মাহবুব আলম রানা, নওগাঁ -ঃ নওগাঁ শহরের চকদেব সরিষা হাটির মোড়ে গত- ০৯/১০/২০২২ইং তারিখে আনুমানিক দুপুর ১২.০০ টায় প্রকাশ্য দিবালোকে দীন মঞ্জিলে ঘটে এক লঙ্কাকান্ড |
ঐ দিন দীন মঞ্জিল থেকে চুরি হয়ে যায় মূল্যবান এ্যান্ট্রিক সামগ্রী৷
চুরি হয়ে যায় দৈনন্দিন ব্যাবহার্য বিলাসবহুল সোফা, খাট, এসি, ফ্রিজ, গহনা সহ অনেক সামগ্রী৷
যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক প্রায় অর্ধ কোটি টাকা৷
এই সব বর্ণনা করেন দীন মন্জিলের তত্বাবধারক , বকুল বালিকা সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মিস ঝিনুক ৷
তিনি বলেন, ঐ দিন ছিল রবিবার ও গভঃ হলিডে |
একদল লোক হঠাৎ করেই দীন মঞ্জিলে প্রবেশ করে ৷ ভয়ভীতি দেখিয়ে দীন মন্জিলের উত্তরাধীকারী কর্তৃক নিয়োগকৃত ব্যক্তিদের ও আমাকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করে৷ উক্ত নিয়োগকৃত ব্যক্তি প্রায় দুই যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে দীন মঞ্জিলের দেখভাল করে আসছিল ৷
তখন আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করি এবং আইনের আশ্রয় গ্রহণের চেষ্টা চালায়৷
নওগাঁ সদর থানা থেকে বলা হয় যেহেতু জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ তাই আদালতের সরনাপন্ন হওয়ায় শ্রেয় ৷ এরপর দীন মঞ্জিলে প্রবেশের চেষ্টা চালায় আমরা৷ তবে যাহারা কথিত দ্বীন মঞ্জিল ক্রয় করেছে তাদের লোকবল দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হই ৷
দিনটি ছিল সরকারী ছটির দিন, অফিস আদালত বন্ধ ছিল ৷
তাই পরদিন অর্থাৎ ১০/১০/২০২২ রোজ সোমবার আমি উকিলের মাধ্যমে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দারস্থ হই ৷
অতঃপর ১১/১০/২০২২ইং তারিখ হইতে অত্র আদালত থেকে আমাদের পক্ষে ১৪৪ ধারা জারি করেন ৷
কিন্তু কথিত দীন মঞ্জিলের ক্রেতা নিষেধাঙ্গা অমান্য করে অদ্যবধি বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ৷
আমি নিরুপায় হয়ে দীন মঞ্জিলের উত্তরাধীকারী অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী, তনু ম্যাডামের সাথে যোগাযোগ করি ৷
তিনি খবর পেয়েই তার প্রয়াত পিতা এম এ রকিবের (ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং নওগাঁ পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান ) এর সৃতি বিজরিত আবাসস্থল বসত ভিটা রক্ষার উদ্দেশ্য দেশে ফেরেন ৷
তনু আপার সাথে আলাপকালে তিনি অদ্য ১৭/১০/২০২২ইং তারিখে বলেন, আমরা মোট পাঁচ ভাইবোন ৷
আমার প্রয়াত পিতা জনাব এম এ রকিব খুবই শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ছিলেন ৷ ২০১৬ সালে আমার বাবা খুবই অসুস্থ ছিলেন ৷ ঐ সুযোগে আমার দুই ভাইবোন যোগসাজাশে অর্থের বিনিময়ে অন্য একজনের নামে দলিল করে পুরো সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টা চালায়৷
এর পর আমার বাবা ধীরে ধীরে সুস্থ্য হয়ে ঘটনাটি জানতে পারেন ৷
অতঃপর ২০১৯ সালে আমার বাবা নিজেই বাদী হয়ে উক্ত দলিল রদের জন্য আদালতে মামলা করেন ৷
এর পর তিনি আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ৷ তখন পুরো বিশ্ব করোনা মহামারিতে আক্রান্ত ৷
আমি আমার পিতাকে দেখার জন্য বিদেশ থেকে দেশে আসার চেষ্টায় থাকি ৷
কিন্তু আমার দেশে অবস্থানরত দুই ভাই বোন, তাদের পিতা দলিল রদের মামলা করায় ক্ষোভে মূমুর্ষু পিতাকে একবারও দেখতে বা পাশে আসেনি ৷
অতঃপর ২০ শে জুন ২০২০ তারিখে আমার পিতা মৃত্যু বরন করেন ৷ তখন বিভিন্ন দেশে চলছিল লক ডাউন ৷যার দরুন আমার মরহুম পিতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিল না ৷
আমার দেশে অবস্থানরত দুই ভাই বোন পিতার দাফন কার্যে ও আসেননি ৷
এর পর করোনা সংক্রমন কমে আসলে ২০২২ সালে দেশে ফিরে আসি ৷
এবং আমার বাবা মায়ের সৃতি বিজরিত ও নওগাঁবাসীর কথিত সংস্কৃতি ও শিক্ষা কেন্দ্র দীন মঞ্জিল এর মামলার ধারা অব্যাহত রাখি।
তনু আপা এক সময় আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন ৷
বলেন ,আমার বাবা মরহুম এম, এ , রকীব ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখায় গ্রেফতার হয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে একই কক্ষে কারাগারে ছিলেন ৷
তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন ৷
নওগাঁ সরকারি গোরস্থানের জায়গা আমার দাদা সাবেক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মরহুম তাহের উদ্দিন দান করে গিযেছিলেন যাহা আজও দৃশ্যমান ৷
তিনি আরও বলেন ,আমার মাতা মরহুমা উন্মে কুলসুম ছিলেন নওগাঁ সরঃ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা৷ আমার মাতাই প্রথম অত্র বিদ্যালয়টি প্রাথমিক থেকে উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করেন যাহা আজও নওগাঁবাসীর কাছে দৃশ্যমান ৷
মিস তনু ,ভারাক্রান্ত কন্ঠে বলেন,
আমি আজ খুব অসহায় ৷ এ কারনেই এত কষ্টের বলছি ৷ আমার অন্য কোন প্রকার কষ্ট আল্লাহর রহমতে নাই৷ কোন অর্থেরও প্ৰয়োজন নাই।
আমার শেষ ইচ্ছা, আমার পিতার সৃতি বিজরিত ঐতিহাসিক দীন মন্জিলে আমার উত্তরাধিকার সুত্রেপ্রাপ্ত অংশটুকু সংরক্ষণ করা ৷
তাই আমি সরকারের ও নওগাঁবাসীর কাছে ঐতিহাসিক স্থানটি রক্ষার দাবি জানাচ্ছি ৷
উল্লেখ্য, উক্ত দীন মঞ্জিল শহরের প্ৰাণকেন্দ্র ও মূল সড়ক , চকদেব সরিষা হাটির মোড়ে প্রায় ৭৫ শতক জমির উপর অবস্থিত৷
বর্তমানে এই খানে ১ শতক জমির বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা | বর্তমান বাজারমূল্যপ্রায় ১২ কোটি টাকা ও অধিক ৷













