এখন ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর বানেশ্বরে দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত অধ্যক্ষ, আহত হলেন সভাপতি বাবু শেখ

নিজস্ব প্রতিবেদক -ঃ রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলাধীন বানেশ্বর শহীদ নাদের আলী বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে নানা অনিয়ম – দুর্নীতি এবং সেচ্ছাচারিতার অভিযোগে বরখাস্ত হয় অধ্যক্ষ রুহুল আমিন । সেই শত্রুতার জেরে অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মাহাবুব আলম বাবু কে মারপিট করে গুরুতর ভাবে আহত করেছে রুহুল আমিন সহ তার লোকজন।

গত রবিবার (২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে আট টায় বানেশ্বর ধানি হাটায় খলিল সরকারের তেল মিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। উক্ত স্থানে বাবুকে একা পেয়ে রুহুল আমিন, পলাশ(রুহুলের ভাই) ও নাসরিন আক্তার মুক্তা ( রুহুলের স্ত্রী) দেশিয় অস্ত্র ( রামদা, চাইনিজ কোরাল, লোহার রড) দিয়ে মারপিট করে গুরুতর ভাবে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বাবুর বাম হাতে রুহুল দের মারপিটের ফলে ১২টি সেলাই দিয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, শহীদ নাদের আলী বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মত বিনিময় সভা করে মাহাবুব আলম বাবু। মত বিনিময় সভায় ১৭ জন শিক্ষক/কর্মচারীরা বরখাস্ত অধ্যক্ষ রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম – দুর্নীতি, সেচ্ছাচারিতা ও প্রতিষ্ঠানে দলাদলির অভিযোগ করে। গভর্নিং বডি বিষয়টি আমলে নিয়ে গঠনতান্ত্রিক ভাবে মিটিং এর মাধ্যমে অধ্যক্ষ রুহুল আমিনের কাছ থেকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ের হিসাব চাই। হিসাব না দিয়ে তালবাহানা করে এবং সভাপতি সহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ লক্ষ টাকার চাঁদাবাজির মামলা করেন রুহুল আমিন । বিজ্ঞ আদালতে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণ হয় ও খারিজ হয়ে যায় । মামলাতে হেরে টাকার বিনিময়ে বহিরাগত লোক ভাড়া করে চেয়ার দোখল করার চেষ্টা করে রুহুল আমিন। পরে রুহুল আমিন শিক্ষক প্রতিনিধিকে বলে এসএসসি পরীক্ষার পর দিনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শামসুল আলম কে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিবো। কিন্তু তা পরবর্তীতে অস্বীকার করে সে। তারপর ও বরখাস্ত হয় রুহুল আমিন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানাযায়, সেই সময় থেকেই রুহুল আমিন ও তার ভাড়া করা সন্ত্রাসী বাহিনী ভিন্ন সময় সভাপতি বাবু শেখকে অপহরণ সহ হত্যার হুমকি প্রদর্শন করে আসছে। এ বিষয়ে থানায় জিডি ও করেছে বাবু শেখ। জিডি নাম্বার – ৮৭৯। আর এসকল কারণেই গত রবিবার রুহুল, পলাশ ও মুক্তা বাবু শেখের উপর আক্রমণ করে।

এবিষয়ে জানতে রুহুল আমিন এর সাথে যোগাযোগ করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, সেহেতু তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাবু শেখ বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই বিভিন্নভাবে রুহুল আমিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। গত রবিবার আমাকে সামনে পেয়ে সে তার ভাই ও স্ত্রী আমার উপরে আক্রমণ করে আমাকে গুরুতর আহত করে। এ বিষয়ে আমি আইনি সহায়তার জন্য পুঠিয়া থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে গেলে তারা আমার অভিযোগটি গ্রহণ করছেন না। শরীরের আঘাতের চেয়ে বড় কষ্ট এখানে! আমি একজন আওয়ামী পরিবারের সন্তান হয়েও জামাত পন্থীদের কাছে মার খেলাম। আবার আমার অভিযোগটিও নিচ্ছে না থানা পুলিশ। আমি এর সঠিক বিচার চাই আপনাদের মাধ্যমে।

এ বিষয়ে পুঠিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি কে জিঙ্গাসা করলে তিনি বলেন কোন অভিযোগ পাইনি তবে লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ‍্যই আইনগত ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

রাজশাহীর বানেশ্বরে দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত অধ্যক্ষ, আহত হলেন সভাপতি বাবু শেখ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক -ঃ রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলাধীন বানেশ্বর শহীদ নাদের আলী বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে নানা অনিয়ম – দুর্নীতি এবং সেচ্ছাচারিতার অভিযোগে বরখাস্ত হয় অধ্যক্ষ রুহুল আমিন । সেই শত্রুতার জেরে অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মাহাবুব আলম বাবু কে মারপিট করে গুরুতর ভাবে আহত করেছে রুহুল আমিন সহ তার লোকজন।

গত রবিবার (২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে আট টায় বানেশ্বর ধানি হাটায় খলিল সরকারের তেল মিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। উক্ত স্থানে বাবুকে একা পেয়ে রুহুল আমিন, পলাশ(রুহুলের ভাই) ও নাসরিন আক্তার মুক্তা ( রুহুলের স্ত্রী) দেশিয় অস্ত্র ( রামদা, চাইনিজ কোরাল, লোহার রড) দিয়ে মারপিট করে গুরুতর ভাবে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বাবুর বাম হাতে রুহুল দের মারপিটের ফলে ১২টি সেলাই দিয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, শহীদ নাদের আলী বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মত বিনিময় সভা করে মাহাবুব আলম বাবু। মত বিনিময় সভায় ১৭ জন শিক্ষক/কর্মচারীরা বরখাস্ত অধ্যক্ষ রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম – দুর্নীতি, সেচ্ছাচারিতা ও প্রতিষ্ঠানে দলাদলির অভিযোগ করে। গভর্নিং বডি বিষয়টি আমলে নিয়ে গঠনতান্ত্রিক ভাবে মিটিং এর মাধ্যমে অধ্যক্ষ রুহুল আমিনের কাছ থেকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ের হিসাব চাই। হিসাব না দিয়ে তালবাহানা করে এবং সভাপতি সহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ লক্ষ টাকার চাঁদাবাজির মামলা করেন রুহুল আমিন । বিজ্ঞ আদালতে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণ হয় ও খারিজ হয়ে যায় । মামলাতে হেরে টাকার বিনিময়ে বহিরাগত লোক ভাড়া করে চেয়ার দোখল করার চেষ্টা করে রুহুল আমিন। পরে রুহুল আমিন শিক্ষক প্রতিনিধিকে বলে এসএসসি পরীক্ষার পর দিনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শামসুল আলম কে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিবো। কিন্তু তা পরবর্তীতে অস্বীকার করে সে। তারপর ও বরখাস্ত হয় রুহুল আমিন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানাযায়, সেই সময় থেকেই রুহুল আমিন ও তার ভাড়া করা সন্ত্রাসী বাহিনী ভিন্ন সময় সভাপতি বাবু শেখকে অপহরণ সহ হত্যার হুমকি প্রদর্শন করে আসছে। এ বিষয়ে থানায় জিডি ও করেছে বাবু শেখ। জিডি নাম্বার – ৮৭৯। আর এসকল কারণেই গত রবিবার রুহুল, পলাশ ও মুক্তা বাবু শেখের উপর আক্রমণ করে।

এবিষয়ে জানতে রুহুল আমিন এর সাথে যোগাযোগ করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, সেহেতু তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাবু শেখ বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই বিভিন্নভাবে রুহুল আমিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। গত রবিবার আমাকে সামনে পেয়ে সে তার ভাই ও স্ত্রী আমার উপরে আক্রমণ করে আমাকে গুরুতর আহত করে। এ বিষয়ে আমি আইনি সহায়তার জন্য পুঠিয়া থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে গেলে তারা আমার অভিযোগটি গ্রহণ করছেন না। শরীরের আঘাতের চেয়ে বড় কষ্ট এখানে! আমি একজন আওয়ামী পরিবারের সন্তান হয়েও জামাত পন্থীদের কাছে মার খেলাম। আবার আমার অভিযোগটিও নিচ্ছে না থানা পুলিশ। আমি এর সঠিক বিচার চাই আপনাদের মাধ্যমে।

এ বিষয়ে পুঠিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি কে জিঙ্গাসা করলে তিনি বলেন কোন অভিযোগ পাইনি তবে লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ‍্যই আইনগত ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।