এখন ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূরুঙ্গামারীতে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

আনোয়ার হোসেন আরিফ, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি -ঃ- ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশের কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পাকহানাদার মুক্ত হয়। দেশের প্রথম হানাদার মুক্ত উপজেলার নাম ভূরুঙ্গামারী উপজেলা।
তথ্য সুত্রে , ৬ নং সেক্টর কমান্ডার এম কে বাশার, মিত্রবাহিনীর অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জোসিসহ উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সাহেবগঞ্জ সাব সেক্টরে সমবেত হয়ে ভূরুঙ্গামারী আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। এ সময় ভারতীয় ষষ্ঠ মাউন্টেন ডিভিশনের একটি ব্রিগেড এবং বিএসএফের কয়েকটি কোম্পানী ও মুক্তিযোদ্ধারা সামরিক সজ্জায় সজ্জিত হয়ে ভূরুঙ্গামারীর দক্ষিণ দিক খোলা রেখে পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর দিক থেকে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সিন্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা মোতাবেক ১৩ নভেম্বর মধ্য রাতে মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ নেতৃত্বে পাকবাহিনীর ওপর আক্রমন করে। একদিন আগে থেকেই মিত্রবাহিনী কামান ও মর্টারের গোলা নিক্ষেপসহ মিত্রবাহিনী বিমান হামলা শুরু করেছিলেন। ১৩ নভেম্বর সারারাত যুদ্ধ শেষে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর প্রবল আক্রমণে টিকতে না পেরে পাকহানাদার বাহিনী পিছু হটে যায় পরে নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ নদীর তীরে আশ্রয় নেয়। পাকবাহিনী পিছু হটলে ঐদিন ভোরেই মুক্তি বাহিনীরা জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে (সিও) অফিস (বর্তমান উপজেলা পরিষদ) এর সামনে চলে আসেন এবং বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করে। পরে সেখান থেকে আটক করা হয় ৩০/৪০ জন পাক সেনাদের। এবং একটি কক্ষ থেকে ১৬ জন বীরাঙ্গনাকে উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ৫/৬ জন বীরাঙ্গনা গর্ভবতী ছিলেন। প্রতিবছর মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি পালন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করে থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

ভূরুঙ্গামারীতে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ নভেম্বর ২০২২

আনোয়ার হোসেন আরিফ, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি -ঃ- ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশের কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পাকহানাদার মুক্ত হয়। দেশের প্রথম হানাদার মুক্ত উপজেলার নাম ভূরুঙ্গামারী উপজেলা।
তথ্য সুত্রে , ৬ নং সেক্টর কমান্ডার এম কে বাশার, মিত্রবাহিনীর অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জোসিসহ উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সাহেবগঞ্জ সাব সেক্টরে সমবেত হয়ে ভূরুঙ্গামারী আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। এ সময় ভারতীয় ষষ্ঠ মাউন্টেন ডিভিশনের একটি ব্রিগেড এবং বিএসএফের কয়েকটি কোম্পানী ও মুক্তিযোদ্ধারা সামরিক সজ্জায় সজ্জিত হয়ে ভূরুঙ্গামারীর দক্ষিণ দিক খোলা রেখে পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর দিক থেকে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সিন্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা মোতাবেক ১৩ নভেম্বর মধ্য রাতে মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ নেতৃত্বে পাকবাহিনীর ওপর আক্রমন করে। একদিন আগে থেকেই মিত্রবাহিনী কামান ও মর্টারের গোলা নিক্ষেপসহ মিত্রবাহিনী বিমান হামলা শুরু করেছিলেন। ১৩ নভেম্বর সারারাত যুদ্ধ শেষে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর প্রবল আক্রমণে টিকতে না পেরে পাকহানাদার বাহিনী পিছু হটে যায় পরে নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ নদীর তীরে আশ্রয় নেয়। পাকবাহিনী পিছু হটলে ঐদিন ভোরেই মুক্তি বাহিনীরা জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে (সিও) অফিস (বর্তমান উপজেলা পরিষদ) এর সামনে চলে আসেন এবং বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করে। পরে সেখান থেকে আটক করা হয় ৩০/৪০ জন পাক সেনাদের। এবং একটি কক্ষ থেকে ১৬ জন বীরাঙ্গনাকে উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ৫/৬ জন বীরাঙ্গনা গর্ভবতী ছিলেন। প্রতিবছর মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি পালন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করে থাকে।