এখন ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসি অফিসে হাতাহাতির ভিডিও ধারণ, মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেতে হল ৫ সাংবাদিককে

বিশেষ সংবাদদাতা -ঃ- জেলা প্রশাসকের দপ্তরে হাতাহাতির দৃশ্য ভিডিও করে লাঞ্ছিত হয়েছেন ঝিনাইদহের পাঁচ সংবাদকর্মী। ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের একটি কক্ষে আটকে রেখে তাদের মোবাইলে থাকা ওই হাতাহাতির ভিডিওসহ তাদের প্রয়োজনীয় অনেক ভিডিও ডিলিট করে দিয়ে মুচলেকা নিয়ে তারপর ছাড়া হয়।
গত সোমবার (৩১ অক্টোবর) ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের দপ্তরের তৃতীয় তলায় ঘটনাটি ঘটেছে। লাঞ্ছনার শিকার সংবাদকমীরা বুধবার (২ নভেম্বর) বিভাগীয় কমিশনারের কাছে এ ঘটনার বিচার চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী একটি অভিযোগ করে। সোমবার সিনিয়র সহকারী কমিশনার (আরডিসি) আনিচুল ইসলামের দপ্তরে ওই অভিযোগের তদন্ত চলছিল।
অভিযোগকারীরা এবং চেয়ারম্যানের সমর্থকরা সেখানে ভিড় করেন।

নিচে এসময় নবগঙ্গা রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন চলছিল। সংবাদকমীরা সেখানে তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত ছিলেন।
হঠাৎ তৃতীয় তলায় তদন্তস্থলে চিৎকার শুনে ছুটে যান সংবাদকর্মী আলী হাসান, বাহারুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, সম্রাট হোসেন ও আশরাফুল ইসলাম। তারা সেখানে দুইপক্ষের ধাক্কাধাক্কি দেখে মোবাইলে ভিডিও করেন।
তাদের ভিডিও করতে দেখে ক্ষেপে যান সেখানে উপস্থিত সিনিয়র সহকারী কমিশনার পার্থ প্রতিম শীল। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ছুটে এসে তাদের হাত থেকে মোবাইলগুলো ছিনিয়ে নেন। এরপর সেখানে আসেন জেলা প্রশাসকের দপ্তরে কর্মরত প্রশাসনের কর্মকর্তা সালমা সেলিম, রাজীবুল ইসলাম খাঁন ও মো. শরিফুল হক।
তারা একে একে মোবাইলফোনে থাকা সব ভিডিও ডিলিট করে দেন। এরপর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সেলিম রেজার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাদের নানা প্রশ্ন করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেন। একপর্যায়ে ওই ঘটনার কোনো সংবাদ লিখবেন না মর্মে তাদের নিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী আলী হাসান জানান, এ ঘটনার পর থেকে তিনি মানসিক কষ্টে আছেন। কাউকে কিছু বলতে পারছেন না।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা লিখে নিয়েছেন, এ বিষয়ে কিছু করতে পারবেন না। তারপরও বিষয়টি ভুলে থাকতে পারছেন না। সংবাদকর্মীদের ওপর এই নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো ঘটনা নয়।
ভুক্তভোগী আরেক সংবাদকর্মী বাহারুল ইসলাম বলেন, পার্থ প্রতিম শীল আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা ভোলার মতো না। ভাবটা এমন ছিল যেন কোনো চোর ধরে আটকে ফেলেছেন।
এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার পার্থ প্রতিম শীলের সঙ্গে কথা বললে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না বলে জানান। তিনি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। আর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা সেলিম বলেন, সেখানে কোনো মারামারি হয়নি, হাতাহাতি হয়েছে। সেখানে এসে ভিডিও করা ঠিক হয়নি। তবে তিনি মোবাইলফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে দিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছাড়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

ডিসি অফিসে হাতাহাতির ভিডিও ধারণ, মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেতে হল ৫ সাংবাদিককে

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৫৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর ২০২২

বিশেষ সংবাদদাতা -ঃ- জেলা প্রশাসকের দপ্তরে হাতাহাতির দৃশ্য ভিডিও করে লাঞ্ছিত হয়েছেন ঝিনাইদহের পাঁচ সংবাদকর্মী। ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের একটি কক্ষে আটকে রেখে তাদের মোবাইলে থাকা ওই হাতাহাতির ভিডিওসহ তাদের প্রয়োজনীয় অনেক ভিডিও ডিলিট করে দিয়ে মুচলেকা নিয়ে তারপর ছাড়া হয়।
গত সোমবার (৩১ অক্টোবর) ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের দপ্তরের তৃতীয় তলায় ঘটনাটি ঘটেছে। লাঞ্ছনার শিকার সংবাদকমীরা বুধবার (২ নভেম্বর) বিভাগীয় কমিশনারের কাছে এ ঘটনার বিচার চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী একটি অভিযোগ করে। সোমবার সিনিয়র সহকারী কমিশনার (আরডিসি) আনিচুল ইসলামের দপ্তরে ওই অভিযোগের তদন্ত চলছিল।
অভিযোগকারীরা এবং চেয়ারম্যানের সমর্থকরা সেখানে ভিড় করেন।

নিচে এসময় নবগঙ্গা রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন চলছিল। সংবাদকমীরা সেখানে তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত ছিলেন।
হঠাৎ তৃতীয় তলায় তদন্তস্থলে চিৎকার শুনে ছুটে যান সংবাদকর্মী আলী হাসান, বাহারুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, সম্রাট হোসেন ও আশরাফুল ইসলাম। তারা সেখানে দুইপক্ষের ধাক্কাধাক্কি দেখে মোবাইলে ভিডিও করেন।
তাদের ভিডিও করতে দেখে ক্ষেপে যান সেখানে উপস্থিত সিনিয়র সহকারী কমিশনার পার্থ প্রতিম শীল। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ছুটে এসে তাদের হাত থেকে মোবাইলগুলো ছিনিয়ে নেন। এরপর সেখানে আসেন জেলা প্রশাসকের দপ্তরে কর্মরত প্রশাসনের কর্মকর্তা সালমা সেলিম, রাজীবুল ইসলাম খাঁন ও মো. শরিফুল হক।
তারা একে একে মোবাইলফোনে থাকা সব ভিডিও ডিলিট করে দেন। এরপর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সেলিম রেজার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাদের নানা প্রশ্ন করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেন। একপর্যায়ে ওই ঘটনার কোনো সংবাদ লিখবেন না মর্মে তাদের নিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী আলী হাসান জানান, এ ঘটনার পর থেকে তিনি মানসিক কষ্টে আছেন। কাউকে কিছু বলতে পারছেন না।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা লিখে নিয়েছেন, এ বিষয়ে কিছু করতে পারবেন না। তারপরও বিষয়টি ভুলে থাকতে পারছেন না। সংবাদকর্মীদের ওপর এই নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো ঘটনা নয়।
ভুক্তভোগী আরেক সংবাদকর্মী বাহারুল ইসলাম বলেন, পার্থ প্রতিম শীল আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা ভোলার মতো না। ভাবটা এমন ছিল যেন কোনো চোর ধরে আটকে ফেলেছেন।
এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার পার্থ প্রতিম শীলের সঙ্গে কথা বললে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না বলে জানান। তিনি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। আর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা সেলিম বলেন, সেখানে কোনো মারামারি হয়নি, হাতাহাতি হয়েছে। সেখানে এসে ভিডিও করা ঠিক হয়নি। তবে তিনি মোবাইলফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে দিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছাড়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।