আলিফ হোসেন, তানোর -ঃ রাজশাহীর তানোরের মুন্ডুমালা ভুমি অফিসে কমেছে হয়রানি, বেড়েছে সেবার মান। অসহায়ের মত দাঁড়িয়ে থাকা ফিকে একতলা পুরাতন একটি ভবন। কার্যালয়ের উঠান, বারান্দা, এমনকি ভেতরে টুল বা চেয়ারে বসা বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড়। কে দালাল আর কে এই কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী তা এক সময় বোঝা দায় ছিল। মুন্ডুমালা অফিসে দালালদের পেছনে ঘুরে ঘুরে জমির নামজারি বা বন্দোবস্তের কাজ করতে হতো। সাধারণ মানুষের মনে ছিল দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ-অসন্তোষ। অধিকাংশ সময় নামজারি আবেদন করে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে লেগে যেতো বছর। সেবা নিতে আসা মানুষের অভিযোগ,অনুযোগ আমলে নেওয়ার মত ছিল না কেও। এরকমই ছিল মুন্ডুমালা ভূমি অফিসের চিত্র।কিন্তু সেই চিত্র আর নেই। ভূমি কার্যালয় নিয়ে মানুষের নেতিবাচক ধারণা পাল্টে দিয়েছেন একজন। তিনি হলেন নায়েব (তহসিলদার) রাবিউল ইসলাম।
জানা গেছে, বিগত ২০২১ সালে তিনি যোগদানের পর ভূমি কর (রাজস্ব) আদায়ের পাশাপাশি মাত্র অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নামজারি কেস নিষ্পত্তি করে তাকে লাগিয়ে দিয়েছেন। একটা সময় যেখানে নিজের জমি খারিজ করতে সময় লাগবে ৬ মাস থেকে এক বছর সেই খারিজ সম্পূর্ণ করতে সময় লাগে মাত্র ২৮ থেকে ৪৫ দিন। মুন্ডুমালা ভূমি অফিসের চিরচেনা জটিলতা দূর করে দিয়েছে, এই একটি নাম কর্মকর্তা (তহসিলদার) রাবিউল ইসলাম। তিনি তার মেধা ও কর্ম দক্ষতা দিয়ে কাজ করে ইতিমধ্যে জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাপক সুনাম অর্জন ও পরিচিতি পেয়েছেন সাধারণ মানুষের কাছে। রাজশাহী জেলা প্রশাসক(ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে মুন্ডুমালা ভূমি অফিস থেকে অনিয়ম-দূর্নীতি প্রতিরোধ করে মডেল ভূমি অফিসে রুপান্তরিত করতে নিরলস ভাবে করে চলেছেন। এখন এই ভূমি অফিসের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে গতিশীল হয়েছে কাজ দুর হয়েছে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও ভোগান্তি, বেড়েছে সেবার মান।রাবিউল ইসলাম এখানে যোগদানের পর থেকে সাধারণ মানুষ কোনো হয়রানি ছাড়াই ভূমি অফিস থেকে কাঙ্খিত সেবা পেতে শুরু করেছে। ভূমি অফিস চত্ত্বরে ছিমছাম অনেকটা নিরিবিলি পরিবেশ। দালালচক্রের দৌরাত্ব নেই। সেবা প্রার্থীরা আসছেন, কাজ সারছেন যথারীতি বিদায় নিচ্ছেন। কোনো হয়রানি বা ভোগান্তি নেই। বেড়েছে সেবার মান। সার্বিক ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল সেবা প্রদান কার্যক্রম চালু হয়েছে এ কার্যালয়ে। উদ্যোগটি সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছে। ই-নামজারির কাজ চলছে পুরো উদ্যমে। এখন বিশ্বের যেকোনো স্থানে বসে অনলাইনে নামজারির জন্য আবেদন করতে পারবেন সেবাপ্রার্থীরা। স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইলে ফিরতি খুদে বার্তার মাধ্যমে তাকে নিশ্চিত করা হচ্ছে।ইউপি ভূমি কার্যালয়ে কথা হয় আব্দুল জব্বার নামের এক সেবাপ্রার্থীর সঙ্গে। তিনি জানান, আগে দালালের জন্য এ অফিসে ঢোকাই যেত না। আর এখন অফিসে কোনো দালাল নেই। আমরা সরাসরি এসে সরকারি ফি জমা দিয়ে অনলাইনে আবেদন করে সঠিক সময়ে সেবা পাচ্ছি। অন্য এক সেবাপ্রার্থী সাবিনা বললেন, ভূমি অফিসের কাজ মানেই দালালের দৌরাত্ম্য। দিনের পর দিন হয়রানি। কর্মচারীদের অবজ্ঞার পাশাপাশি বাড়তি খরচ। কিন্তু এখানে এসে আমার ধারণা পাল্টে গেছে। আর এই বদলের পেছনের মানুষটি হলেন নায়েব রাবিউল ইসলাম।এবিষয়ে ইউপি ভূমি অফিসের কর্মকর্তা (তহসিলদার) রাবিউল ইসলাম বলেন, এখানে যোগদানের পর আমি লক্ষ্য করি সহকারীদের টেবিলের সামনে সেবা প্রার্থীদের জটলা লেগেই থাকে এজন্য টোকেন সিস্টেম চালু করেছি যার একপাশে সহকারীদের নাম এবং অপর পাশে ক্রমিক নাম্বার দেওয়া রয়েছে। সেবা প্রার্থীরা নির্দিষ্ট সহকারীর কাছ থেকে আগমনের ক্রমিক অনুযায়ী টোকেন গ্রহণ করে অপেক্ষা করতে পারবেন। আমি সেবাপ্রার্থী ও সেবাদানকারীর মধ্যে ফারাক সৃষ্টির কোনো সুযোগ রাখিনি। তিনি আরো বলেন, ডিসি ও ইউএনও স্যারের নির্দেশে আধুনিক ও সেবামুখী ভূমি অফিস বিনির্মাণের প্রত্যয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত সময়ে সেবা প্রদানই আমার লক্ষ্য।













