এখন ০৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাকের পার্টির নেতাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা সহ টাকা ছিনতাই

জামাল উদ্দিন স্বপন, নাঙ্গলকোট প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা জাকের পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে চাঁদা না দেওয়ায় কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে পেরিয়া ইউনিয়নের মগুয়া বাজারে তাঁর ওপর হামলা হয়।
চাঁনপদুয়া গ্রামের বদিউল আলম বদরুলের নেতৃত্বে বদরুল বাহিনীর চার-পাঁচজন এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীর পরিবারের।
উত্তর শাকতলী বাজারের নোমান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম (৩৮)। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি লালমাই উপজেলার ধানওড়া গ্রামে।
ভুক্তভোগীর ভাই ইব্রাহীম খলিলসহ স্থানীয়দের অভিযোগ– চাঁনপদুয়া রাস্তার মাথায় বদরুলের মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। এর দ্বিতীয় তলায় বদরুল বাহিনীর সালিশ কেন্দ্র নামে একটি টর্চারসেল রয়েছে।
বদরুলের টর্চারসেলে নির্যাতনের শিকার কয়েকজন বলেন, বদরুল বাহিনীর ভয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েও কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করার সাহস পায় না।
ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বদরুল বিভিন্ন সময় আমার ভাইয়ের অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমার ভাই জাহাঙ্গীর মাটির ব্যবসা করে। কিছু দিন ধরে আমার ভাই যেখানে কাজ নেয়, সেখানেই বদরুল তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বাধা দিয়ে চাঁদা দাবি করে। তিন-চার দিন ধরে বদরুল বাহিনী আমার ভাইয়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে আমার ভাই মগুয়া বাজারে গিয়ে একটা কাজের বায়না করে দেড় লাখ টাকা নেয় এবং আরেকটি কাজের তিন লাখ টাকা তার সঙ্গে ছিল। বাড়ি ফেরার সময় বদরুলসহ তার বাহিনীর চার-পাঁচজন মিলে আমার ভাই জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘বদরুল একজন খরাপ লোক। সে চাঁনপদুয়া মোড়ে মক্তবের জায়গায় একটি হোটেল খুলে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অনৈতিক ব্যবসা করে আসছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল দিলেও বদিউল আলম বদরুলের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। পরে কথা হয় পেরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ হামিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতের হামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে আজকে (শুক্রবার) বিকেলে চাঁনপদুয়া গ্রামের বদিউল আলম বদরুলের বাড়িতে হামলার কথা শুনেছি।’
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

জাকের পার্টির নেতাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা সহ টাকা ছিনতাই

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:২০:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

জামাল উদ্দিন স্বপন, নাঙ্গলকোট প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা জাকের পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে চাঁদা না দেওয়ায় কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে পেরিয়া ইউনিয়নের মগুয়া বাজারে তাঁর ওপর হামলা হয়।
চাঁনপদুয়া গ্রামের বদিউল আলম বদরুলের নেতৃত্বে বদরুল বাহিনীর চার-পাঁচজন এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীর পরিবারের।
উত্তর শাকতলী বাজারের নোমান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম (৩৮)। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি লালমাই উপজেলার ধানওড়া গ্রামে।
ভুক্তভোগীর ভাই ইব্রাহীম খলিলসহ স্থানীয়দের অভিযোগ– চাঁনপদুয়া রাস্তার মাথায় বদরুলের মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। এর দ্বিতীয় তলায় বদরুল বাহিনীর সালিশ কেন্দ্র নামে একটি টর্চারসেল রয়েছে।
বদরুলের টর্চারসেলে নির্যাতনের শিকার কয়েকজন বলেন, বদরুল বাহিনীর ভয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েও কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করার সাহস পায় না।
ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বদরুল বিভিন্ন সময় আমার ভাইয়ের অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমার ভাই জাহাঙ্গীর মাটির ব্যবসা করে। কিছু দিন ধরে আমার ভাই যেখানে কাজ নেয়, সেখানেই বদরুল তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বাধা দিয়ে চাঁদা দাবি করে। তিন-চার দিন ধরে বদরুল বাহিনী আমার ভাইয়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে আমার ভাই মগুয়া বাজারে গিয়ে একটা কাজের বায়না করে দেড় লাখ টাকা নেয় এবং আরেকটি কাজের তিন লাখ টাকা তার সঙ্গে ছিল। বাড়ি ফেরার সময় বদরুলসহ তার বাহিনীর চার-পাঁচজন মিলে আমার ভাই জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘বদরুল একজন খরাপ লোক। সে চাঁনপদুয়া মোড়ে মক্তবের জায়গায় একটি হোটেল খুলে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অনৈতিক ব্যবসা করে আসছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল দিলেও বদিউল আলম বদরুলের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। পরে কথা হয় পেরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ হামিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতের হামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে আজকে (শুক্রবার) বিকেলে চাঁনপদুয়া গ্রামের বদিউল আলম বদরুলের বাড়িতে হামলার কথা শুনেছি।’
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’