এখন ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হলো কুমারী পূজা

মিরু হাসান বাপ্পী, বগুড়া সংবাদদাতা -ঃ বগুড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজায় মহা অষ্টমীতে এই প্রথম কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় শাজাহানপুর উপজেলার গণ্ডগ্রাম এলাকার শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমে এই পূজার আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে হিন্দু ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে। অন্যান্য ধর্মালম্বী মানুষও কুমারী পূজা দেখতে মন্দির প্রাঙ্গনে ভিড় জমায়।

হিন্দু শাস্ত্রমতে, কুমারী পূজার উদ্ভব হয় কোলাসুরকে বধের মধ্য দিয়ে। কোলাসুর এক সময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বাকি বিপন্ন দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হয়। সে সব দেবগণের আহ্বানে সাড়া দিযে় দেবী কুমারী রূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকে মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়।

বগুড়ায় কুমারী পূজার জন্য মাতৃভাবের পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে এবছর কুমারী মায়ের আসনে বসানো হয় ৮ বছর বয়সী শুভশ্রী রাণী দাসকে। কুমারীর বয়স ৮ বছর হওয়ায় কুষ্ঠিকা নামে পূজিত হন। পূজা কার্যক্রম পরিচালনা করেন আশ্রমের পুরোহিত বাসুদেব ব্যানার্জী।

পূজা দেখতে আসা সঞ্চিতা বসাক জানান, আগে টেলিভিশনে কুমারী পূজা দেখেছি। আজ বাস্তবে দেখে ভাল লাগছে। এই পূজার মাধ্যমে নারী শক্তির জয় এই কামনা করি।

৭০ বছর বয়সী গোবিন্দ সাহা জানান, এর আগে কোথাও কুমারী পূজা দেখা হয়নি। আজ বগুড়ায় এই আশ্রমে সেটা দেখার সৌভাগ্য হলো। তাই পরিবারের সবাই মিলেই এই পূজা দেখতে চলে এসেছি।

পুরোহিত উপস্থিত পূজার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কুমারী আদ্যাশক্তি মহামায়ার প্রতীক। দুর্গার আরেক নাম কুমারী। মুলত নারীকে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে কুমারী পূজা করা হয়। মাটির প্রতিমায় যে দেবীর পূজা করা হয়, তারই বাস্তব কুমারী পূজা।

কুমারী পুজায় অধিষ্ঠিত শুভশ্রীর মা সরস্বতী বলেন, আমরা সম্মানিত বোধ করছি। মেয়েরা নানা সময় যে বঞ্চনার শিকার হয় মাতৃ বন্দনার মধ্য দিয়ে যেন সেই অসুর প্রবৃত্তির বিনাশ ঘটে।

এদিকে, বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর বগুড়ায় ১২টি উপজেলায় ৬৭৯ মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫০টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ২৪০টি গুরুত্বপূর্ণ ও ২৮৯টি সাধারণ। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও মন্দির কমিটির পক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। আগামী বুধবার বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

বগুড়ায় প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হলো কুমারী পূজা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩১:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২

মিরু হাসান বাপ্পী, বগুড়া সংবাদদাতা -ঃ বগুড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজায় মহা অষ্টমীতে এই প্রথম কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় শাজাহানপুর উপজেলার গণ্ডগ্রাম এলাকার শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমে এই পূজার আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে হিন্দু ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে। অন্যান্য ধর্মালম্বী মানুষও কুমারী পূজা দেখতে মন্দির প্রাঙ্গনে ভিড় জমায়।

হিন্দু শাস্ত্রমতে, কুমারী পূজার উদ্ভব হয় কোলাসুরকে বধের মধ্য দিয়ে। কোলাসুর এক সময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বাকি বিপন্ন দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হয়। সে সব দেবগণের আহ্বানে সাড়া দিযে় দেবী কুমারী রূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকে মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়।

বগুড়ায় কুমারী পূজার জন্য মাতৃভাবের পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে এবছর কুমারী মায়ের আসনে বসানো হয় ৮ বছর বয়সী শুভশ্রী রাণী দাসকে। কুমারীর বয়স ৮ বছর হওয়ায় কুষ্ঠিকা নামে পূজিত হন। পূজা কার্যক্রম পরিচালনা করেন আশ্রমের পুরোহিত বাসুদেব ব্যানার্জী।

পূজা দেখতে আসা সঞ্চিতা বসাক জানান, আগে টেলিভিশনে কুমারী পূজা দেখেছি। আজ বাস্তবে দেখে ভাল লাগছে। এই পূজার মাধ্যমে নারী শক্তির জয় এই কামনা করি।

৭০ বছর বয়সী গোবিন্দ সাহা জানান, এর আগে কোথাও কুমারী পূজা দেখা হয়নি। আজ বগুড়ায় এই আশ্রমে সেটা দেখার সৌভাগ্য হলো। তাই পরিবারের সবাই মিলেই এই পূজা দেখতে চলে এসেছি।

পুরোহিত উপস্থিত পূজার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কুমারী আদ্যাশক্তি মহামায়ার প্রতীক। দুর্গার আরেক নাম কুমারী। মুলত নারীকে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে কুমারী পূজা করা হয়। মাটির প্রতিমায় যে দেবীর পূজা করা হয়, তারই বাস্তব কুমারী পূজা।

কুমারী পুজায় অধিষ্ঠিত শুভশ্রীর মা সরস্বতী বলেন, আমরা সম্মানিত বোধ করছি। মেয়েরা নানা সময় যে বঞ্চনার শিকার হয় মাতৃ বন্দনার মধ্য দিয়ে যেন সেই অসুর প্রবৃত্তির বিনাশ ঘটে।

এদিকে, বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর বগুড়ায় ১২টি উপজেলায় ৬৭৯ মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫০টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ২৪০টি গুরুত্বপূর্ণ ও ২৮৯টি সাধারণ। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও মন্দির কমিটির পক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। আগামী বুধবার বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব।