এখন ০৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজকের বাংলাদেশ-আমার বাংলাদেশ, তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে আমরা এখন জাস্টিন ট্রুডোর মতো নেতার স্বপ্ন দেখতে শিখেছি।

আব্দুল বাছিদ সজলু -ঃ বলতে গেলে অনেক কথা, অনেক বিষয়, অনেক কিছু, কিন্তু পাছে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে, এই ভয়ে লেখা হয়ে উঠেনা। ছোট বেলা থেকেই শুনতাম – বাংলাদেশ গরিব দেশ, বিদেশ থেকে হাত পেতে ভিক্ষা করে এদেশের মানুষের খাওয়া পরার ব্যবস্হা করা হয় , এসব শুনতে শুনতে লজ্জায় মাথা কাটা যেতো এবং বিদেশের নাম শুনলেই সম্মানে আর ভক্তিতে আপনা আপনি মাথাটা নুয়ে আসতো, আর আপসোস হতো, আহারে, আমাদের এই দেশটি কবে অন্যের কাছে হাত পাতার কলঙ্ক থেকে মুক্তি পাবে ? সকালে ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলেই দেখতাম বুড়া বুড়া মা দাদীর বয়সের মহিলারা পাটের ছলা ব্যাগ হাতে এসে বলতো,একমুঠ ভিক্ষা দেনগো……..! ভাবতাম এই এক মুঠো ভিক্ষা দিয়ে এরা কিভাবে চলে? আরো ত্রিশ বছর আগে দেখতাম,এক একটা ধনী পরিবারে , ৪/৫ জন মহিলা কোনরূপ মাসিক বেতন ছাড়াই, সকাল থেকে রাত অবধি শুধু পেটে ভাতে কাজ করতো। বড় আপসোস হয়, আমরা এত তাড়াতাড়ি এগুলো ভুলে গেলাম কি করে? কেন মানুষের মাঝে এই দৈনতা! মানুষ কেন প্রানখুলে অন্যের কাজের প্রশংসা করতে পারেনা? পান থেকে চুন খসলেই, যেমনটা করে সমালোচনা করে,তেমনি ভালো কাজের প্রশংসা করতে সমস্যাটা কোথায়? কোথা থেকে কোথায় এলাম! ভিক্ষুক এখন আর ছলা হাতে নিয়ে ভিক্ষা করেনা, ভিক্ষা করে রিক্সায় চড়ে মাইকে! গরিবের ঘরে প্রতিমাসে পৌঁছে যাচ্ছে ত্রিশ কেজি করে চাউল! বাংলাদেশের পদ্মাসেতু দৃশ্যমান বিদেশী অনুদান ছাড়া! এদেশে এখন ফোর লেন , সিক্স লেন আর মেট্রো রেলের স্বপ্ন দেখা হয়! দেশে এখন হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়! এত এত টাকা বাংলাদেশে ছিলো , আমরা আগে জানতামইনা! কে এই কারিশমার দাবীদার? আমরা এখন জাস্টিন ট্রুডোর মতো নেতার স্বপ্ন দেখতে শিখেছি? চাহিদা থাকা ভালো, তলাবিহীন ঝুড়ি নিয়ে আমরা এখন উন্নত বিশ্বের স্বপ্ন দেখি! কিন্তু দূর্নীতি আর নিজ স্বার্থটাকে যদি পরিত্যাগ করা যেতো, চাচা আপন প্রান বাঁচা, এমন সীমাবদ্ধতা যদি না থাকতো, তাহলে সোনার বাংলা তৈরি করতে খুব বেশি বেগ পেতে হতোনা।মানুষের ধর্ম ,অতীত বেশিদিন মনে রাখেনা, দেশের স্বার্থের চাইতে নিজের স্বার্থটা সবার আগে দেখে, কাজে দুর্নীতি, আর মুখে দেশপ্রেম, এমন অরাজকতা থেকে মুক্তি না পেলে ঘুনে ধরা দেশটাকে সুন্দর,সুচারু ভাবে ঢেলে সাজানো বড্ড জটিল আর কঠিন সংগ্রাম ছাড়া কিছুই নয়! হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে কি হবে, যদি সেটা সঠিক ব্যক্তির হাতে ব্যয় না হয়! আসুন, নিজে একা বড় হওয়ার মানসিকতা ত্যাগ করে, সবাইকে নিয়ে একসাথে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখি এবং দেশটাকে একটা গর্বের জায়গায় নিয়ে দাঁড় করাই এবং মাথা উঁচু করে বলি- আমি বাংলাদেশি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

আজকের বাংলাদেশ-আমার বাংলাদেশ, তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে আমরা এখন জাস্টিন ট্রুডোর মতো নেতার স্বপ্ন দেখতে শিখেছি।

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১

আব্দুল বাছিদ সজলু -ঃ বলতে গেলে অনেক কথা, অনেক বিষয়, অনেক কিছু, কিন্তু পাছে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে, এই ভয়ে লেখা হয়ে উঠেনা। ছোট বেলা থেকেই শুনতাম – বাংলাদেশ গরিব দেশ, বিদেশ থেকে হাত পেতে ভিক্ষা করে এদেশের মানুষের খাওয়া পরার ব্যবস্হা করা হয় , এসব শুনতে শুনতে লজ্জায় মাথা কাটা যেতো এবং বিদেশের নাম শুনলেই সম্মানে আর ভক্তিতে আপনা আপনি মাথাটা নুয়ে আসতো, আর আপসোস হতো, আহারে, আমাদের এই দেশটি কবে অন্যের কাছে হাত পাতার কলঙ্ক থেকে মুক্তি পাবে ? সকালে ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলেই দেখতাম বুড়া বুড়া মা দাদীর বয়সের মহিলারা পাটের ছলা ব্যাগ হাতে এসে বলতো,একমুঠ ভিক্ষা দেনগো……..! ভাবতাম এই এক মুঠো ভিক্ষা দিয়ে এরা কিভাবে চলে? আরো ত্রিশ বছর আগে দেখতাম,এক একটা ধনী পরিবারে , ৪/৫ জন মহিলা কোনরূপ মাসিক বেতন ছাড়াই, সকাল থেকে রাত অবধি শুধু পেটে ভাতে কাজ করতো। বড় আপসোস হয়, আমরা এত তাড়াতাড়ি এগুলো ভুলে গেলাম কি করে? কেন মানুষের মাঝে এই দৈনতা! মানুষ কেন প্রানখুলে অন্যের কাজের প্রশংসা করতে পারেনা? পান থেকে চুন খসলেই, যেমনটা করে সমালোচনা করে,তেমনি ভালো কাজের প্রশংসা করতে সমস্যাটা কোথায়? কোথা থেকে কোথায় এলাম! ভিক্ষুক এখন আর ছলা হাতে নিয়ে ভিক্ষা করেনা, ভিক্ষা করে রিক্সায় চড়ে মাইকে! গরিবের ঘরে প্রতিমাসে পৌঁছে যাচ্ছে ত্রিশ কেজি করে চাউল! বাংলাদেশের পদ্মাসেতু দৃশ্যমান বিদেশী অনুদান ছাড়া! এদেশে এখন ফোর লেন , সিক্স লেন আর মেট্রো রেলের স্বপ্ন দেখা হয়! দেশে এখন হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়! এত এত টাকা বাংলাদেশে ছিলো , আমরা আগে জানতামইনা! কে এই কারিশমার দাবীদার? আমরা এখন জাস্টিন ট্রুডোর মতো নেতার স্বপ্ন দেখতে শিখেছি? চাহিদা থাকা ভালো, তলাবিহীন ঝুড়ি নিয়ে আমরা এখন উন্নত বিশ্বের স্বপ্ন দেখি! কিন্তু দূর্নীতি আর নিজ স্বার্থটাকে যদি পরিত্যাগ করা যেতো, চাচা আপন প্রান বাঁচা, এমন সীমাবদ্ধতা যদি না থাকতো, তাহলে সোনার বাংলা তৈরি করতে খুব বেশি বেগ পেতে হতোনা।মানুষের ধর্ম ,অতীত বেশিদিন মনে রাখেনা, দেশের স্বার্থের চাইতে নিজের স্বার্থটা সবার আগে দেখে, কাজে দুর্নীতি, আর মুখে দেশপ্রেম, এমন অরাজকতা থেকে মুক্তি না পেলে ঘুনে ধরা দেশটাকে সুন্দর,সুচারু ভাবে ঢেলে সাজানো বড্ড জটিল আর কঠিন সংগ্রাম ছাড়া কিছুই নয়! হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে কি হবে, যদি সেটা সঠিক ব্যক্তির হাতে ব্যয় না হয়! আসুন, নিজে একা বড় হওয়ার মানসিকতা ত্যাগ করে, সবাইকে নিয়ে একসাথে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখি এবং দেশটাকে একটা গর্বের জায়গায় নিয়ে দাঁড় করাই এবং মাথা উঁচু করে বলি- আমি বাংলাদেশি।