এখন ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডবলমুরিং থানা ও ডিবির নাম ভাঙ্গিয়ে অলির কোটি টাকার চাঁদাবাজি

বিশেষ সংবাদদাতা -ঃ ডবলমুরিং থানার এক আতংকের নাম অলি। অলির মাধ্যমে ডবলমুরিং থানা ও ডিবির নাম ভাঙ্গিয়ে কোটি টাকার চাঁদাবাজির শেষ কোথায়? এই যেন দিনে দুপুরে ডাকাতি। ক্যাশিয়ার সোর্স অলির চাঁদাবাজি আর অত্যাচারে ব্যাবসায়ীরা অতিষ্ঠ।
অভিযোগ আছে, টাকা না দিলে বলে, পুলিশ আর ডিবি দিয়ে উঠায় নিবো। আরো বলে, ব্যাবসা করলে নাকি দিতে হবে টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পতিতালয় থেকে শুরু করে, বাদ যাচ্ছেনা আবাসিক হোটেল, অব্যধ খোলা তেলের দোকান ও মাঝির ঘাট পুরা তেলের বাউচার, স্ক্রাপের দোকান ও টাওয়ার চুরি, সিএসডি গোডায়ন, পাহাড়তলি চালের বাজার, জোয়ার বোর্ড সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে থানার নাম ভাঙ্গিয়ে করছে চাঁদাবাজি।

আরো জানা যায়, প্রতি মাসে প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার ও বেশি, যা বছরে দাঁড়ায় কোটি টাকাও বেশি। এই যেনো আঙ্গুল পোলে কলা গাছ থানার ক্যাশিয়ার সোর্স অলি।
ডবলমুরিং গড়ে ওঠা প্রায় ৪০টির বেশি পতিতালয় ও ১০টির বেশি আবাসিক হোটেল। প্রতি মাসে পতিতালয় থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং আবাসিক হোটেল থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৭ হাজার টাকা দিতে হয় অলিকে।
১০০ ও বেশি স্ক্রাপের দোকান। প্রতিটি দোকান থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা প্রায়। যা মাসে দাঁড়ায় প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ও বেশি।
এদিকে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি করা টাওয়ার ও টাওয়ারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে আসা হয় নাজিরপোল ধোনিয়াপাড়া, বায়তুল শরীফ মসজিদের পাশে চোরায় মালামালের গোড়াউনে। এই চোরাই মালামালের গোড়াউন চলে ৬ জনের সিন্ডিকেটে। সিন্ডিকেট সদস্যরা হল জাবেদ, মুক্তার, রানা, মিন্টু, হারুন, ইমরান। এখান থেকে মাসোহারা হিসেবে অলিকে দেওয়া হয় প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।
১২ থেকে ১৫ টির অবৈধ খোলা তেলের দোকান থেকে মাসোহারা হিসেবে নেওয়া হয় প্রায় ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা।
ডবলমুরিং সিএসডি গোডাউন থেকে মাসোহারা হিসেবে নেওয়া হয় প্রায় ১৫ হাজার। দেশের সাধারণ মানুষের জন্য আসে সরকারী চাল, সেই সব সরকারী চাল অবৈধ ভাবে চলে যায় পাহাড়তলি চালের বাজারে। প্রতিটি চালান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পাহাড়তলিতে গড়ে উঠা সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ পলিথিননের গোডাউন হতে মাসোহারা হিসেবে নেওয়া প্রায় ১৫ হাজার টাকা।
নাম পরিচয় গোপন রেখে কিছু ব্যবসায়ী বলেন, অলির ডান ও বাম হাত হিসাবে পরিচিত মামুল ও বাবুল। এদের সাথে আরো আছে মামুন আর লিটন। তারা পুলিশের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি সহ নানান অপকর্ম করছে। প্রশাসনের সহযোগিতা না থাকলে কিভাবে এত অপকর্ম দেদারসে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। এদের অত্যাচারে সাধারণ জনগণ থেকে ব্যবসায়ী সকলেই অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। টাকা না দিলে বলে ব্যবসা বন্ধ করে দিবে, পুলিশের ভয় দেখায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং এর অর্জনসমূহ সমুন্নত রাখতে সরকার দুর্নীতি বিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখবে। কিন্তু একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হওয়ার পরেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হইনি প্রশাসনের পক্ষ হতে। তাইতো প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, তাহলে কি প্রশাসন জড়িত?
এদিকে অলি বলে বেড়ায় প্রশাসনের লোকদের মেনেজ করেই সে সব রকম কাজ করে, তাই প্রশাসনের কেউ তার টিকিটাও ছুয়ে দেখবেনা। উপর মহলে তার যোগাযোগ অনেক শক্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

ডবলমুরিং থানা ও ডিবির নাম ভাঙ্গিয়ে অলির কোটি টাকার চাঁদাবাজি

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:২৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

বিশেষ সংবাদদাতা -ঃ ডবলমুরিং থানার এক আতংকের নাম অলি। অলির মাধ্যমে ডবলমুরিং থানা ও ডিবির নাম ভাঙ্গিয়ে কোটি টাকার চাঁদাবাজির শেষ কোথায়? এই যেন দিনে দুপুরে ডাকাতি। ক্যাশিয়ার সোর্স অলির চাঁদাবাজি আর অত্যাচারে ব্যাবসায়ীরা অতিষ্ঠ।
অভিযোগ আছে, টাকা না দিলে বলে, পুলিশ আর ডিবি দিয়ে উঠায় নিবো। আরো বলে, ব্যাবসা করলে নাকি দিতে হবে টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পতিতালয় থেকে শুরু করে, বাদ যাচ্ছেনা আবাসিক হোটেল, অব্যধ খোলা তেলের দোকান ও মাঝির ঘাট পুরা তেলের বাউচার, স্ক্রাপের দোকান ও টাওয়ার চুরি, সিএসডি গোডায়ন, পাহাড়তলি চালের বাজার, জোয়ার বোর্ড সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে থানার নাম ভাঙ্গিয়ে করছে চাঁদাবাজি।

আরো জানা যায়, প্রতি মাসে প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার ও বেশি, যা বছরে দাঁড়ায় কোটি টাকাও বেশি। এই যেনো আঙ্গুল পোলে কলা গাছ থানার ক্যাশিয়ার সোর্স অলি।
ডবলমুরিং গড়ে ওঠা প্রায় ৪০টির বেশি পতিতালয় ও ১০টির বেশি আবাসিক হোটেল। প্রতি মাসে পতিতালয় থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং আবাসিক হোটেল থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৭ হাজার টাকা দিতে হয় অলিকে।
১০০ ও বেশি স্ক্রাপের দোকান। প্রতিটি দোকান থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা প্রায়। যা মাসে দাঁড়ায় প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ও বেশি।
এদিকে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি করা টাওয়ার ও টাওয়ারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে আসা হয় নাজিরপোল ধোনিয়াপাড়া, বায়তুল শরীফ মসজিদের পাশে চোরায় মালামালের গোড়াউনে। এই চোরাই মালামালের গোড়াউন চলে ৬ জনের সিন্ডিকেটে। সিন্ডিকেট সদস্যরা হল জাবেদ, মুক্তার, রানা, মিন্টু, হারুন, ইমরান। এখান থেকে মাসোহারা হিসেবে অলিকে দেওয়া হয় প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।
১২ থেকে ১৫ টির অবৈধ খোলা তেলের দোকান থেকে মাসোহারা হিসেবে নেওয়া হয় প্রায় ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা।
ডবলমুরিং সিএসডি গোডাউন থেকে মাসোহারা হিসেবে নেওয়া হয় প্রায় ১৫ হাজার। দেশের সাধারণ মানুষের জন্য আসে সরকারী চাল, সেই সব সরকারী চাল অবৈধ ভাবে চলে যায় পাহাড়তলি চালের বাজারে। প্রতিটি চালান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পাহাড়তলিতে গড়ে উঠা সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ পলিথিননের গোডাউন হতে মাসোহারা হিসেবে নেওয়া প্রায় ১৫ হাজার টাকা।
নাম পরিচয় গোপন রেখে কিছু ব্যবসায়ী বলেন, অলির ডান ও বাম হাত হিসাবে পরিচিত মামুল ও বাবুল। এদের সাথে আরো আছে মামুন আর লিটন। তারা পুলিশের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি সহ নানান অপকর্ম করছে। প্রশাসনের সহযোগিতা না থাকলে কিভাবে এত অপকর্ম দেদারসে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। এদের অত্যাচারে সাধারণ জনগণ থেকে ব্যবসায়ী সকলেই অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। টাকা না দিলে বলে ব্যবসা বন্ধ করে দিবে, পুলিশের ভয় দেখায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং এর অর্জনসমূহ সমুন্নত রাখতে সরকার দুর্নীতি বিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখবে। কিন্তু একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হওয়ার পরেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হইনি প্রশাসনের পক্ষ হতে। তাইতো প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, তাহলে কি প্রশাসন জড়িত?
এদিকে অলি বলে বেড়ায় প্রশাসনের লোকদের মেনেজ করেই সে সব রকম কাজ করে, তাই প্রশাসনের কেউ তার টিকিটাও ছুয়ে দেখবেনা। উপর মহলে তার যোগাযোগ অনেক শক্ত।