এখন ০৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী’কে ধর্ষনের চেষ্টা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি -ঃ পটুয়াখালীর বাউফলে গভীর রাতে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে কেশবপুর ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্রী মোসাঃ রম্নবিনা আক্তার (১৯) নামে এক তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী’কে একই এলাকার মোঃ তানজিল হোসেন (২২) নামের এক যুবক তার কয়েক সহপার্টিদের নিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কোন ধরনের আইনি ব্যবস্থা না নেয়ার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ওই কলেজ ছাত্রী ও তার পরিবার।
বৃহস্পতিবার ( ২৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামের গাজী বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় তানজিল ও তার পরিবারের ভয়ে কোন ধরনের আইনি সহায়তা নিতে পারছেনা ভুক্তভুগী রম্নবিনার পরিবার। ধর্ষনের চেষ্টার ঘটনাটি ধামাপাচা দেয়ার জন্য উল্টো ওই তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী’র পরিবারের বিরম্নদ্ধে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৯ অক্টোবর ) সকালে স্থানীয় ও ভুক্তভোগী রম্নবিনার পরিবারে অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, প্রেমর সম্পর্কের সুত্র ধরে উভয় পরিবারের সমর্থনে ২০২২ সালের ফেব্রম্নয়ারী মাসে ১৮ তারিখ উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামের মোঃ দুলাল মৃধার ছেলে তানজিলের সাথে একই এলাকার আব্দুল মান্নান গাজীর কেশবপুর ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর পড়ুয়া মেয়ে মোসাঃ রম্নবিনা আক্তারের সাথে স্থানীয় কাজি অফিসের মাধ্যমে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে রম্নবিনার পরিবার জামাতা হিসেবে তানজিলকে উপঢৌকন দিয়ে বেড়াতে নেয়। কয়েকদিন পরে চাকরির সুবাধে তানজিল ঢাকাতে চলে যায়। ওই থেকেই স্ত্রী রম্নবিনার সাথে তানজিল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং তানজিল ও তার পরিবার বিয়ের বিষয়টি অস্বিকার করেন। কয়েক মাস পরে তানজিল কাবিন বাতিল চেয়ে আদালতে মামলা করে। এর পর তানজিলের পরিবার স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে বিয়ে বাতিলের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এক পর্যায়ে গত ১৩ আগষ্ট একতরফা তালাক দিতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা রম্নবিনার পরিবার কে বাধ্য করে। তালাকের পরে রম্নবিনা পিছনের সব কথা ভুলে গিয়ে নিয়মীত কলেজে যাওয়া শুরম্ন করলে পুনরায় তানজিল রম্নবিনার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। কলেজে যাওয়া আসার পথে নানান ধরনের কথা বলে উত্যক্ত করতে থাকে। এতে রম্নবিনা কোন কর্নপাত না করলে তানজিল ঘটনার দিন (২৯ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রম্নবিনার ঘরের সিঁদ কেটে ভিতরে প্রবেশ করে রম্নবিনার রম্নমে গিয়ে ঝপটে ধরে ধর্ষনের চেষ্টা করে। এ সময় রম্নবিনার ডাক চিৎকারে ঘরের অন্যান্য লোকজন উঠলে তানজিল হোসেন ও তার সাথে থাকা সহপার্টিরা দৌরে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে বাড়ীর লোকজন তানজিলকে ধরে ফেলে। এ সময় তানজিলের সাথে বাড়ীর লোকদের ধস্ত্মাধস্ত্মি ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে তানজিল ছুটে দৌরে পালাবার চেষ্ট করলে পরে গিয়ে আহত হয়। পরে রম্নবিনার ভাই মোঃ কুদ্দুস গাজী পুলিশের ৯৯৯ নম্বরে কল করলে বাউফল থানা পুলিশ তানজিলকে রম্নবিনার ঘর থেকে উদ্ধার করে। পরে তানজিল অসুস্থ হলে বাউফল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে তানজিলের পরিবার স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে মামলা না করার জন্য রম্নবিনার পরিবারকে হুমকি দেয় এবং ঘটনাটি স্থানীয় ভাবে মিমাংশা করার কথা বলে। পরে তানজিলের পরিবার উল্ট মামলা করে রম্নবিনা সহ তার পরিবারের লোকদেরকে হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন রম্নবিনার পরিবার।
এব্যাপারে তানজিল হোসেন বলেন, রাতে বাহিরে নামলে পূর্ব শত্রম্নতার জের ধরে আমাকে ধরে নিয়ে তাদের ঘরে আটকিয়ে আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমি ধর্ষন করতে যাইনাই। আমার বিরম্নদ্ধে তাদের অভিযোগ সত্য নয়।
এব্যপারে রম্নবিনার ভাই মোঃ কুদ্দুস গাজী বলেন,তানজিল সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে আমার বোনকে ধর্ষন করার চেষ্টা করছিলো। বোনের ডাকচিৎকারে আমরা তানজিলকে ধরে ফেলেছি। পরে পুলিশের ৯৯৯ নম্বরে ফোনদিয়ে ঘটনাটি জানালে পুলিশ এসে তানজিলকে নিয়ে যায়। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বার ঘটনাটি মিমাংশা করে দিবে বলে জানান। এ ঘটনার ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধায় আমি বাউফল থানায় আসার পথে তানজিলের বাবা দুলাল মৃধার নেতৃত্বে কয়েকজন লোক নুরাইনপুর বাজারের উত্তর পাশে ইটের ভাটার মধ্যে ধরে নিয়ে আমাকে মারধর করে মামলা না করার জন্য হুমকি দেয়। এ ঘটনায় বাউফল থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বাউফল থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক (এস আই) মোঃ নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, শুক্রবার ভোরে রম্নবিনার ভাই কুদ্দুস গাজীর ৯৯৯ নম্বরে অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমিসহ আরও কয়েক পুলিশ সদস্য মেয়ের ঘড় থেকে তানজিলকে উদ্ধার করি। পরে তানজিল অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এব্যাপারে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তানজিলকে উদ্ধার করে। তানজিল চিকিৎসা নিচ্ছে। রম্নবিনার পরিবারের অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

বাউফলে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী’কে ধর্ষনের চেষ্টা

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:১৪:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অক্টোবর ২০২২

পটুয়াখালী প্রতিনিধি -ঃ পটুয়াখালীর বাউফলে গভীর রাতে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে কেশবপুর ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্রী মোসাঃ রম্নবিনা আক্তার (১৯) নামে এক তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী’কে একই এলাকার মোঃ তানজিল হোসেন (২২) নামের এক যুবক তার কয়েক সহপার্টিদের নিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কোন ধরনের আইনি ব্যবস্থা না নেয়ার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ওই কলেজ ছাত্রী ও তার পরিবার।
বৃহস্পতিবার ( ২৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামের গাজী বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় তানজিল ও তার পরিবারের ভয়ে কোন ধরনের আইনি সহায়তা নিতে পারছেনা ভুক্তভুগী রম্নবিনার পরিবার। ধর্ষনের চেষ্টার ঘটনাটি ধামাপাচা দেয়ার জন্য উল্টো ওই তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী’র পরিবারের বিরম্নদ্ধে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৯ অক্টোবর ) সকালে স্থানীয় ও ভুক্তভোগী রম্নবিনার পরিবারে অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, প্রেমর সম্পর্কের সুত্র ধরে উভয় পরিবারের সমর্থনে ২০২২ সালের ফেব্রম্নয়ারী মাসে ১৮ তারিখ উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামের মোঃ দুলাল মৃধার ছেলে তানজিলের সাথে একই এলাকার আব্দুল মান্নান গাজীর কেশবপুর ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর পড়ুয়া মেয়ে মোসাঃ রম্নবিনা আক্তারের সাথে স্থানীয় কাজি অফিসের মাধ্যমে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে রম্নবিনার পরিবার জামাতা হিসেবে তানজিলকে উপঢৌকন দিয়ে বেড়াতে নেয়। কয়েকদিন পরে চাকরির সুবাধে তানজিল ঢাকাতে চলে যায়। ওই থেকেই স্ত্রী রম্নবিনার সাথে তানজিল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং তানজিল ও তার পরিবার বিয়ের বিষয়টি অস্বিকার করেন। কয়েক মাস পরে তানজিল কাবিন বাতিল চেয়ে আদালতে মামলা করে। এর পর তানজিলের পরিবার স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে বিয়ে বাতিলের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এক পর্যায়ে গত ১৩ আগষ্ট একতরফা তালাক দিতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা রম্নবিনার পরিবার কে বাধ্য করে। তালাকের পরে রম্নবিনা পিছনের সব কথা ভুলে গিয়ে নিয়মীত কলেজে যাওয়া শুরম্ন করলে পুনরায় তানজিল রম্নবিনার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। কলেজে যাওয়া আসার পথে নানান ধরনের কথা বলে উত্যক্ত করতে থাকে। এতে রম্নবিনা কোন কর্নপাত না করলে তানজিল ঘটনার দিন (২৯ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রম্নবিনার ঘরের সিঁদ কেটে ভিতরে প্রবেশ করে রম্নবিনার রম্নমে গিয়ে ঝপটে ধরে ধর্ষনের চেষ্টা করে। এ সময় রম্নবিনার ডাক চিৎকারে ঘরের অন্যান্য লোকজন উঠলে তানজিল হোসেন ও তার সাথে থাকা সহপার্টিরা দৌরে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে বাড়ীর লোকজন তানজিলকে ধরে ফেলে। এ সময় তানজিলের সাথে বাড়ীর লোকদের ধস্ত্মাধস্ত্মি ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে তানজিল ছুটে দৌরে পালাবার চেষ্ট করলে পরে গিয়ে আহত হয়। পরে রম্নবিনার ভাই মোঃ কুদ্দুস গাজী পুলিশের ৯৯৯ নম্বরে কল করলে বাউফল থানা পুলিশ তানজিলকে রম্নবিনার ঘর থেকে উদ্ধার করে। পরে তানজিল অসুস্থ হলে বাউফল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে তানজিলের পরিবার স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে মামলা না করার জন্য রম্নবিনার পরিবারকে হুমকি দেয় এবং ঘটনাটি স্থানীয় ভাবে মিমাংশা করার কথা বলে। পরে তানজিলের পরিবার উল্ট মামলা করে রম্নবিনা সহ তার পরিবারের লোকদেরকে হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন রম্নবিনার পরিবার।
এব্যাপারে তানজিল হোসেন বলেন, রাতে বাহিরে নামলে পূর্ব শত্রম্নতার জের ধরে আমাকে ধরে নিয়ে তাদের ঘরে আটকিয়ে আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমি ধর্ষন করতে যাইনাই। আমার বিরম্নদ্ধে তাদের অভিযোগ সত্য নয়।
এব্যপারে রম্নবিনার ভাই মোঃ কুদ্দুস গাজী বলেন,তানজিল সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে আমার বোনকে ধর্ষন করার চেষ্টা করছিলো। বোনের ডাকচিৎকারে আমরা তানজিলকে ধরে ফেলেছি। পরে পুলিশের ৯৯৯ নম্বরে ফোনদিয়ে ঘটনাটি জানালে পুলিশ এসে তানজিলকে নিয়ে যায়। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বার ঘটনাটি মিমাংশা করে দিবে বলে জানান। এ ঘটনার ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধায় আমি বাউফল থানায় আসার পথে তানজিলের বাবা দুলাল মৃধার নেতৃত্বে কয়েকজন লোক নুরাইনপুর বাজারের উত্তর পাশে ইটের ভাটার মধ্যে ধরে নিয়ে আমাকে মারধর করে মামলা না করার জন্য হুমকি দেয়। এ ঘটনায় বাউফল থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বাউফল থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক (এস আই) মোঃ নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, শুক্রবার ভোরে রম্নবিনার ভাই কুদ্দুস গাজীর ৯৯৯ নম্বরে অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমিসহ আরও কয়েক পুলিশ সদস্য মেয়ের ঘড় থেকে তানজিলকে উদ্ধার করি। পরে তানজিল অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এব্যাপারে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তানজিলকে উদ্ধার করে। তানজিল চিকিৎসা নিচ্ছে। রম্নবিনার পরিবারের অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।