এখন ০৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তার নামে আদালত চত্বর থেকে গ্রেপ্তার -৩

বিশেষ প্রতিনিধির -ঃ- গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে আদালত চত্ত্বর থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার নাম করে তিনজনকে তুলে নিয়ে ও মাছের সেট থেকে ধরে এনে এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্র ও গুলিসহ মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। গত বৃহষ্পতিবার দুপুর একটার দিকে সাতক্ষীরা বিচারিক আদালত চত্বর ও একই দিন সকাল আটটার দিকে আশাশুনির বদরতলা মাছের সেট থেকে তাদেরকে তুলে আনা হয় বলে অভিযোগ।

অস্ত্র ও গুলি দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো ব্যক্তিরা হলেন, দেবহাটা উপজেলার নোড়ার চারকুনি গ্রামের ওমর আলী গাজীর ছেলে শরিফুল ইসলাম, একই উপজেলার খলিশাখালি গ্রামের আবু বক্কর গাজীর ছেলে কামরুল ইসলাম ও কালিগঞ্জ উপজেলার ভাঙানমারি গ্রামের আনছার সরদারের ছেলে মোর্শেদ ও দেবহাটা উপজেলার নোড়ারচক গ্রামের ইয়াদ আলী মোড়লের ছেলে ইউনুছ আলী মোড়ল।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাড. অজয় কুমার সরকার ও আইনজীবী সহকারি কবীর হোসেন জানান, দেবহাটা উপজেলার নোড়ার চারকুনি গ্রামের শরিফুল ইসলাম, খলিশাখালির কামরুল ইসলাম ও কালিগঞ্জের ভাঙানমারি গ্রামের মোর্শেদসহ ১৩ জন বৃহষ্পতিবার সকালে দেবহাটার পারুলিয়ার আব্দুর রহিমের দায়েরকৃত দ্রুত বিচার আইনের ১৯/২১ নং মামলায় সাতক্ষীরার জ্যেষ্ট বিচারিক হাকিম প্রথম আদালতে হাজিরা দেন। বৃহষ্পতিবার ছিল ওই মামলার রায় এর দিন। আসামী পক্ষের আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারি ছিলেন তারা। বৃহষ্পতিবার দুপুর পৌনে একটার দিকে আদালতের বিচারক রাকিবুল ইসলাম সকল আসামীকে বেকসুর খালাস দেন। এ সময় আদালতের কাঠগোড়ায় মামলার বাদি উপস্থিত ছিলেন। খালাস পাওয়া আসামীরা তিনতলা থেকে নীচে নামা মাত্রই গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তাদেরকে বাদি পক্ষের হামলার হাত থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার নাম করে একটি সাদা রং এর মাইক্রোবাসে তুলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির বেশ কয়েকজন আইনজীবীকে অবহিত করেন।

এদিকে বৃহষ্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সাতক্ষীরা বিচারিক আদালত চত্বরে মোর্শেদ, শরিফুল ও কামরুল জানান, বৃহষ্পতিবার আনুমানিক দুপুর পৌনে একটার দিকে দ্রুত বিচার আইনে খালাস পাওয়া মাত্র নীচের তলায় আসা মাত্রই ফয়জুল নামের এক গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য তাদেরকে ডেকে নিয়ে আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সাদা রং এর মাইক্রোবাসের কাছে নিয়ে যায়। ভূমি দস্যু কাজী গোলাম ওয়ারেশ, ডাঃ নজরুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, সিরাজুলসহ কয়েকজন মেইন রাস্তায় উঠলে তাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পারে এমন কথা জানতে পেরে নিরাপত্তা দেওয়ার নাম করে ওই মাইক্রোবাসে তোলে। ভিতরে নেওয়ার পরপরই তাদের কাছে থাকা তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে আনুমানিক বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে একই মাইক্রোবাসে করে তাদেরকে সখীপুরে নেওয়ার পর পুলিশবাহি পিকআপে করে দেবহাটা থানায় নেওয়া হয়। শুক্রবার বিকেলে তাদেরকে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের (১৯/এ) ধারায় ও দস্যুতা আইনের ৩৯৯/৪০২ ধারায় দুটি(৫ ও৬ নং মামলা) মামলা দেওয়া হয়েছে। খলিষাখালি ভূমিহীন জনপদের বিরোধকে কেন্দ্র করে কথিত ভূমির মালিক গোলাম ওয়ারেশ, ডাঃ নজরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, আব্দুর রহিম ও আহছানিয়া মিশনের ইকবাল মাসুদসহ তাদের সহযোগিরা দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ ওবায়দুল্লাহকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে এ ধরণের মামলা দিয়েছে।

তাদেরকে আদালত চত্ত্বর থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দ্রুত বিচার আইনের মামলায় খালাস পাওয়া তৈমুর হোসেন, মিজানুর রহমান, আসাদুজ্জামান, ফিরোজুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, নুরুজ্জামান, মনিরুল ইসলাম ও শিমুল। এ সময় আদালত চত্বরে ভূমিদস্যু কাজী গোলাম ওয়ারেশ, আব্দুর রহিমসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবলুর রহমান খান বলেন, এ ধরণের ঘটনা তার জানা নেই।

এদিকে আশাশুনি উপজেলার বদরতলা মাছের সেটের ব্যবসায়ি চালতেতলার কুপাত শেখ, খলিশাখালির হাসান, চারকুনির আসমত আলী শরিফুল ইসলাম লাল্টু, ইউনুছ আলীর মাছের সেটের কর্মচারি বাঁশিরামপুরের আবু রায়হানসহ কয়েকজন জানান, নোড়ারচকের ইউনুস আলীর বদরতলা বাজারে মুন্নি ফিস কমিশন নামে একটি মাসের সেট রয়েছে। বৃহষ্পতিবার সকাল আনুমানিক সোয়া আটটার দিকে ইউনুছ মাসের সেটে থাকাকালিন সাদা পোশাকের দুইজন এসে লুঙ্গি ধরে টানতে টানতে রাস্তায় নিয়ে যায়। জানতে চাইলে পুলিশ পরিচয়ে দেবহাটা থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি মোটর সাইকেলে তুলে পশ্চিম দিকে নিয়ে যায়।

বৃহষ্পতিবার বিকেলে সাতক্ষীরা বিচারিক হাকিম আদালত চত্বরে মাছ ব্যবসায়ি ইউনুস আলী এ প্রতিবেদককে জানান, বৃহষ্পতিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে তাকে তার বদরতলার মাসের সেট থেকে জোর করে তুলে এনে দক্ষিণ পারুলিয়ার জেলেপাড়ার ইনজামামুল হকের অয়ন ব্রিকস এর সামনে থেকে একটি ওয়ান শুটার গান ও দুটি গুলিসহ ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের (১৯/এ) ধারায় মিথ্যা মামলা(৪নং) দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ সময় তার বাবা ইয়াদ আলী ও ভাই আইয়ুব আলী বলেন, খলিষাখালি ভূমিহীনজনপদের জমির মালিকানা দাবিদার কাজী গোলাম ওয়ারেশ ও তার সহযোগিরা পুলিশকে দিয়ে এ মিথ্যা মামলা করিয়েছে।

এ ব্যাপারে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ ওবায়দুল্লাহ, তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও দস্যুতা আইনের পৃথক দু’টি মামলার বাদি উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান ও ইউনুস আলীর বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার বাদি উপপরিদর্শক শোভন দাস বৃহষ্পতিবার বিকেলে পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় উল্লেখিত ঘটনাস্থল থেকে তাদেরকে যেভাবে ধরা হয়েছে সেভাবেই মামলা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

খুলনা রেঞ্জের উপমহা পুলিশ পরিদর্শক ড. খন্দকার মোঃ মহিউদ্দিন শুক্রবার বিকেল পৌনে ৫টায় এ প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। এ সংক্রান্ত সকল তথ্য তার হোয়াটসএ্যাপ এ দিতে বলেন। তদন্ত করে প্রয়োজীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

নিরাপত্তার নামে আদালত চত্বর থেকে গ্রেপ্তার -৩

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ নভেম্বর ২০২২

বিশেষ প্রতিনিধির -ঃ- গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে আদালত চত্ত্বর থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার নাম করে তিনজনকে তুলে নিয়ে ও মাছের সেট থেকে ধরে এনে এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্র ও গুলিসহ মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। গত বৃহষ্পতিবার দুপুর একটার দিকে সাতক্ষীরা বিচারিক আদালত চত্বর ও একই দিন সকাল আটটার দিকে আশাশুনির বদরতলা মাছের সেট থেকে তাদেরকে তুলে আনা হয় বলে অভিযোগ।

অস্ত্র ও গুলি দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো ব্যক্তিরা হলেন, দেবহাটা উপজেলার নোড়ার চারকুনি গ্রামের ওমর আলী গাজীর ছেলে শরিফুল ইসলাম, একই উপজেলার খলিশাখালি গ্রামের আবু বক্কর গাজীর ছেলে কামরুল ইসলাম ও কালিগঞ্জ উপজেলার ভাঙানমারি গ্রামের আনছার সরদারের ছেলে মোর্শেদ ও দেবহাটা উপজেলার নোড়ারচক গ্রামের ইয়াদ আলী মোড়লের ছেলে ইউনুছ আলী মোড়ল।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাড. অজয় কুমার সরকার ও আইনজীবী সহকারি কবীর হোসেন জানান, দেবহাটা উপজেলার নোড়ার চারকুনি গ্রামের শরিফুল ইসলাম, খলিশাখালির কামরুল ইসলাম ও কালিগঞ্জের ভাঙানমারি গ্রামের মোর্শেদসহ ১৩ জন বৃহষ্পতিবার সকালে দেবহাটার পারুলিয়ার আব্দুর রহিমের দায়েরকৃত দ্রুত বিচার আইনের ১৯/২১ নং মামলায় সাতক্ষীরার জ্যেষ্ট বিচারিক হাকিম প্রথম আদালতে হাজিরা দেন। বৃহষ্পতিবার ছিল ওই মামলার রায় এর দিন। আসামী পক্ষের আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারি ছিলেন তারা। বৃহষ্পতিবার দুপুর পৌনে একটার দিকে আদালতের বিচারক রাকিবুল ইসলাম সকল আসামীকে বেকসুর খালাস দেন। এ সময় আদালতের কাঠগোড়ায় মামলার বাদি উপস্থিত ছিলেন। খালাস পাওয়া আসামীরা তিনতলা থেকে নীচে নামা মাত্রই গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তাদেরকে বাদি পক্ষের হামলার হাত থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার নাম করে একটি সাদা রং এর মাইক্রোবাসে তুলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির বেশ কয়েকজন আইনজীবীকে অবহিত করেন।

এদিকে বৃহষ্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সাতক্ষীরা বিচারিক আদালত চত্বরে মোর্শেদ, শরিফুল ও কামরুল জানান, বৃহষ্পতিবার আনুমানিক দুপুর পৌনে একটার দিকে দ্রুত বিচার আইনে খালাস পাওয়া মাত্র নীচের তলায় আসা মাত্রই ফয়জুল নামের এক গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য তাদেরকে ডেকে নিয়ে আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সাদা রং এর মাইক্রোবাসের কাছে নিয়ে যায়। ভূমি দস্যু কাজী গোলাম ওয়ারেশ, ডাঃ নজরুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, সিরাজুলসহ কয়েকজন মেইন রাস্তায় উঠলে তাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পারে এমন কথা জানতে পেরে নিরাপত্তা দেওয়ার নাম করে ওই মাইক্রোবাসে তোলে। ভিতরে নেওয়ার পরপরই তাদের কাছে থাকা তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে আনুমানিক বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে একই মাইক্রোবাসে করে তাদেরকে সখীপুরে নেওয়ার পর পুলিশবাহি পিকআপে করে দেবহাটা থানায় নেওয়া হয়। শুক্রবার বিকেলে তাদেরকে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের (১৯/এ) ধারায় ও দস্যুতা আইনের ৩৯৯/৪০২ ধারায় দুটি(৫ ও৬ নং মামলা) মামলা দেওয়া হয়েছে। খলিষাখালি ভূমিহীন জনপদের বিরোধকে কেন্দ্র করে কথিত ভূমির মালিক গোলাম ওয়ারেশ, ডাঃ নজরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, আব্দুর রহিম ও আহছানিয়া মিশনের ইকবাল মাসুদসহ তাদের সহযোগিরা দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ ওবায়দুল্লাহকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে এ ধরণের মামলা দিয়েছে।

তাদেরকে আদালত চত্ত্বর থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দ্রুত বিচার আইনের মামলায় খালাস পাওয়া তৈমুর হোসেন, মিজানুর রহমান, আসাদুজ্জামান, ফিরোজুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, নুরুজ্জামান, মনিরুল ইসলাম ও শিমুল। এ সময় আদালত চত্বরে ভূমিদস্যু কাজী গোলাম ওয়ারেশ, আব্দুর রহিমসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবলুর রহমান খান বলেন, এ ধরণের ঘটনা তার জানা নেই।

এদিকে আশাশুনি উপজেলার বদরতলা মাছের সেটের ব্যবসায়ি চালতেতলার কুপাত শেখ, খলিশাখালির হাসান, চারকুনির আসমত আলী শরিফুল ইসলাম লাল্টু, ইউনুছ আলীর মাছের সেটের কর্মচারি বাঁশিরামপুরের আবু রায়হানসহ কয়েকজন জানান, নোড়ারচকের ইউনুস আলীর বদরতলা বাজারে মুন্নি ফিস কমিশন নামে একটি মাসের সেট রয়েছে। বৃহষ্পতিবার সকাল আনুমানিক সোয়া আটটার দিকে ইউনুছ মাসের সেটে থাকাকালিন সাদা পোশাকের দুইজন এসে লুঙ্গি ধরে টানতে টানতে রাস্তায় নিয়ে যায়। জানতে চাইলে পুলিশ পরিচয়ে দেবহাটা থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি মোটর সাইকেলে তুলে পশ্চিম দিকে নিয়ে যায়।

বৃহষ্পতিবার বিকেলে সাতক্ষীরা বিচারিক হাকিম আদালত চত্বরে মাছ ব্যবসায়ি ইউনুস আলী এ প্রতিবেদককে জানান, বৃহষ্পতিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে তাকে তার বদরতলার মাসের সেট থেকে জোর করে তুলে এনে দক্ষিণ পারুলিয়ার জেলেপাড়ার ইনজামামুল হকের অয়ন ব্রিকস এর সামনে থেকে একটি ওয়ান শুটার গান ও দুটি গুলিসহ ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের (১৯/এ) ধারায় মিথ্যা মামলা(৪নং) দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ সময় তার বাবা ইয়াদ আলী ও ভাই আইয়ুব আলী বলেন, খলিষাখালি ভূমিহীনজনপদের জমির মালিকানা দাবিদার কাজী গোলাম ওয়ারেশ ও তার সহযোগিরা পুলিশকে দিয়ে এ মিথ্যা মামলা করিয়েছে।

এ ব্যাপারে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ ওবায়দুল্লাহ, তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও দস্যুতা আইনের পৃথক দু’টি মামলার বাদি উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান ও ইউনুস আলীর বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার বাদি উপপরিদর্শক শোভন দাস বৃহষ্পতিবার বিকেলে পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় উল্লেখিত ঘটনাস্থল থেকে তাদেরকে যেভাবে ধরা হয়েছে সেভাবেই মামলা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

খুলনা রেঞ্জের উপমহা পুলিশ পরিদর্শক ড. খন্দকার মোঃ মহিউদ্দিন শুক্রবার বিকেল পৌনে ৫টায় এ প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। এ সংক্রান্ত সকল তথ্য তার হোয়াটসএ্যাপ এ দিতে বলেন। তদন্ত করে প্রয়োজীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।