এখন ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোরের কলমা ইউপিতে সালিসের নামে প্রহসণ

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) আলোচিত চেয়ারম্যান খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফের সালিস বাণিজ্যর অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার কলমা ইউপির বহাড়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তির পুত্র রাজিব হোসেনের সঙ্গে নাচোল উপজেলার জনৈক ব্যক্তির কন্যার প্রায় ১০ বছর পুর্বে একটি মোটরসাইকেল ও এক লাখ সাড়ে ৫ হাজার টাকা দেনমোহরে বিবাহ হয়।তাদের ঘরে ৮ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। স্থানীয় বে-সরকারি একটি স্কুলে রাজিবের স্ত্রী শিক্ষকতা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক ও অধ্যক্ষের ভাগ্নে শাহাদাৎ আলী সহকর্মী ওই নারী শিক্ষকের বাড়িতে যায়। কিন্ত্ত বাড়ীর লোকজন তাকে দেখতে পেলে সে প্রাচীর টপকে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় ওই নারী শিক্ষকের সঙ্গে পরোকিয়ার অভিযোগে শাহাদাৎ আলীকে আটক করে ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়।এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরী ও ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান ওই রাতেই বহাড়া গ্রামে রাজিব হোসেনের বাড়িতে সালিশ বৈঠক বসায়।সালিশ বৈঠকে রাজিবের স্ত্রী ও শাহাদাৎ আলীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং শাহাদাৎ আলীর এক লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করে সেই টাকা রাজিবের হাতে তুলে দেয়া হয় ও নারী শিক্ষকের শাস্তিস্বরুপ বিয়েতে তিনি রাজিবকে যে মোটরসাইকেল দিয়েছেন তা না দাবি করানো হয়। অপরদিকে জরিমানার এক লাখ ৭০ হাজার টাকার মধ্য এক লাখ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে রাজিবের স্ত্রীকে তালাক দেয়া হয় এবং বাকি টাকা সমাজ খরচ, পরিষদ খরচ, সালিস খরচ ও ক্ষতপুরুণসহ বিবিধখাতে খরচ দেখানো হয়েছে। সচেতন মহলের ভাষ্য অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে, শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তীতে জরিমানার টাকায়, তালাক দিয়ে একটা সংসার ভাঙা, এটা একটা দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির কাজ, তিনি কি এমন বিচার করতে পারেন ? নারী শিক্ষকের এক স্বজন জানান, জীবনে অনেক বিচার সালিশ করেছি দেখেছি। কিন্তু এটা বিচার ছিলনা এটা ছিল প্রহসন। কেন না ঘর ভাঙ্গা সহজ, কিন্তু ঘর সংসার করা কঠিন। অসমর্থিত সুত্র জানায়, বিনা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ঘর ভাঙার বেদনা সহ্য করতে না পেরে ওই নারী বাবার বাড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এখন পশ্ন হলো সালিসের কারণে যদি কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে তার দায় কি সালিসদারগণ নিবেন,যদি না নেন তাহলে বিচারের নামে অবিচার করলেন কেন ?
প্রসঙ্গত, এর আগেও এই চেয়ারম্যান ও মেম্বার ইউপির কেওয়াপাড়া গ্রামে যৌনহয়রানির অভিযোগে সালিসে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হলেও মাত্র ২০ হাজার টাকা ভিকটিমকে দিয়ে বাঁকি টাকা নয়ছয় করা হয়েছে বলেও আলোচনা রয়েছে। এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করেও ইউপি চেয়ারম্যান খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরীর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান সালিসের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সামাজিক বিচার-সালিস তারা করতে পারেন, জনগণের অনুরোধে তারা এই সালিস করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

তানোরের কলমা ইউপিতে সালিসের নামে প্রহসণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) আলোচিত চেয়ারম্যান খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফের সালিস বাণিজ্যর অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার কলমা ইউপির বহাড়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তির পুত্র রাজিব হোসেনের সঙ্গে নাচোল উপজেলার জনৈক ব্যক্তির কন্যার প্রায় ১০ বছর পুর্বে একটি মোটরসাইকেল ও এক লাখ সাড়ে ৫ হাজার টাকা দেনমোহরে বিবাহ হয়।তাদের ঘরে ৮ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। স্থানীয় বে-সরকারি একটি স্কুলে রাজিবের স্ত্রী শিক্ষকতা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক ও অধ্যক্ষের ভাগ্নে শাহাদাৎ আলী সহকর্মী ওই নারী শিক্ষকের বাড়িতে যায়। কিন্ত্ত বাড়ীর লোকজন তাকে দেখতে পেলে সে প্রাচীর টপকে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় ওই নারী শিক্ষকের সঙ্গে পরোকিয়ার অভিযোগে শাহাদাৎ আলীকে আটক করে ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়।এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরী ও ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান ওই রাতেই বহাড়া গ্রামে রাজিব হোসেনের বাড়িতে সালিশ বৈঠক বসায়।সালিশ বৈঠকে রাজিবের স্ত্রী ও শাহাদাৎ আলীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং শাহাদাৎ আলীর এক লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করে সেই টাকা রাজিবের হাতে তুলে দেয়া হয় ও নারী শিক্ষকের শাস্তিস্বরুপ বিয়েতে তিনি রাজিবকে যে মোটরসাইকেল দিয়েছেন তা না দাবি করানো হয়। অপরদিকে জরিমানার এক লাখ ৭০ হাজার টাকার মধ্য এক লাখ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে রাজিবের স্ত্রীকে তালাক দেয়া হয় এবং বাকি টাকা সমাজ খরচ, পরিষদ খরচ, সালিস খরচ ও ক্ষতপুরুণসহ বিবিধখাতে খরচ দেখানো হয়েছে। সচেতন মহলের ভাষ্য অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে, শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তীতে জরিমানার টাকায়, তালাক দিয়ে একটা সংসার ভাঙা, এটা একটা দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির কাজ, তিনি কি এমন বিচার করতে পারেন ? নারী শিক্ষকের এক স্বজন জানান, জীবনে অনেক বিচার সালিশ করেছি দেখেছি। কিন্তু এটা বিচার ছিলনা এটা ছিল প্রহসন। কেন না ঘর ভাঙ্গা সহজ, কিন্তু ঘর সংসার করা কঠিন। অসমর্থিত সুত্র জানায়, বিনা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ঘর ভাঙার বেদনা সহ্য করতে না পেরে ওই নারী বাবার বাড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এখন পশ্ন হলো সালিসের কারণে যদি কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে তার দায় কি সালিসদারগণ নিবেন,যদি না নেন তাহলে বিচারের নামে অবিচার করলেন কেন ?
প্রসঙ্গত, এর আগেও এই চেয়ারম্যান ও মেম্বার ইউপির কেওয়াপাড়া গ্রামে যৌনহয়রানির অভিযোগে সালিসে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হলেও মাত্র ২০ হাজার টাকা ভিকটিমকে দিয়ে বাঁকি টাকা নয়ছয় করা হয়েছে বলেও আলোচনা রয়েছে। এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করেও ইউপি চেয়ারম্যান খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরীর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান সালিসের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সামাজিক বিচার-সালিস তারা করতে পারেন, জনগণের অনুরোধে তারা এই সালিস করেছেন।