রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর জেলা প্রতিনিধি -ঃ রংপুর মেডিকেল কলেজ(রমেক) হাসপাতালের অক্সিজেন সিলিন্ডার ঘটনার রহস্য উদঘাটন। জড়িত ২ প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রেসব্রিফিং করেছে রংপুর মেট্রোপুলিশের ক্রাইম বিভাগ।
অক্সিজেন সিলিন্ডার ঘটনায় পুলিশ রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতার শেষে রংপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের কাছে প্রেসব্রিফিং করে গতকাল ২৭জুলাই দুপুরে। এসময় মেট্রোপুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (অপরাধ বিভাগ) আবু মারুফ জানান, গত ২৩জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানা এলাকা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার ট্রাকে করে নেয়ার ব্যাপারে পুলিশ অতি তৎপরতার সাথে কাজ করে। রমেকের কর্তৃপক্ষ কোতয়ালী থানাকে অবহিতর পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে। সেখানে ৩ জন ট্রাক চালককে তাদের অপর৩ সহযোগীকে আটক করে। এসময় সিলিন্ডার নিতে আসা ৩টি ট্রাকও জব্দ করে। পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোতয়ালী থানায় নিয়মিত মামলা দিলে পুলিশ নথিভুক্ত করে পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়।
উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই(নিরস্ত্র) মোঃ শাহ্ আলম’সহ কোতয়ালী থানার একটি চৌকষ তদন্ত টিম ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সার্বিক দিক নির্দেশনায় তদন্ত টিম ৭২ ঘন্টার মধ্যে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও জড়িত ২ জনকে গ্রেফতার করে আনে। আসামীরা পাবনা জেলার শ্রীপুর পারচিথুলিয়া গ্রামের মোঃ শাহিদ মেকারের ছেলে সোহেল ফকির (৪২),ও ভাউডাঙ্গা গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিন মন্ডলের ছেলে মোঃ নাছিম হোসেন (২৯)।
গ্রেফতারকৃতরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজসে অভিনব কৌশলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন গাড়ির চালকের নিকট থেকে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তারা প্রতারণার উদ্দেশ্যে দিনাজপুরস্থ ট্রাক ট্যাংকলরী কাভার্ডভ্যান ও ট্যাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের মনজুরুল আলমকে গত ২৩জুলাই সকাল ১১টায় মোবাইল ফোনে মাধ্যমে আসামী সোহেল ফকির নিজেকে ডাঃ রেজাউল করিম বলে পরিচয় দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হতে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীর জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করার কথা বলে ভাড়া নেয়। ট্রাক প্রতি ৪০ হাজার টাকা করে ৩ টি ট্রাক ভাড়া করে। অতঃপর ট্রাক চালকেরা শ্রমিক ইউনিয়ন হতে ট্রাক ভাড়া চালান নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজে এসে কথিত ডাঃ রেজাউল করিমকে ফোন করে। ঐ সময় প্রতারক সোহেল ফকির রংপুর মেডিকেলে আছে এবং তাদের কাছে আসছে/আসছি বলে সময় ক্ষেপন করতে থাকে। একপর্যায়ে প্রতারক সোহেল ফকির বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল ফ্রি করে দেয়ার কথা বলে ৩টি ট্রাকের পাড়াপাড়ের বিপরিতে চালকদের থেকে ৩হাজার টাকা নেয়। বিকাশে টাকা পাওয়া মাত্র বর্ণিত প্রতারক তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়।
আসামীদ্বয় ইউটিউব, ফেসবুক কিংবা বিভিন্ন গাড়ির পিছনে থাকা মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে ট্রাক ভাড়া প্রদানকারী দালালের সাথে কথা বলে প্রতারণার ক্ষেত্র তৈরী করে এবং ৩-৫ হাজার টাকা নিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী টার্গেট নির্ধারণ করে তাদের প্রতারণা করা অব্যাহত রাখে। এই প্রতারক চক্র গত ২/৩ বছর যাবত সারা দেশে একই কায়দায় অসংখ্য প্রতারনা করেছে। টাকার পরিমান কম হওয়ায় অনেকেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে এড়িয়ে যায় বলেই এই প্রতারকরা এটি সহজে করে পার পায়। ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী পুলিশ কমিশনার(তাজহাট-কোতয়ালী) আলতাব হোসেন, এসি ক্রাইম ফারুক, এসি উজ্জল, ওসি কোতয়ালী আব্দুর রশিদ, ওসি তদন্ত রাজিফুজ্জামান বসুনিয়া রাজিব, তদন্তকারী এসআই শাহ আলম প্রমূখ।
।













