এখন ০৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি নির্মাণের জায়গা নিয়ে অসন্তোষ

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের মুন্ডুমালা পৌর মেয়র সাইদুর রহমান পৌরবাসির মতামত উপেক্ষা ও কামিল মাদরাসার মার্কেট ভেঙ্গে ক্ষতিসাধন করে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল (প্রতিকৃতি) নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নাই এতে সকলেই আনন্দিত। তবে জায়গা নির্ধারণ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

স্থানীয়রা জানান, মেয়র সাইদুর রহমান বাজারের গোলচত্ত্বরের কিছু জায়গা জেলা পরিষদ থেকে ইজারা ও কিছু মাদরাসার জায়গা জবরদখল করে দলীয় কার্যালয়ের নামে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। আবার এখন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত মাদরাসার মার্কেট ভেঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এবং জোরপুর্বক উচ্ছেদ অভিযান করে বির্তকিত জাযগায় ম্যুরাল নির্মাণ করছে। এতে মেয়র ইচ্ছেকৃতভাবে বির্তকের সৃষ্টি করছে। কারণ সরকারি জায়গা ফেলে রেখে মাদরাসার মার্কেট ভাঙায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, মেয়র সাইদুর রহমান কামিল মাদরাসায় নৈশপ্রহরীর চাকরির আবেদন করে চাকরি পায়নি। পরে মুন্ডুমালা মহিলা ডিগ্রী কলেজে নৈশপ্রহরীর চাকরি নেন। এঘটনার পর থেকে সে মাদরাসার ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করে আসছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জৈষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, মাদরাসার মার্কেট ভাঙার প্রয়োজন ছিলনা, সরকারি জায়গা ব্যবহার করেই ম্যুরাল নির্মাণ সম্বব ছিল। তারা বলেন, মেয়র ব্যক্তি আক্রোশ থেকে এমনটা করেছে বলে তাদের ধারণা।

এবিষয়ে মুন্ডুমালা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমির উদ্দিন বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল করতে বাধাঁ দিয়েছেন বিষয়টি তেমন নয়। বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল করতে গিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসার পাকা মার্কেট ভেঙ্গে দিয়েছেন। তাই জেলা প্রশাসক ছাড়াও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন,মাদরাসার মার্কেট না ভেঙে সরকারি জায়গায় ম্যুরাল করা সম্ভব ছিল।

এবিষয়ে মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র সাইদুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু চত্বরের স্থানটি জেলা পরিষদের জায়গা। পৌরসভার সকল কাউন্সিলর, প্রকৌশলী ও সচিবের পরামর্শে সার্ভিয়ার দিয়ে একাধিবার ওইস্থান জরিপ করা হয়েছে। তাদের অনুমতিক্রমে সেখানে বঙ্গবন্ধু মুর‌্যাল নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। কিন্তু মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কাজের শুরু থেকে মিথ্যা অভিযোগ এনে বাধাঁ দেয়ার চেষ্টা করছেন। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, মাদ্রাসা অধ্যক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ম্যুরালের স্থানটি জরিপ করতে সরকারি সার্ভিয়ার পাঠানো হয়। এতে মাদ্রাসার কোন জায়গা পাওয়া যায়নি। এরপরও আগামী সপ্তায় শুনালীর জন্য নোটিশ করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

তানোরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি নির্মাণের জায়গা নিয়ে অসন্তোষ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০২২

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের মুন্ডুমালা পৌর মেয়র সাইদুর রহমান পৌরবাসির মতামত উপেক্ষা ও কামিল মাদরাসার মার্কেট ভেঙ্গে ক্ষতিসাধন করে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল (প্রতিকৃতি) নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নাই এতে সকলেই আনন্দিত। তবে জায়গা নির্ধারণ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

স্থানীয়রা জানান, মেয়র সাইদুর রহমান বাজারের গোলচত্ত্বরের কিছু জায়গা জেলা পরিষদ থেকে ইজারা ও কিছু মাদরাসার জায়গা জবরদখল করে দলীয় কার্যালয়ের নামে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। আবার এখন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত মাদরাসার মার্কেট ভেঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এবং জোরপুর্বক উচ্ছেদ অভিযান করে বির্তকিত জাযগায় ম্যুরাল নির্মাণ করছে। এতে মেয়র ইচ্ছেকৃতভাবে বির্তকের সৃষ্টি করছে। কারণ সরকারি জায়গা ফেলে রেখে মাদরাসার মার্কেট ভাঙায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, মেয়র সাইদুর রহমান কামিল মাদরাসায় নৈশপ্রহরীর চাকরির আবেদন করে চাকরি পায়নি। পরে মুন্ডুমালা মহিলা ডিগ্রী কলেজে নৈশপ্রহরীর চাকরি নেন। এঘটনার পর থেকে সে মাদরাসার ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করে আসছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জৈষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, মাদরাসার মার্কেট ভাঙার প্রয়োজন ছিলনা, সরকারি জায়গা ব্যবহার করেই ম্যুরাল নির্মাণ সম্বব ছিল। তারা বলেন, মেয়র ব্যক্তি আক্রোশ থেকে এমনটা করেছে বলে তাদের ধারণা।

এবিষয়ে মুন্ডুমালা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমির উদ্দিন বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল করতে বাধাঁ দিয়েছেন বিষয়টি তেমন নয়। বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল করতে গিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসার পাকা মার্কেট ভেঙ্গে দিয়েছেন। তাই জেলা প্রশাসক ছাড়াও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন,মাদরাসার মার্কেট না ভেঙে সরকারি জায়গায় ম্যুরাল করা সম্ভব ছিল।

এবিষয়ে মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র সাইদুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু চত্বরের স্থানটি জেলা পরিষদের জায়গা। পৌরসভার সকল কাউন্সিলর, প্রকৌশলী ও সচিবের পরামর্শে সার্ভিয়ার দিয়ে একাধিবার ওইস্থান জরিপ করা হয়েছে। তাদের অনুমতিক্রমে সেখানে বঙ্গবন্ধু মুর‌্যাল নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। কিন্তু মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কাজের শুরু থেকে মিথ্যা অভিযোগ এনে বাধাঁ দেয়ার চেষ্টা করছেন। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, মাদ্রাসা অধ্যক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ম্যুরালের স্থানটি জরিপ করতে সরকারি সার্ভিয়ার পাঠানো হয়। এতে মাদ্রাসার কোন জায়গা পাওয়া যায়নি। এরপরও আগামী সপ্তায় শুনালীর জন্য নোটিশ করা হচ্ছে।