এখন ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ রেলওয়েকে পূর্ণ সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে পরিনত করা হয়েছে -রেলপথ মন্ত্রী সুজন

মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, দিনাজপুর প্রতিনিধি -ঃ দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকা চীনা প্রযুক্তিতে নির্মিত ডেমু ট্রেন অবশেষে দেশীয় প্রকৌশলীদের দ্বারা সচল হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচল শুরু হয়েছে। আজ রবিবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২ টায় ডেমু ট্রেনের আনুষ্ঠানিক চলাচলের উদ্বোধন করেন রেলপথমন্ত্রী মোঃ নুরুল ইসলাম সুজন। সচল হওয়া ডেমু ট্রেনটি প্রতিদিন রংপুর-পার্বতীপুর রুটে নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী চলাচল করবে, প্রতিদিন বিকেল ৫ টা ১৫ মিনিটে পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে যাবে, সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে রংপুরে পৌঁছাবে। আবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে রংপুর থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭ টা ২০ মিনিটে পার্বতীপুরে পৌঁছাবে। চলাচলকারী ট্রেনটির কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে পার্বতীপুর থেকে দিনাজপুর, পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া ও কাউনিয়া থেকে কুড়িগ্রাম রুটেও চলাচল করবে ট্রেনটি বলে জানা গেছে। ডেমু ট্রেনের উদ্বোধনকালে পার্বতীপুর রেল ষ্টেশনে জনসভায় রেলপথমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়েকে এখন একটি পূর্ণ সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। যাত্রী সেবার মানসহ ট্রেনগুলোর উন্নয়নও করা হয়েছে। সমগ্র রুটে ডুয়েল গেজ করার কাজ অব্যাহত আছে, পার্বতীপুর-কাউনিয়া রেলপথকে শীঘ্রই ব্রডগেজ-এ রূপান্তর করা হবে। ইতোমধ্যে সারা দেশে ৫৮ টি ষ্টেশনের উন্নয়ন করা হয়েছে। ২০২৪ সালে বঙ্গবন্ধু রেল সেতু চালু করা হবে। দেশে ২০ টি ডেমু ট্রেন রয়েছে, তার মধ্যে পার্বতীপুরের কোলোকায় মেরামত করা দুটিসহ ৬ টি চলাচল করছে। বাকী ১৪ টি মেরামতের ট্রায়াল অব্যাহত রয়েছে। ডেমু হচ্ছে একটি স্বল্প দুরত্বের ট্রেন। ২০১৩ সালে ৬৩০ কোটি টাকায় চায়না থেকে এই ট্রেনগুলো আমদানি করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ট্রেনগুলো তারা হস্তান্তর করলেও প্রযুক্তি ও পাসওয়ার্ডগুলো রেখে দেয় তাদের নিজেদের আয়ত্তে। আমাদের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীগণ অনেক গবেষনার মাধ্যমে ট্রায়াল ট্রিটমেন্ট সম্পন্ন করে অচল ডেমুকে সচল করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের জন্যই। পশ্চিম রেলের জিএম অসীম কুমার তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, দিনাজপুর-৫ আসনের (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। তিনি ট্রেনের সেকাল-একাল বোঝাতে গিয়ে বলেন, এইতো সেদিন ১৯৭৯ সালে আমার বিয়ের সময় দেখেছি- রেলের কি দুর্দশা! যেকোনো কারনে ট্রেন মিস করলে সারারাত সারাদিন বসে থাকতে হতো। আমি আমার বিয়ের যাত্রী নিয়ে এই পার্বতীপুর রেল ষ্টেশনে ট্রেন ফেল করে সারারাত বসে ছিলাম। সেই ট্রেন-এ আজ এসি যুক্ত হয়েছে, চলছে আধুনিক ডেমু ট্রেন। অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরী, লালমনিরহাট ডিআরএম আব্দুস সালাম, কেলোকার প্রধান নির্বাহী রফিকুল ইসলাম, পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বারিউল করিম খান ও পুলিশ সুপারের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মমিনুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। পুণঃমেরামতকৃত ডেমুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ করে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, বিজ্ঞ প্রকৌশলী জনাব আসাদুজ্জামানকে। তারই অক্লান্ত গবেষনা ও ট্রায়াল ট্রিটমেন্টে অচল দুটি ডেমুকে পার্বতীপুর কেলোকায় সচল করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

বাংলাদেশ রেলওয়েকে পূর্ণ সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে পরিনত করা হয়েছে -রেলপথ মন্ত্রী সুজন

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:১৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অক্টোবর ২০২২

মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, দিনাজপুর প্রতিনিধি -ঃ দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকা চীনা প্রযুক্তিতে নির্মিত ডেমু ট্রেন অবশেষে দেশীয় প্রকৌশলীদের দ্বারা সচল হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচল শুরু হয়েছে। আজ রবিবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২ টায় ডেমু ট্রেনের আনুষ্ঠানিক চলাচলের উদ্বোধন করেন রেলপথমন্ত্রী মোঃ নুরুল ইসলাম সুজন। সচল হওয়া ডেমু ট্রেনটি প্রতিদিন রংপুর-পার্বতীপুর রুটে নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী চলাচল করবে, প্রতিদিন বিকেল ৫ টা ১৫ মিনিটে পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে যাবে, সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে রংপুরে পৌঁছাবে। আবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে রংপুর থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭ টা ২০ মিনিটে পার্বতীপুরে পৌঁছাবে। চলাচলকারী ট্রেনটির কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে পার্বতীপুর থেকে দিনাজপুর, পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া ও কাউনিয়া থেকে কুড়িগ্রাম রুটেও চলাচল করবে ট্রেনটি বলে জানা গেছে। ডেমু ট্রেনের উদ্বোধনকালে পার্বতীপুর রেল ষ্টেশনে জনসভায় রেলপথমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়েকে এখন একটি পূর্ণ সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। যাত্রী সেবার মানসহ ট্রেনগুলোর উন্নয়নও করা হয়েছে। সমগ্র রুটে ডুয়েল গেজ করার কাজ অব্যাহত আছে, পার্বতীপুর-কাউনিয়া রেলপথকে শীঘ্রই ব্রডগেজ-এ রূপান্তর করা হবে। ইতোমধ্যে সারা দেশে ৫৮ টি ষ্টেশনের উন্নয়ন করা হয়েছে। ২০২৪ সালে বঙ্গবন্ধু রেল সেতু চালু করা হবে। দেশে ২০ টি ডেমু ট্রেন রয়েছে, তার মধ্যে পার্বতীপুরের কোলোকায় মেরামত করা দুটিসহ ৬ টি চলাচল করছে। বাকী ১৪ টি মেরামতের ট্রায়াল অব্যাহত রয়েছে। ডেমু হচ্ছে একটি স্বল্প দুরত্বের ট্রেন। ২০১৩ সালে ৬৩০ কোটি টাকায় চায়না থেকে এই ট্রেনগুলো আমদানি করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ট্রেনগুলো তারা হস্তান্তর করলেও প্রযুক্তি ও পাসওয়ার্ডগুলো রেখে দেয় তাদের নিজেদের আয়ত্তে। আমাদের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীগণ অনেক গবেষনার মাধ্যমে ট্রায়াল ট্রিটমেন্ট সম্পন্ন করে অচল ডেমুকে সচল করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের জন্যই। পশ্চিম রেলের জিএম অসীম কুমার তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, দিনাজপুর-৫ আসনের (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। তিনি ট্রেনের সেকাল-একাল বোঝাতে গিয়ে বলেন, এইতো সেদিন ১৯৭৯ সালে আমার বিয়ের সময় দেখেছি- রেলের কি দুর্দশা! যেকোনো কারনে ট্রেন মিস করলে সারারাত সারাদিন বসে থাকতে হতো। আমি আমার বিয়ের যাত্রী নিয়ে এই পার্বতীপুর রেল ষ্টেশনে ট্রেন ফেল করে সারারাত বসে ছিলাম। সেই ট্রেন-এ আজ এসি যুক্ত হয়েছে, চলছে আধুনিক ডেমু ট্রেন। অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরী, লালমনিরহাট ডিআরএম আব্দুস সালাম, কেলোকার প্রধান নির্বাহী রফিকুল ইসলাম, পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বারিউল করিম খান ও পুলিশ সুপারের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মমিনুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। পুণঃমেরামতকৃত ডেমুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ করে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, বিজ্ঞ প্রকৌশলী জনাব আসাদুজ্জামানকে। তারই অক্লান্ত গবেষনা ও ট্রায়াল ট্রিটমেন্টে অচল দুটি ডেমুকে পার্বতীপুর কেলোকায় সচল করা হয়।