এখন ০৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উৎসব আনন্দ শিশু ধ্রব-নির্জনের ‘মিছেমিছি’ মন্ডপ

মইনুল ভূইয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি -ঃ আলোকসজ্জা করার সামর্থ নেই তো কি হয়েছে! বাড়ির নষ্ট মোবাইল ফোনের আলো তো আছে। কাজে লাগানো হয়েছে পুরোনো চার্জার লাইট। ঢাকি নেই- তাতেই বা কি যায় আসে! কাগজ দিয়ে বানানো ঢাকিওয়ালা তো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে। কোনো কিছুর কমতি রাখা হয়নি মন্ডপে, যেখানে আসন পেতেছে দেবী মা দুর্গা। 

শিশু ধ্রুব বনিক ও নির্জন বনিকের পৃথক পূজার মন্ডপ দু’টি কাগজের তৈরি। বেশ শৈল্পিক ছাপ মন্ডপ দু’টোতে। অন্য আর দশটি পূজার মতোই অসুর পরাস্তের দুর্গার পুরো দৃশ্যটাই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে তারা। ‘মিছেমিছির’ এ দুটি মন্ডপে নিজেদের মতো করে পূজা অর্চনাও করছে নিয়মিত। বাড়ির বড় সদস্যরাও বিষয়টি বেশ উপভোগ করছে।

ধ্রুব ও নির্জন সম্পর্কে কাকাতো, জেঠাতো ভাই। ধ্রুব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে ও নির্জন একই বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। আখাউড়া পৌর এলাকার সড়ক বাজারের বাড়ির নিজ নিজ ঘরে তাদের এ মন্ডপ শোভা পাচ্ছে।

রবিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধ্রুব ছোট বেলা থেকেই কাগজ দিয়ে বিভিন্ন কিছু বানাতো। এরই আলোকে সে বিভিন্ন প্রতিমা বানানো শুরু করে। এবারও সে একই কাজ করে বানিয়ে ফেলে দুর্গাপূজার মন্ডপ। তার কাছ থেকে উৎসাহ পেয়ে ছোট ভাই নির্জনও এবার মন্ডপ বানিয়েছে। মন্ডপে পূজা অর্চনার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও রাখতে দেখা যায়। 

ধ্রুব জানায়, অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে মন্ডপটা বানিয়েছি সে। সব কিছু করা হয়েছে কাগজ দিয়ে। কাগজ কাটার পর এতে রং করা হয়েছে। পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে মন্ডপটা বানানো হয়েছে। নির্জন জানায়, বড় ভাই ধ্রুবর কাছ থেকেই উৎসাহ পাওয়া। সাত-আটদিন সময় লেগেছে তার মন্ডপটি তৈরি করতে। 

ধ্রুব’র কাকা ও নির্জনের বাবা সাংবাদিক জুটন বনিক জানান, কোনো ধরণের প্রশিক্ষণ ছাড়া এই কম বয়সেই তারা হাতের কাজের যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে সেটা অবাক করার মতো। স্বাভাবিক পূজা অর্চনার মতো তারাও দশমী পর্যন্ত নিয়ম পালন করবে। তাদের মন্ডপে ধর্মীয় গানও বাজানো হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

উৎসব আনন্দ শিশু ধ্রব-নির্জনের ‘মিছেমিছি’ মন্ডপ

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:২২:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২

মইনুল ভূইয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি -ঃ আলোকসজ্জা করার সামর্থ নেই তো কি হয়েছে! বাড়ির নষ্ট মোবাইল ফোনের আলো তো আছে। কাজে লাগানো হয়েছে পুরোনো চার্জার লাইট। ঢাকি নেই- তাতেই বা কি যায় আসে! কাগজ দিয়ে বানানো ঢাকিওয়ালা তো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে। কোনো কিছুর কমতি রাখা হয়নি মন্ডপে, যেখানে আসন পেতেছে দেবী মা দুর্গা। 

শিশু ধ্রুব বনিক ও নির্জন বনিকের পৃথক পূজার মন্ডপ দু’টি কাগজের তৈরি। বেশ শৈল্পিক ছাপ মন্ডপ দু’টোতে। অন্য আর দশটি পূজার মতোই অসুর পরাস্তের দুর্গার পুরো দৃশ্যটাই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে তারা। ‘মিছেমিছির’ এ দুটি মন্ডপে নিজেদের মতো করে পূজা অর্চনাও করছে নিয়মিত। বাড়ির বড় সদস্যরাও বিষয়টি বেশ উপভোগ করছে।

ধ্রুব ও নির্জন সম্পর্কে কাকাতো, জেঠাতো ভাই। ধ্রুব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে ও নির্জন একই বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। আখাউড়া পৌর এলাকার সড়ক বাজারের বাড়ির নিজ নিজ ঘরে তাদের এ মন্ডপ শোভা পাচ্ছে।

রবিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধ্রুব ছোট বেলা থেকেই কাগজ দিয়ে বিভিন্ন কিছু বানাতো। এরই আলোকে সে বিভিন্ন প্রতিমা বানানো শুরু করে। এবারও সে একই কাজ করে বানিয়ে ফেলে দুর্গাপূজার মন্ডপ। তার কাছ থেকে উৎসাহ পেয়ে ছোট ভাই নির্জনও এবার মন্ডপ বানিয়েছে। মন্ডপে পূজা অর্চনার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও রাখতে দেখা যায়। 

ধ্রুব জানায়, অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে মন্ডপটা বানিয়েছি সে। সব কিছু করা হয়েছে কাগজ দিয়ে। কাগজ কাটার পর এতে রং করা হয়েছে। পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে মন্ডপটা বানানো হয়েছে। নির্জন জানায়, বড় ভাই ধ্রুবর কাছ থেকেই উৎসাহ পাওয়া। সাত-আটদিন সময় লেগেছে তার মন্ডপটি তৈরি করতে। 

ধ্রুব’র কাকা ও নির্জনের বাবা সাংবাদিক জুটন বনিক জানান, কোনো ধরণের প্রশিক্ষণ ছাড়া এই কম বয়সেই তারা হাতের কাজের যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে সেটা অবাক করার মতো। স্বাভাবিক পূজা অর্চনার মতো তারাও দশমী পর্যন্ত নিয়ম পালন করবে। তাদের মন্ডপে ধর্মীয় গানও বাজানো হয়।