এখন ০৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় পদ্মা থেকে বালু তোলার সময় দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত ২

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে বালু তোলার সময় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। (৮ অক্টোবর) মঙ্গলবার বেলা ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া গ্রামের পদ্মা নদীতে এই ঘটনা ঘটে। 

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন—কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের সোহরাব আলী শেখের ছেলে হুমায়ন শেখ (২৭) ও সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের পুরাতন কুষ্টিয়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে শিমুল হোসেন (৩৪)। তাঁদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

আহত হুমায়ন শেখ বলেন, ‘বেড় কালোয়া গ্রামের পদ্মা নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ করছিলাম আমরা প্রায় ২০ জন। বেলা দেড়টার দিকে দুটি ট্রলারে ১৫–১৭ জন আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় আমরা দুজন গুলিবিদ্ধ হয়।’ 

তিনি বলেন, ‘ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুজন নৌকা থেকে লাফ দিয়েছে। তাদের খোঁজ পাওয়া গেছে কিনা তাও জানি না। আমার হাঁটুর ওপরে একটা ও নিচে তিনটা ছররা গুলি লেগেছে।’ 

হামলাকারীদের চিনতে পেরেছেন কিনা—জানতে চাইলে গুলিবিদ্ধ হুমায়ন শেখ বলেন, ‘ট্রলারে যারা আসছিলেন তারা সবাই অপরিচিত। তবে নৌকা থেকে একজনের মুখে শামীমের নাম উচ্চারণ করতে শুনেছি।’ 

তিনি বলেন, ‘গত সোমবার থেকে আমি দিনে ১ হাজার টাকা হাজিরাতে এই বালুঘাটে শ্রমিকদের দেখভালের কাজ করছি। স্থানীয় জিয়া খাঁ আমাকে বালু ঘাটে লাগিয়েছে। দুঃখের কথা একজনও এখন পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে দেখতে আসেনি।’ 

আহত শিমুলের চোখে ছড়রা গুলি লেগেছে। তাঁকে পরীক্ষার জন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুমাইয়া জান্নাত বলেন, দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একজনকে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আরেকজন যিনি হাসপাতালে রয়েছেন তার অবস্থা ভালো। 

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জানতে পেরেছি বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘাতে এই ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ওই বালু ঘাটের ইজারা ছিল সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান স্বপনের। তিনি জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ছিলেন। খোঁজ নিতে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুজন আহত হয়েছেন। জানতে পেরেছি তাদের ছড়রা গুলি লেগেছে। তবে তাদের অবস্থা গুরুতর নয়।’

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

কুষ্টিয়ায় পদ্মা থেকে বালু তোলার সময় দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত ২

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৫৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে বালু তোলার সময় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। (৮ অক্টোবর) মঙ্গলবার বেলা ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া গ্রামের পদ্মা নদীতে এই ঘটনা ঘটে। 

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন—কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের সোহরাব আলী শেখের ছেলে হুমায়ন শেখ (২৭) ও সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের পুরাতন কুষ্টিয়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে শিমুল হোসেন (৩৪)। তাঁদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

আহত হুমায়ন শেখ বলেন, ‘বেড় কালোয়া গ্রামের পদ্মা নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ করছিলাম আমরা প্রায় ২০ জন। বেলা দেড়টার দিকে দুটি ট্রলারে ১৫–১৭ জন আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় আমরা দুজন গুলিবিদ্ধ হয়।’ 

তিনি বলেন, ‘ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুজন নৌকা থেকে লাফ দিয়েছে। তাদের খোঁজ পাওয়া গেছে কিনা তাও জানি না। আমার হাঁটুর ওপরে একটা ও নিচে তিনটা ছররা গুলি লেগেছে।’ 

হামলাকারীদের চিনতে পেরেছেন কিনা—জানতে চাইলে গুলিবিদ্ধ হুমায়ন শেখ বলেন, ‘ট্রলারে যারা আসছিলেন তারা সবাই অপরিচিত। তবে নৌকা থেকে একজনের মুখে শামীমের নাম উচ্চারণ করতে শুনেছি।’ 

তিনি বলেন, ‘গত সোমবার থেকে আমি দিনে ১ হাজার টাকা হাজিরাতে এই বালুঘাটে শ্রমিকদের দেখভালের কাজ করছি। স্থানীয় জিয়া খাঁ আমাকে বালু ঘাটে লাগিয়েছে। দুঃখের কথা একজনও এখন পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে দেখতে আসেনি।’ 

আহত শিমুলের চোখে ছড়রা গুলি লেগেছে। তাঁকে পরীক্ষার জন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুমাইয়া জান্নাত বলেন, দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একজনকে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আরেকজন যিনি হাসপাতালে রয়েছেন তার অবস্থা ভালো। 

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জানতে পেরেছি বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘাতে এই ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ওই বালু ঘাটের ইজারা ছিল সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান স্বপনের। তিনি জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ছিলেন। খোঁজ নিতে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুজন আহত হয়েছেন। জানতে পেরেছি তাদের ছড়রা গুলি লেগেছে। তবে তাদের অবস্থা গুরুতর নয়।’