এখন ০৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাইপিষ্ট থেকে অডিটর, রব এর বিরুদ্ধে ঘুষ- দূর্নীতির অভিযোগ

দেলোয়ার হোসেন, পটুয়াখালী -ঃ পটুয়াখালী জেলা একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসের অডিটর আবদুর রব এর বিরুদ্ধে ঘুষ, দূর্নীতিসহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ। প্রতিকারে বাংলাদেশ কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, পটুয়াখালী জেলা একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসের অডিটর আবদুর রব ১৯৯০ সালের ১১ জানুয়ারী টাইপিষ্ট পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে শুরু করেন নানা অনৈতিক কর্মকান্ড ১৯৯৭ সালে কলাপাড়ায় চাকুরী করার সময় জি,পিএফ হিসাবে ১০ হাজার টাকা ও চালান তার নিকট জমা দিলে সোনালী ব্যাংক কলাপাড়া শাখায় টাকা জমা না দিয়ে নিজের ভূয়া স্বাক্ষর দিয়ে গ্রাহককে চালান কপি প্রদান করেন। পরবর্তীতে উহা যাচাই করে টাকা ব্যাংকে জমা করেন নাই মর্মে জালিয়াতি প্রমানিত হইলে কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল এর দঃওশৃ/১০২৮/১১০২(৬) তারিখ- ২৯/১২/১৯৯৭ স্মারক মোতাবেক আবদুর রবকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরে নানা চেস্টা তদবিরের মাধ্যমে সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। তবে ওই আদেশে উল্লেখ করা হয় তাকে (আবদুর রব) ননপেমেন্ট অফিসে পদায়ন করতে হবে এবং তৎকালীন সময়ে আবদুর রব পেমেন্ট অফিসে পদায়ন গ্রহন করেন। এ সব ঘটনার পরেও সুচতুর আবদুর রব ২০১৫ সালে অডিটর পদে পদোন্নতি লাভ করেন। আর শুরু করেন অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন। অডিটর হারুন অর-রশিদ কর্তৃক ভায়লা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেওয়ান আনোয়ার হোসেনকে দেয়া টাইমস্কেল বাতিল করে আবদুর রব নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দেওয়ান আনোয়ার হোসেনকে প্রধান শিক্ষক হিসাবে করেসপন্ডিং স্কেল প্রদান করেন। এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাড়ী চালক মোঃ নিজাম উদ্দিনকে রাজস্বখাত গণনা করে ডিএও কাজী মিজানুর রহমান একটি টাইমস্কেল প্রদান করেন। তবে উন্নয়নখাত গণনা করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় টাইমস্কেল প্রদান না করলেও আবদুর রব অবৈধভাবে নিজাম উদ্দিনকে উন্নয়ন ও রাজস্বখাত গণনা করে দ্বিতীয় টাইমস্কেল প্রদান করেন।
অপরদিকে ১০-১০-২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নিয়ম-বর্হিভূতভাবে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টাইম স্কেল প্রদান, নব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেলসহ করেসপন্ডিং স্কেল প্রদান ও এলজিইডিসহ একাধিক দপ্তরের কর্মচারীদের উন্নয়ন ও রাজস্বখাত গণনা করে টাইমস্কেল প্রদান করে হাতিয়ে নিয়েছেন কারি কারি টাকা। এই অবৈধ অর্থ দিয়ে আবদুর রব পটুয়াখালী শহরে নির্মান করেছেন পাঁচ তলা বিশিষ্ঠ বিলাশ বহুল বাড়ী, বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে কিনেছেন জমি। নারী কেলেংকারীর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসের অডিটর আবদুর রব বলেন, সরকারী নিয়মের বাহিরে আমি কিছুই করি নাই। তবে ১৯৯৭ সালে ১০ হাজার আতœসাত বিষয়ে তিনি বলেন, টাকা ব্যাংকে জমা দিতে দেরি হওয়ায় অফিসের কিছু লোকের বারা-বারির কারণে ঘটনাটি ঘটেছিল। তবে ওই সময় দুইটি ইনক্রিমেন্ট স্থগিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

টাইপিষ্ট থেকে অডিটর, রব এর বিরুদ্ধে ঘুষ- দূর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ অগাস্ট ২০২২

দেলোয়ার হোসেন, পটুয়াখালী -ঃ পটুয়াখালী জেলা একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসের অডিটর আবদুর রব এর বিরুদ্ধে ঘুষ, দূর্নীতিসহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ। প্রতিকারে বাংলাদেশ কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, পটুয়াখালী জেলা একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসের অডিটর আবদুর রব ১৯৯০ সালের ১১ জানুয়ারী টাইপিষ্ট পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে শুরু করেন নানা অনৈতিক কর্মকান্ড ১৯৯৭ সালে কলাপাড়ায় চাকুরী করার সময় জি,পিএফ হিসাবে ১০ হাজার টাকা ও চালান তার নিকট জমা দিলে সোনালী ব্যাংক কলাপাড়া শাখায় টাকা জমা না দিয়ে নিজের ভূয়া স্বাক্ষর দিয়ে গ্রাহককে চালান কপি প্রদান করেন। পরবর্তীতে উহা যাচাই করে টাকা ব্যাংকে জমা করেন নাই মর্মে জালিয়াতি প্রমানিত হইলে কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল এর দঃওশৃ/১০২৮/১১০২(৬) তারিখ- ২৯/১২/১৯৯৭ স্মারক মোতাবেক আবদুর রবকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরে নানা চেস্টা তদবিরের মাধ্যমে সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। তবে ওই আদেশে উল্লেখ করা হয় তাকে (আবদুর রব) ননপেমেন্ট অফিসে পদায়ন করতে হবে এবং তৎকালীন সময়ে আবদুর রব পেমেন্ট অফিসে পদায়ন গ্রহন করেন। এ সব ঘটনার পরেও সুচতুর আবদুর রব ২০১৫ সালে অডিটর পদে পদোন্নতি লাভ করেন। আর শুরু করেন অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন। অডিটর হারুন অর-রশিদ কর্তৃক ভায়লা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেওয়ান আনোয়ার হোসেনকে দেয়া টাইমস্কেল বাতিল করে আবদুর রব নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দেওয়ান আনোয়ার হোসেনকে প্রধান শিক্ষক হিসাবে করেসপন্ডিং স্কেল প্রদান করেন। এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাড়ী চালক মোঃ নিজাম উদ্দিনকে রাজস্বখাত গণনা করে ডিএও কাজী মিজানুর রহমান একটি টাইমস্কেল প্রদান করেন। তবে উন্নয়নখাত গণনা করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় টাইমস্কেল প্রদান না করলেও আবদুর রব অবৈধভাবে নিজাম উদ্দিনকে উন্নয়ন ও রাজস্বখাত গণনা করে দ্বিতীয় টাইমস্কেল প্রদান করেন।
অপরদিকে ১০-১০-২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নিয়ম-বর্হিভূতভাবে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টাইম স্কেল প্রদান, নব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেলসহ করেসপন্ডিং স্কেল প্রদান ও এলজিইডিসহ একাধিক দপ্তরের কর্মচারীদের উন্নয়ন ও রাজস্বখাত গণনা করে টাইমস্কেল প্রদান করে হাতিয়ে নিয়েছেন কারি কারি টাকা। এই অবৈধ অর্থ দিয়ে আবদুর রব পটুয়াখালী শহরে নির্মান করেছেন পাঁচ তলা বিশিষ্ঠ বিলাশ বহুল বাড়ী, বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে কিনেছেন জমি। নারী কেলেংকারীর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসের অডিটর আবদুর রব বলেন, সরকারী নিয়মের বাহিরে আমি কিছুই করি নাই। তবে ১৯৯৭ সালে ১০ হাজার আতœসাত বিষয়ে তিনি বলেন, টাকা ব্যাংকে জমা দিতে দেরি হওয়ায় অফিসের কিছু লোকের বারা-বারির কারণে ঘটনাটি ঘটেছিল। তবে ওই সময় দুইটি ইনক্রিমেন্ট স্থগিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।