এখন ০৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বরূপকাঠি পৌরসভার ইতিহাস

মোঃ জহিরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি -ঃ স্বরূপকাঠি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি ছোট শহর। এটি বরিশাল বিভাগের অন্তর্গত পিরোজপুর জেলায় অবস্থিত স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) উপজেলার প্রধান শহর। প্রশাসনিকভাবে শহরটি স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) উপজেলার সদর দফতর। এটি জনসংখ্যার বিচারে পিরোজপুর জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। ১৭৯০ সালে পিরোজপুর থানার উত্তরাংশে কাউখালী গ্রামের কাছে কালীগঙ্গা নদীর তীরে কেওয়ারী গ্রামে কেওয়ারী নামে একটি থানা স্থাপিত হয় যা নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেলে ১৯০৬ সালে কেওয়ারী থানাকে স্থানান্তরিত করে স্বরূপকাঠীতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়। ১৯৮৩ সালে থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হলে এটি স্বরূপকাঠি উপজেলার শহর হিসেবে গঠিত হয়। ১৯৮৫ সালে স্বরূপকাঠি উপজেলার নাম বিতর্কিত ভাবে পরিবর্তন করে নেছারাবাদ রাখেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেন মুহম্মদ এরশাদ। ১৯৯৮ সালে স্বরূপকাঠি পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলে স্বরূপকাঠি পৌরশহরের মর্যাদা লাভ করে। স্বরূপকাঠি পৌরসভার আয়তন ৪.৯৮ বর্গ কিলোমিটার। ৯ টি ওয়ার্ড নিয়ে এ পৌরসভাটি গঠিত। এ ৯টি ওয়ার্ডে ৯ জন সাধারণ আসনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ৩ জন সংরক্ষিত আসনে মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। মাননীয় মেয়র ও সম্মানিত কাউন্সিলরগণ জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। এ পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম নেছারাবাদ স্বরূপকাঠি থানার আওতাধীন। এটি জাতীয় সংসদের ১২৭নং নির্বাচনী এলাকা। স্বরূপকাঠি পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ২০,০১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১০,৮৬৫ জন এবং মহিলা ৯,১৫৪ জন। মোট পরিবার ৩,৯৮৫টি। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী স্বরূপকাঠি পৌরসভার ১১ কিলোবাইট (৩০৯টি শব্দ)। স্বরূপকাঠী উপজেলার স্বাক্ষরতার হার শতকরা ৭৫.৬ শতাংশ। উচ্চ শিক্ষার জন্য উপজেলায় ১টি সরকারি কলেজ ও ১টি বেসরকারি মহিলা কলেজ এছাড়াও ৫ টি বেসরকারি কলেজ রয়েছে। এছাড়াও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪টি মাদ্রাসা রয়েছে। স্বরূপকাঠি পৌরসভার প্রতিনিধির নামসহ পদের কার্যকাল মোঃ দেলোয়ার হোসেন ফারুক মেয়র (তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান) ১৯৯৯-২০০৪, মোঃ মাহবুব আহসান মেয়র ২০০৪-২০১১, মোঃ দেলোয়ার হোসেন ফারুক মেয়র ২০১১-২০১৩, মোঃ শফিকুল ইসলাম ফরিদ মেয়র ৪ জুলাই,২০১৩ – ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, মোঃ গোলাম কবির মেয়র ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬- বর্তমানে আছে। ছারছীনা দরবার শরীফ ও মাদরাসা, সারেংকাঠী পিকনিক স্পট, পেয়ারা বাগান, আটঘর আমড়া বাগান, কুড়িয়ানা ভাসমান পেয়ারা বাজার, কুড়িয়ানা অনুকূল ঠাকুরের আশ্রম, হযরত শাহ কামাল এর মাজার শরীফ (সেহাংগল দরগাহ বাড়ি বলে থাকে) এই সব স্থান ও স্থাপনা স্বরূপকাঠিতে আছে। খাল-বিল-নদী-নালা পুরো অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌকা-ট্রলার। জেলার সাথে ২টি ফেরীর মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

স্বরূপকাঠি পৌরসভার ইতিহাস

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

মোঃ জহিরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি -ঃ স্বরূপকাঠি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি ছোট শহর। এটি বরিশাল বিভাগের অন্তর্গত পিরোজপুর জেলায় অবস্থিত স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) উপজেলার প্রধান শহর। প্রশাসনিকভাবে শহরটি স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) উপজেলার সদর দফতর। এটি জনসংখ্যার বিচারে পিরোজপুর জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। ১৭৯০ সালে পিরোজপুর থানার উত্তরাংশে কাউখালী গ্রামের কাছে কালীগঙ্গা নদীর তীরে কেওয়ারী গ্রামে কেওয়ারী নামে একটি থানা স্থাপিত হয় যা নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেলে ১৯০৬ সালে কেওয়ারী থানাকে স্থানান্তরিত করে স্বরূপকাঠীতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়। ১৯৮৩ সালে থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হলে এটি স্বরূপকাঠি উপজেলার শহর হিসেবে গঠিত হয়। ১৯৮৫ সালে স্বরূপকাঠি উপজেলার নাম বিতর্কিত ভাবে পরিবর্তন করে নেছারাবাদ রাখেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেন মুহম্মদ এরশাদ। ১৯৯৮ সালে স্বরূপকাঠি পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলে স্বরূপকাঠি পৌরশহরের মর্যাদা লাভ করে। স্বরূপকাঠি পৌরসভার আয়তন ৪.৯৮ বর্গ কিলোমিটার। ৯ টি ওয়ার্ড নিয়ে এ পৌরসভাটি গঠিত। এ ৯টি ওয়ার্ডে ৯ জন সাধারণ আসনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ৩ জন সংরক্ষিত আসনে মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। মাননীয় মেয়র ও সম্মানিত কাউন্সিলরগণ জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। এ পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম নেছারাবাদ স্বরূপকাঠি থানার আওতাধীন। এটি জাতীয় সংসদের ১২৭নং নির্বাচনী এলাকা। স্বরূপকাঠি পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ২০,০১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১০,৮৬৫ জন এবং মহিলা ৯,১৫৪ জন। মোট পরিবার ৩,৯৮৫টি। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী স্বরূপকাঠি পৌরসভার ১১ কিলোবাইট (৩০৯টি শব্দ)। স্বরূপকাঠী উপজেলার স্বাক্ষরতার হার শতকরা ৭৫.৬ শতাংশ। উচ্চ শিক্ষার জন্য উপজেলায় ১টি সরকারি কলেজ ও ১টি বেসরকারি মহিলা কলেজ এছাড়াও ৫ টি বেসরকারি কলেজ রয়েছে। এছাড়াও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪টি মাদ্রাসা রয়েছে। স্বরূপকাঠি পৌরসভার প্রতিনিধির নামসহ পদের কার্যকাল মোঃ দেলোয়ার হোসেন ফারুক মেয়র (তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান) ১৯৯৯-২০০৪, মোঃ মাহবুব আহসান মেয়র ২০০৪-২০১১, মোঃ দেলোয়ার হোসেন ফারুক মেয়র ২০১১-২০১৩, মোঃ শফিকুল ইসলাম ফরিদ মেয়র ৪ জুলাই,২০১৩ – ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, মোঃ গোলাম কবির মেয়র ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬- বর্তমানে আছে। ছারছীনা দরবার শরীফ ও মাদরাসা, সারেংকাঠী পিকনিক স্পট, পেয়ারা বাগান, আটঘর আমড়া বাগান, কুড়িয়ানা ভাসমান পেয়ারা বাজার, কুড়িয়ানা অনুকূল ঠাকুরের আশ্রম, হযরত শাহ কামাল এর মাজার শরীফ (সেহাংগল দরগাহ বাড়ি বলে থাকে) এই সব স্থান ও স্থাপনা স্বরূপকাঠিতে আছে। খাল-বিল-নদী-নালা পুরো অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌকা-ট্রলার। জেলার সাথে ২টি ফেরীর মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে।