এখন ০৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চকরিয়ার  শীর্ষ সন্ত্রাসী যুবদল ক্যাডারের বিরুদ্ধে ৩১ মামলা থেমে নেই অপকর্ম

এ,কে,এম বেলাল উদ্দিন, চকরিয়া -ঃ চকরিয়া খুটাখালীর শীর্ষ সন্ত্রাসী  যুবদল ক্যাডার ফারুক বাহিনীর অত্যাচারে  দুই গ্রামের পাঁচ হাজার মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি  ডাকাতিসহ ৩১ মামলার পলাতক আসামী কক্সবাজার জেলার চকরিয়া খুটাখালীর নুরুল আলম প্রকাশ বকি নুরুলের ছেলে ৬ নাম্বার ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি   ফারুকের নেতৃত্বে চলছে এলাকায়  ত্রাসের রাজত্ব। পুলিশ জানিয়েছে সেই ফারুক আন্ত বিভাগীয় ডাকাত দলের সদস্য।

স্থানীয় সুলতান আহমদ জানান,দূর দূরান্ত থেকে অচেনা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের জড়ো করে মাদার গর্জন ট্রি থেকে শুরু করে বনাঞ্চল উজাড় করছে ফারুক বাহিনী।ফিল্ম স্ট্যাইলে বিভিন্ন বসতবাড়ি ও দোকানে চালাচ্ছে ভাংচুর, লুটপাট ও ডাকাতি।তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করছে   সুন্দরী যুবতী ও গৃহ বধুদের।   ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ফারুকের এ অপকর্মের গড ফাদার হচ্ছে তার আপন চাচা জামায়াত নেতা শামসুল আলম।  যুবদল ক্যাডার ফারুক বাহিনীর  ভয়ে ইতিমধ্যে শতাধিক লোক গ্রাম ছেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।নারী লিপ্সু ফারুক ও তার বাহিনীর  কু কর্মের শিকার  এমনই দুই জন গৃহবধুর স্বামী স্থানীয় খুটাখালী সেগুন বাগিচা গ্রামের মোঃ আয়ুবের পুত্র  বেলাল ও আবদুল করিমের পুত্র  ইউনুচ এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন সম্প্রতি অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে তুলে নিয়ে গেছে তাদের ঘরের বউ।  অজ্ঞাত স্থানে রেখে তাদের ঘরের বউদের পালাক্রমে মাসের পর মাস করে   ধর্ষণ।  ফলে ইউনুচ ও বেলাল দুই জনের সোনার সংসার ভেঙে খান খান হয়ে গেছে। 

এ ব্যাপারে পৃথক পৃথক মামলা করা হয় ফারুক ও তার বাহিনীর সদস্যদের  বিরুদ্ধে। 

এলাকার এক গৃহবধু আরেফা বেগম এ প্রতিবেদককে জানান,তার যুবতী মেয়েকে কুখ্যাত  সন্ত্রাসী ফারুকের হাত থেকে ইজ্জত  বাচাঁনোর জন্য চট্টগ্রামে আত্মীয়ের বাসায় পাটিয়ে দিয়েছি।

তার এহেন অপকর্মের প্রতিবাদ মূখর গ্রামবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে খুন, ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, মাদকসহ ১৩টি জি আর,৫ টি সি আর ও ১৩ টি বন মামলা রয়েছে যুবদল ক্যাডার ডাকাত সর্দার ফারুকের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়রী করেছে স্থানীয় ২০/২৫ ব্যাক্তি। আর লিখিত অভিযোগকারীর সংখ্যা অর্ধ শতাধিক ভুক্তভোগী। 

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ডাকাত ফারুক তার ভাই  রাশেক ও তার সহযোগীদের ধরতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ গত ৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে পুলিশ খুটাখালীতে অভিযান চালালে কুখ্যাত দুর্ধর্ষ ফারুক ডাকাত খালে ঝাপ দিয়ে অবৈধ মোটর সাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়।পুলিশ মোটর সাইকেল টি জব্দ করে।

অন্যদিকে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, বনকর্মীরা স্বল্প লোকবল নিয়ে ডাকাত সন্ত্রাসীদের সাথে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে বনাঞ্চল পাহারা দিচ্ছে।বনখেকোদের বিরুদ্ধে  দিচ্ছে একের পর এক মামলা। খুটাখালীর ডাকাত সর্দর ফারুক ও তার সহযোগীরা বনাঞ্চল ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে বন বিভাগ এ পর্যন্ত ১৩ টি মামলা করে।তা সত্ত্বেও রাতের আঁধারে এ সব সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করা দূর্ভেধ্য হয়ে উঠছে। খুটাখালীর আওতাধীন ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে একাধিক বার বনখেকোদের ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছি।কয়েক মাস জেল খেটে বেরিয়ে এসে আবার ও  চলে তাদের রাম রাজত্ব।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

চকরিয়ার  শীর্ষ সন্ত্রাসী যুবদল ক্যাডারের বিরুদ্ধে ৩১ মামলা থেমে নেই অপকর্ম

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

এ,কে,এম বেলাল উদ্দিন, চকরিয়া -ঃ চকরিয়া খুটাখালীর শীর্ষ সন্ত্রাসী  যুবদল ক্যাডার ফারুক বাহিনীর অত্যাচারে  দুই গ্রামের পাঁচ হাজার মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি  ডাকাতিসহ ৩১ মামলার পলাতক আসামী কক্সবাজার জেলার চকরিয়া খুটাখালীর নুরুল আলম প্রকাশ বকি নুরুলের ছেলে ৬ নাম্বার ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি   ফারুকের নেতৃত্বে চলছে এলাকায়  ত্রাসের রাজত্ব। পুলিশ জানিয়েছে সেই ফারুক আন্ত বিভাগীয় ডাকাত দলের সদস্য।

স্থানীয় সুলতান আহমদ জানান,দূর দূরান্ত থেকে অচেনা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের জড়ো করে মাদার গর্জন ট্রি থেকে শুরু করে বনাঞ্চল উজাড় করছে ফারুক বাহিনী।ফিল্ম স্ট্যাইলে বিভিন্ন বসতবাড়ি ও দোকানে চালাচ্ছে ভাংচুর, লুটপাট ও ডাকাতি।তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করছে   সুন্দরী যুবতী ও গৃহ বধুদের।   ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ফারুকের এ অপকর্মের গড ফাদার হচ্ছে তার আপন চাচা জামায়াত নেতা শামসুল আলম।  যুবদল ক্যাডার ফারুক বাহিনীর  ভয়ে ইতিমধ্যে শতাধিক লোক গ্রাম ছেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।নারী লিপ্সু ফারুক ও তার বাহিনীর  কু কর্মের শিকার  এমনই দুই জন গৃহবধুর স্বামী স্থানীয় খুটাখালী সেগুন বাগিচা গ্রামের মোঃ আয়ুবের পুত্র  বেলাল ও আবদুল করিমের পুত্র  ইউনুচ এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন সম্প্রতি অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে তুলে নিয়ে গেছে তাদের ঘরের বউ।  অজ্ঞাত স্থানে রেখে তাদের ঘরের বউদের পালাক্রমে মাসের পর মাস করে   ধর্ষণ।  ফলে ইউনুচ ও বেলাল দুই জনের সোনার সংসার ভেঙে খান খান হয়ে গেছে। 

এ ব্যাপারে পৃথক পৃথক মামলা করা হয় ফারুক ও তার বাহিনীর সদস্যদের  বিরুদ্ধে। 

এলাকার এক গৃহবধু আরেফা বেগম এ প্রতিবেদককে জানান,তার যুবতী মেয়েকে কুখ্যাত  সন্ত্রাসী ফারুকের হাত থেকে ইজ্জত  বাচাঁনোর জন্য চট্টগ্রামে আত্মীয়ের বাসায় পাটিয়ে দিয়েছি।

তার এহেন অপকর্মের প্রতিবাদ মূখর গ্রামবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে খুন, ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, মাদকসহ ১৩টি জি আর,৫ টি সি আর ও ১৩ টি বন মামলা রয়েছে যুবদল ক্যাডার ডাকাত সর্দার ফারুকের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়রী করেছে স্থানীয় ২০/২৫ ব্যাক্তি। আর লিখিত অভিযোগকারীর সংখ্যা অর্ধ শতাধিক ভুক্তভোগী। 

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ডাকাত ফারুক তার ভাই  রাশেক ও তার সহযোগীদের ধরতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ গত ৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে পুলিশ খুটাখালীতে অভিযান চালালে কুখ্যাত দুর্ধর্ষ ফারুক ডাকাত খালে ঝাপ দিয়ে অবৈধ মোটর সাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়।পুলিশ মোটর সাইকেল টি জব্দ করে।

অন্যদিকে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, বনকর্মীরা স্বল্প লোকবল নিয়ে ডাকাত সন্ত্রাসীদের সাথে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে বনাঞ্চল পাহারা দিচ্ছে।বনখেকোদের বিরুদ্ধে  দিচ্ছে একের পর এক মামলা। খুটাখালীর ডাকাত সর্দর ফারুক ও তার সহযোগীরা বনাঞ্চল ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে বন বিভাগ এ পর্যন্ত ১৩ টি মামলা করে।তা সত্ত্বেও রাতের আঁধারে এ সব সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করা দূর্ভেধ্য হয়ে উঠছে। খুটাখালীর আওতাধীন ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে একাধিক বার বনখেকোদের ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছি।কয়েক মাস জেল খেটে বেরিয়ে এসে আবার ও  চলে তাদের রাম রাজত্ব।