বেশি, সেসব জায়গায় বাড়তি সতর্কতা রয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখনও বেপরোয়া। তারা পূর্বেও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ভণ্ডুল করে দলটির নেতাদের অবরুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানিয়েছে, রায়ের পরপরই গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা সহিংসতা ও বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া কিছু সরকারি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য সহিংস এলাকা চিহ্নিত করেছে এবং সেই অনুযায়ী অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
জেলার স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা মিলে সহিংসতা চালানোর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে গোপালগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের পর্যবেক্ষণ ও টহল জোরদার করা হয়েছে।












