এখন ০৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ভুয়া নিয়োগের অভিযোগ

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী
নওগাঁর নিয়ামতপুরের বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ভুয়া নিয়োগ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক এরশাদ আলী। ইতোমধ্যে সেসব অভিযোগের তদন্তও হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অর্থনীতি বিষয়ে ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট এরশাদ আলীকে ডিগ্রি তৃতীয় পদে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অর্থনীতি দ্বিতীয় পদ শূন্য হওয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ও গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তে ওই বছরের ১৫ মার্চ তাকে ডিগ্রি দ্বিতীয় পদে সমন্বয় করা হয়। ওই পদে পদায়নের পরে অধ্যক্ষ আবার সে বছরের ১৬ মার্চ তাকে দ্বিতীয় পদের নিয়োগপত্র দিলে ২০ মার্চ দ্বিতীয় পদে যোগ দেন এরশাদ আলী। ২০১৯ সালে ডিগ্রি স্তর এমপিওভুক্ত হলে অধ্যক্ষ অনলাইনে এমপিওর আবেদন পাঠানোর সময় ‘অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে অর্থের লোভে’ নিয়োগ বোর্ডের আসল সব কাগজ-পত্রাদি টেম্পারিং করে অধ্যক্ষ অতিরিক্ত পাঁচটি বিষয়ের (বাংলা, ইংরেজী, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ভুগোল) অবৈধ নিয়োগ দেখিয়েছেন। এ পাঁচটি বিষয় শিক্ষক নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি মনোনয়ন চিঠিতে এবং নিয়োগ নির্বাচনী কমিটিতে ডিজির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকার বিষয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। অতিরিক্ত এ পাঁচটি বিষয়ে নিয়োগের মূল রেজুলেশন, চিঠিতে এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গেও মিল নেই।অভিযোগে তিনি আরও জানান, নিয়োগ সংক্রান্ত মূল কাগজপত্র টেম্পারিং করে নিজে কাগজপত্র তৈরি করে নিয়োগের মূল রেজুলেশন ঘষামাজা করে অতিরিক্ত পাঁচটি বিষয় বসিয়েছেন যা নিয়োগের আসল কোন কাগজের সঙ্গে মিল নেই। এমপিও আবেদন করার মুহূর্তে আমার আসল সব কাগজপত্র টেম্পারিং করে আমার এমপিওভুক্তির জন্য প্রথম আবেদন তিনি গোপনে গত ২০২০ সালের ২ মে পাঠান। একই তারিখে আমার কলেজের ডিগ্রি শাখার সব শিক্ষক ও কর্মচারীর আবেদনও পাঠান। এ কারণে এরশাদ আলীরসহ সব শিক্ষকের ফাইল বাতিল হয়। বাতিলের কারণ তারসহ সব শিক্ষকের একই ছিল। পরবর্তীতে গত ২০২০ সালের ২৮ জুলাই আবার এরশাদ আলীর আবেদনসহ সব শিক্ষকের আবেদন পাঠালে অন্যান্য শিক্ষকের বেতন হয়ে যায়। কিন্তু এরশাদ আলীর এমপিওর আবেদন বাতিল হয়। ওই সময় অধ্যক্ষ এরশাদ আলীকে বলেন সামান্য ভুল আছে, আমি ঠিক করে নেবো।
এরশাদ আলী অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ কাউকে কিছু না জানাতে নিষেধ করেছিলেন। তিনি বলেছেন, অন্য মানুষকে জানাজানি করানো, বলাবলি করলে বেতন করে দেবেন না। তিনি প্রতিদিন কলেজে যেতে নিষেধ করেন এবং কলেজে গেলে কলেজ টাইমের পরে যেতে বলেন। এমপিও আবেদনের সময় হলে তিনি আবেদনের ওই কয়েক দিন কলেজে ঠিক মত আসেন না, আমার ফোন রিসিভ করেন না। বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকেন। আমি তার কথায় চুপচাপ ছিলাম কিন্তু তিনি বিভিন্ন অপকৌশলে দেরি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে আমি আমার বেতন না হওয়ার প্রকৃত কারণ অফিসের মাধ্যমে জানতে পারি। আমার বেতনের জন্য পাঠানো কাগজ আমি সংগ্রহ করি। সেখানে দেখা যায় আমার নিয়োগের সঠিক কাগজপত্রগুলোর সঙ্গে পাঠানো কাগজপত্রের কোন মিল নেই। তিনি আমার নিয়োগ তৃতীয় পদ এবং পরে সমন্বয়ে দ্বিতীয় পদ উল্লেখ করে আমার বেতনের কাগজ পাঠাননি। আমার কাছে আমার বৈধ নিয়োগের আসল রেজুলেশনসহ সব মূল কাগজপত্র আছে। বর্তমানে অধ্যক্ষ আমার সঙ্গে তেমন কোন যোগাযোগ করেন না আমি যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাইনা। তিনি আরও বলেন, বিধি মোতাবেক আমাকে নিয়োগ দেয়ার পর অধ্যক্ষ গোপনে অশুভ উদ্দেশ্যে আমার নিয়োগ বোর্ডের চিঠিপত্র টেম্পারিং করেন। মূল রেজুলেশনসহ পুরো নিয়োগ বোর্ডের স্মারক নং, সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড তৈরি করেছেন। আমার নিয়োগের মূল রেজুলেশন কাটাকাটি বা ঘষামাজা প্রথমে ধরা পড়ে রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসে। এরপর তার সব জালিয়াতি বের হয়ে আসে। তার জালিয়াতির জন্যই আমার বেতনের ফাইল আটকে আছে। বিষয়টি রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সরেজমিনে কলেজে তদন্ত করেছেন। বর্তমানে অধ্যক্ষ নিজের অপরাধ লুকানোর জন্য আমার সঙ্গে বিভিন্নভাবে অপকৌশল ও ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি আমাকে উসকানিমূলক নানা কথা বলছেন। আমাকে তিনি বিভিন্নভাবে পাগল, মাথা টালমাটাল ইত্যাদিসহ অকথ্য ভাষা ব্যবহার করছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য আমার সঙ্গে নানা অপকৌশল করে যাচ্ছেন। আমি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় গত আট আগস্ট ফের আমার বেতনের ফাইল তিনি পাঠাননি। আমি অনেক অনুরোধ করেও তিনি কথা আমলে নিচ্ছেন না। তার এমন কথা আমার কাছে রেকর্ড আছে যে, আমার সঠিক কাগজ দিয়ে বেতন হবে কিন্তু তিনি অনেক বড় বিপদে পড়ে যাবেন ও চাকরি চলে যাবে। তিনি গত ২৮ আগস্ট কলেজের প্যাডে আমাকে পাগল বলে আখ্যায়িত করে একটি চিঠি পোস্ট মাধ্যমে আমার কাছে পাঠান। একই সঙ্গে অধ্যক্ষের সহযোগী শিক্ষক প্রতিনিধি বিধান ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান মো. নজরুল ইসলাম ও অফিস সহকারী বিপুল আমাকে হুমকি দিচ্ছেন অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য। এ বিষয়ে আমি থানায় জিডি করেছি। এ বিষয়ে কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি বিধান মুঠোফোনে বলেন এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলবো না। আপনি কলেজে আসেন সামনাসামনি কথা হবে। এ বিষয়ে জানার জন্য সহকারী লাইব্রেরিয়ানের নজরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে এক মহিলা ফোন রিসিভ করেন। অফিস সহকারী বিপুল সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ফোন কেটে দেন। এ বিষয় গুলো সরেজমিনে যাচাইয়ের জন্য কলেজে গিয়ে দেখা যায়, এরশাদ আলীর নিয়োগের রেজুলেশনে ফ্লুইট দিয়ে ঘষামাজা রয়েছে। রেজুলেশনে ফ্লুইট দেয়ার কারণ জানতে চাইলে অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং এরশাদ আলীর এমপিও করিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা নওগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ইংরেজি বিষয়ের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, তদন্তভার পাওয়ার পর আমি ওই প্রতিষ্ঠানে তদন্তে গিয়েছিলাম। তবে কলেজের অধ্যক্ষ সেদিন কলেজে উপস্থিত ছিলেন না। প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ভুয়া নিয়োগের অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী
নওগাঁর নিয়ামতপুরের বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ভুয়া নিয়োগ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক এরশাদ আলী। ইতোমধ্যে সেসব অভিযোগের তদন্তও হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অর্থনীতি বিষয়ে ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট এরশাদ আলীকে ডিগ্রি তৃতীয় পদে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অর্থনীতি দ্বিতীয় পদ শূন্য হওয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ও গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তে ওই বছরের ১৫ মার্চ তাকে ডিগ্রি দ্বিতীয় পদে সমন্বয় করা হয়। ওই পদে পদায়নের পরে অধ্যক্ষ আবার সে বছরের ১৬ মার্চ তাকে দ্বিতীয় পদের নিয়োগপত্র দিলে ২০ মার্চ দ্বিতীয় পদে যোগ দেন এরশাদ আলী। ২০১৯ সালে ডিগ্রি স্তর এমপিওভুক্ত হলে অধ্যক্ষ অনলাইনে এমপিওর আবেদন পাঠানোর সময় ‘অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে অর্থের লোভে’ নিয়োগ বোর্ডের আসল সব কাগজ-পত্রাদি টেম্পারিং করে অধ্যক্ষ অতিরিক্ত পাঁচটি বিষয়ের (বাংলা, ইংরেজী, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ভুগোল) অবৈধ নিয়োগ দেখিয়েছেন। এ পাঁচটি বিষয় শিক্ষক নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি মনোনয়ন চিঠিতে এবং নিয়োগ নির্বাচনী কমিটিতে ডিজির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকার বিষয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। অতিরিক্ত এ পাঁচটি বিষয়ে নিয়োগের মূল রেজুলেশন, চিঠিতে এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গেও মিল নেই।অভিযোগে তিনি আরও জানান, নিয়োগ সংক্রান্ত মূল কাগজপত্র টেম্পারিং করে নিজে কাগজপত্র তৈরি করে নিয়োগের মূল রেজুলেশন ঘষামাজা করে অতিরিক্ত পাঁচটি বিষয় বসিয়েছেন যা নিয়োগের আসল কোন কাগজের সঙ্গে মিল নেই। এমপিও আবেদন করার মুহূর্তে আমার আসল সব কাগজপত্র টেম্পারিং করে আমার এমপিওভুক্তির জন্য প্রথম আবেদন তিনি গোপনে গত ২০২০ সালের ২ মে পাঠান। একই তারিখে আমার কলেজের ডিগ্রি শাখার সব শিক্ষক ও কর্মচারীর আবেদনও পাঠান। এ কারণে এরশাদ আলীরসহ সব শিক্ষকের ফাইল বাতিল হয়। বাতিলের কারণ তারসহ সব শিক্ষকের একই ছিল। পরবর্তীতে গত ২০২০ সালের ২৮ জুলাই আবার এরশাদ আলীর আবেদনসহ সব শিক্ষকের আবেদন পাঠালে অন্যান্য শিক্ষকের বেতন হয়ে যায়। কিন্তু এরশাদ আলীর এমপিওর আবেদন বাতিল হয়। ওই সময় অধ্যক্ষ এরশাদ আলীকে বলেন সামান্য ভুল আছে, আমি ঠিক করে নেবো।
এরশাদ আলী অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ কাউকে কিছু না জানাতে নিষেধ করেছিলেন। তিনি বলেছেন, অন্য মানুষকে জানাজানি করানো, বলাবলি করলে বেতন করে দেবেন না। তিনি প্রতিদিন কলেজে যেতে নিষেধ করেন এবং কলেজে গেলে কলেজ টাইমের পরে যেতে বলেন। এমপিও আবেদনের সময় হলে তিনি আবেদনের ওই কয়েক দিন কলেজে ঠিক মত আসেন না, আমার ফোন রিসিভ করেন না। বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকেন। আমি তার কথায় চুপচাপ ছিলাম কিন্তু তিনি বিভিন্ন অপকৌশলে দেরি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে আমি আমার বেতন না হওয়ার প্রকৃত কারণ অফিসের মাধ্যমে জানতে পারি। আমার বেতনের জন্য পাঠানো কাগজ আমি সংগ্রহ করি। সেখানে দেখা যায় আমার নিয়োগের সঠিক কাগজপত্রগুলোর সঙ্গে পাঠানো কাগজপত্রের কোন মিল নেই। তিনি আমার নিয়োগ তৃতীয় পদ এবং পরে সমন্বয়ে দ্বিতীয় পদ উল্লেখ করে আমার বেতনের কাগজ পাঠাননি। আমার কাছে আমার বৈধ নিয়োগের আসল রেজুলেশনসহ সব মূল কাগজপত্র আছে। বর্তমানে অধ্যক্ষ আমার সঙ্গে তেমন কোন যোগাযোগ করেন না আমি যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাইনা। তিনি আরও বলেন, বিধি মোতাবেক আমাকে নিয়োগ দেয়ার পর অধ্যক্ষ গোপনে অশুভ উদ্দেশ্যে আমার নিয়োগ বোর্ডের চিঠিপত্র টেম্পারিং করেন। মূল রেজুলেশনসহ পুরো নিয়োগ বোর্ডের স্মারক নং, সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড তৈরি করেছেন। আমার নিয়োগের মূল রেজুলেশন কাটাকাটি বা ঘষামাজা প্রথমে ধরা পড়ে রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসে। এরপর তার সব জালিয়াতি বের হয়ে আসে। তার জালিয়াতির জন্যই আমার বেতনের ফাইল আটকে আছে। বিষয়টি রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সরেজমিনে কলেজে তদন্ত করেছেন। বর্তমানে অধ্যক্ষ নিজের অপরাধ লুকানোর জন্য আমার সঙ্গে বিভিন্নভাবে অপকৌশল ও ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি আমাকে উসকানিমূলক নানা কথা বলছেন। আমাকে তিনি বিভিন্নভাবে পাগল, মাথা টালমাটাল ইত্যাদিসহ অকথ্য ভাষা ব্যবহার করছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য আমার সঙ্গে নানা অপকৌশল করে যাচ্ছেন। আমি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় গত আট আগস্ট ফের আমার বেতনের ফাইল তিনি পাঠাননি। আমি অনেক অনুরোধ করেও তিনি কথা আমলে নিচ্ছেন না। তার এমন কথা আমার কাছে রেকর্ড আছে যে, আমার সঠিক কাগজ দিয়ে বেতন হবে কিন্তু তিনি অনেক বড় বিপদে পড়ে যাবেন ও চাকরি চলে যাবে। তিনি গত ২৮ আগস্ট কলেজের প্যাডে আমাকে পাগল বলে আখ্যায়িত করে একটি চিঠি পোস্ট মাধ্যমে আমার কাছে পাঠান। একই সঙ্গে অধ্যক্ষের সহযোগী শিক্ষক প্রতিনিধি বিধান ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান মো. নজরুল ইসলাম ও অফিস সহকারী বিপুল আমাকে হুমকি দিচ্ছেন অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য। এ বিষয়ে আমি থানায় জিডি করেছি। এ বিষয়ে কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি বিধান মুঠোফোনে বলেন এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলবো না। আপনি কলেজে আসেন সামনাসামনি কথা হবে। এ বিষয়ে জানার জন্য সহকারী লাইব্রেরিয়ানের নজরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে এক মহিলা ফোন রিসিভ করেন। অফিস সহকারী বিপুল সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ফোন কেটে দেন। এ বিষয় গুলো সরেজমিনে যাচাইয়ের জন্য কলেজে গিয়ে দেখা যায়, এরশাদ আলীর নিয়োগের রেজুলেশনে ফ্লুইট দিয়ে ঘষামাজা রয়েছে। রেজুলেশনে ফ্লুইট দেয়ার কারণ জানতে চাইলে অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং এরশাদ আলীর এমপিও করিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা নওগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ইংরেজি বিষয়ের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, তদন্তভার পাওয়ার পর আমি ওই প্রতিষ্ঠানে তদন্তে গিয়েছিলাম। তবে কলেজের অধ্যক্ষ সেদিন কলেজে উপস্থিত ছিলেন না। প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।