এখন ০৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে বিভাগীয় গনসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর

মোঃ জহিরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার -ঃ- অন্যান্য বিভাগীয় শহরের সমাবেশের মতো বরিশালের সমাবেশেও মঞ্চে দুইটি চেয়ার খালি রেখে শুরু হয়েছে বিএনপির বিভাগীয় গনসমাবেশ। বেলা ১১টায় সমাবেশ শুরু হয়েছে। প্রথমে কোরআন থেকে তেলওয়াত করা হয়। পরে দোয়া মোনাজাত করা হয়। দোয়া মোনাজাতে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। তার সাথে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ প্রয়াত এবং বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নিহত নেতা-কর্মীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন শেষে জেলা-উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের বক্তব্য দেওয়া শুরু হয়েছে। সভামঞ্চের মাঝের দুইটি চেয়ার বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য খালি রাখা হয়েছে।

আগের ৪টি বিভাগীয় গণসমাবেশের মতো বরিশালের সমাবেশ ঘিরেও মহানগর এবং আশপাশের জেলা উপজেলায় থেকে। বরিশাল বিভাগের প্রতিটি জেলা উপজেলা থেকে হাতে ব্যানার এবং দলীয় পতাকা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিয়ে মাঠের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলেন। উদ্যানে সমাবেশের জন্য প্রতিটি জেলা উপজেলায় নাম করন করে বুথ করা হয়েছে। বিভাগীয় গনসমাবেশ মুল অনুষ্ঠান শুরু হলো দুপুর ২ টার দিকে এবং প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর।

মির্জা ফখরুল আলমগীর বলেন, প্রথমে সবাইকে অভিনন্দন জানাই এতো কষ্ট ও বাঁধা অতিক্রম করে আসার জন্য। একটি মাত্র দাবির জন্য আপনাদের বহু অধিকার পাওয়ার জন্য। আমরা গনতন্ত্র বিশ্বাসী। আজকে ১৪ বছর ধরে জোরদার হয়ে নির্যাতন চালিয়েছে তা সাক্ষী আপনারা নিজেরাই। আপনাদের অসংখ্য মামলা আছে। আপনাদের হামলা হয়েছে। হামলা এবং মামলা এটা তাদের বড় অর্ছরো। আবার যাদের উপর হামলা করে তাদের উপরেই আবার মামলা করে। আমরা পরিষ্কার করে বলেছিয়েছি শেখ হাসিনার অধিনে কোন নির্বচন হবে না। এই সরকার থাকা অবস্থায় কোন নির্বাচন হবে না। ক্ষমতা ছেড়ে তর্তাবদক সরকার দিতে হতে হবে এবং নিরপক্ষ সরকার দিতে হবে। বন্ধুরা আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হই কোন বিবাদ নয়, কোন ঝগড়া ঝাটি নয় জাতির প্রয়োজনে দেশের প্রয়োজনে আমরা সবাই এক হই। এই আন্দোলন বিএনপির বলেন, খালেদা বলেন, কারো নয় এই আন্দোলন সবার জন্য।

যদিও সমাবেশ শনিবার (৫ নবেম্বর) ২০২২ ইং তারিখে হলেও যানবাহন সহ জলে-স্থলে সব রকম পরিবহন ধর্মঘটের কারণে কার্যত বিচ্ছিন্ন শহরে বিএনপির আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা ও সমর্থকরা ২ দিন আগেই বরিশাল এসে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে ভোর হতে না হতেই উদ্যানে ঝাঁকে ঝাঁকে নেতাকর্মীরা ও সমর্থদের উপস্থিত দেখা গেলো। উদ্যানে হাজারও মানুষ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে আসলো। এই নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কয়েক হাজার হবে বলে স্থানীয় নেতাদের সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, বরিশাল বিএনপি’র বিভাগীয় গণসমাবেশের দিকে সবার আগ্রহ। উদ্যানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছিলো এবং নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠান পরিবেশনও করেছিলো। একাধিক নেতাকর্মীরা মাঠে শুয়ে-বসে থাকতে এবং রান্না সহ রাতে তাম্বু টানিয়ে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। মাঠে অবস্থান নেয়া নেতাকর্মীদের সার্বিক খোঁজ খবর রাখছেন শীর্ষনেতারা।
সড়ক ও নৌ পথ বন্ধ থাকায় সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন বরিশাল। সমাবেশে প্রবেশ করার জন্য তাই তারা নদী পথ বেছে নিয়েছে। বরিশালে বিএনপির বেশির ভাগ নেতাকর্মী এসেছেন নৌ পথে। গতকাল কয়েক শত ট্রলার, বালুবাহী জাহাজ ও স্পিডবোটে নেতাকর্মীরা শহরে প্রবেশ করেন। বরিশাল আসার পথে পথে বাধা ও হামলার অভিযোগ জানান অংশগ্রহণকারীরা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সরকারের জুলুমের হাত থেকে রক্ষা আর খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সব ধরনের ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত তারা।

এদিকে বরিশাল কাল থেকেই চলছে ৪৮ ঘন্টার পরিবহন ও লঞ্চ ধর্মঘট। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যান চলাচল। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ব্যবহার করছেন রিক্সা, অটোরিক্সা। এগুলো না মিললে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে যাচ্ছেন অনেকেই। তবে রিকশা ও ভ্যানের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এ ধর্মঘটের কারণে পুরো বিভাগের সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

বরিশালে বিভাগীয় গনসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ নভেম্বর ২০২২

মোঃ জহিরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার -ঃ- অন্যান্য বিভাগীয় শহরের সমাবেশের মতো বরিশালের সমাবেশেও মঞ্চে দুইটি চেয়ার খালি রেখে শুরু হয়েছে বিএনপির বিভাগীয় গনসমাবেশ। বেলা ১১টায় সমাবেশ শুরু হয়েছে। প্রথমে কোরআন থেকে তেলওয়াত করা হয়। পরে দোয়া মোনাজাত করা হয়। দোয়া মোনাজাতে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। তার সাথে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ প্রয়াত এবং বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নিহত নেতা-কর্মীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন শেষে জেলা-উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের বক্তব্য দেওয়া শুরু হয়েছে। সভামঞ্চের মাঝের দুইটি চেয়ার বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য খালি রাখা হয়েছে।

আগের ৪টি বিভাগীয় গণসমাবেশের মতো বরিশালের সমাবেশ ঘিরেও মহানগর এবং আশপাশের জেলা উপজেলায় থেকে। বরিশাল বিভাগের প্রতিটি জেলা উপজেলা থেকে হাতে ব্যানার এবং দলীয় পতাকা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিয়ে মাঠের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলেন। উদ্যানে সমাবেশের জন্য প্রতিটি জেলা উপজেলায় নাম করন করে বুথ করা হয়েছে। বিভাগীয় গনসমাবেশ মুল অনুষ্ঠান শুরু হলো দুপুর ২ টার দিকে এবং প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর।

মির্জা ফখরুল আলমগীর বলেন, প্রথমে সবাইকে অভিনন্দন জানাই এতো কষ্ট ও বাঁধা অতিক্রম করে আসার জন্য। একটি মাত্র দাবির জন্য আপনাদের বহু অধিকার পাওয়ার জন্য। আমরা গনতন্ত্র বিশ্বাসী। আজকে ১৪ বছর ধরে জোরদার হয়ে নির্যাতন চালিয়েছে তা সাক্ষী আপনারা নিজেরাই। আপনাদের অসংখ্য মামলা আছে। আপনাদের হামলা হয়েছে। হামলা এবং মামলা এটা তাদের বড় অর্ছরো। আবার যাদের উপর হামলা করে তাদের উপরেই আবার মামলা করে। আমরা পরিষ্কার করে বলেছিয়েছি শেখ হাসিনার অধিনে কোন নির্বচন হবে না। এই সরকার থাকা অবস্থায় কোন নির্বাচন হবে না। ক্ষমতা ছেড়ে তর্তাবদক সরকার দিতে হতে হবে এবং নিরপক্ষ সরকার দিতে হবে। বন্ধুরা আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হই কোন বিবাদ নয়, কোন ঝগড়া ঝাটি নয় জাতির প্রয়োজনে দেশের প্রয়োজনে আমরা সবাই এক হই। এই আন্দোলন বিএনপির বলেন, খালেদা বলেন, কারো নয় এই আন্দোলন সবার জন্য।

যদিও সমাবেশ শনিবার (৫ নবেম্বর) ২০২২ ইং তারিখে হলেও যানবাহন সহ জলে-স্থলে সব রকম পরিবহন ধর্মঘটের কারণে কার্যত বিচ্ছিন্ন শহরে বিএনপির আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা ও সমর্থকরা ২ দিন আগেই বরিশাল এসে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে ভোর হতে না হতেই উদ্যানে ঝাঁকে ঝাঁকে নেতাকর্মীরা ও সমর্থদের উপস্থিত দেখা গেলো। উদ্যানে হাজারও মানুষ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে আসলো। এই নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কয়েক হাজার হবে বলে স্থানীয় নেতাদের সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, বরিশাল বিএনপি’র বিভাগীয় গণসমাবেশের দিকে সবার আগ্রহ। উদ্যানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছিলো এবং নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠান পরিবেশনও করেছিলো। একাধিক নেতাকর্মীরা মাঠে শুয়ে-বসে থাকতে এবং রান্না সহ রাতে তাম্বু টানিয়ে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। মাঠে অবস্থান নেয়া নেতাকর্মীদের সার্বিক খোঁজ খবর রাখছেন শীর্ষনেতারা।
সড়ক ও নৌ পথ বন্ধ থাকায় সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন বরিশাল। সমাবেশে প্রবেশ করার জন্য তাই তারা নদী পথ বেছে নিয়েছে। বরিশালে বিএনপির বেশির ভাগ নেতাকর্মী এসেছেন নৌ পথে। গতকাল কয়েক শত ট্রলার, বালুবাহী জাহাজ ও স্পিডবোটে নেতাকর্মীরা শহরে প্রবেশ করেন। বরিশাল আসার পথে পথে বাধা ও হামলার অভিযোগ জানান অংশগ্রহণকারীরা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সরকারের জুলুমের হাত থেকে রক্ষা আর খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সব ধরনের ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত তারা।

এদিকে বরিশাল কাল থেকেই চলছে ৪৮ ঘন্টার পরিবহন ও লঞ্চ ধর্মঘট। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যান চলাচল। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ব্যবহার করছেন রিক্সা, অটোরিক্সা। এগুলো না মিললে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে যাচ্ছেন অনেকেই। তবে রিকশা ও ভ্যানের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এ ধর্মঘটের কারণে পুরো বিভাগের সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।