এখন ০৪:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিবন্ধী কার্ড এর মাধ্যমে আদালতে’কে ধোঁকা দিয়া জামিনে মুক্তি পেয়ে বাদীনির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও সাক্ষীরদের প্রাণনাশের হুমকি

নুর আলম, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড় -ঃ ছবিতে প্রদর্শিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থানাধীন ৩নং তেঁতুলিয়া ইউপি পরিষদ এর ৬নং ওয়ার্ডের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। নাম: মোঃ জমির হোসেন, পিতা- মৃত: কোরবান আলী, সাং- ডাঙ্গাপাড়া, থানা- তেঁতুলিয়া, জেলা- পঞ্চগড়। প্রতিবন্ধী আইডি নং- ৭৭১৭০৮১৬২৪৮৫৫-০৫।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, জমাজমির বিরোধের কারণে গত ২৬/০৫/২০২২ইং তারিখে মোঃ জমির হোসেন ভোর ৪.৩০ ঘটিকায় বাবলু হোসেন, পিতা- মৃত: আরফান আলী’কে নামাজ পড়ার কথা বলে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েএকাধিক মামলার আসামি বিপ্লব @বিল্লু সহ তাদের দলভুক্ত লোকজন পরিকল্পিত ভাবে বাবলুকে হত্যা করে বিল্লুর নিজ দখলীয় চা-বাগানে সীমানায় একটি আম গাছের সরু ডালে ঝুলিয়ে রাখলে মৃত: বাবলুর স্ত্রী মোছাঃ হাসিনা বেগম উক্ত মোঃ জমির হোসেন ও বিল্লু সহ ১৭ জনকে আসামী করে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় জি.আর ৮৫/২২ নং হত্যা মামলা আনয়ন করিলে থানা পুলিশ মোঃ জমির হোসেন, বিপ্লব, বেলাল ও দুলাল সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন । উক্ত মামলায় মোঃ জমির হোসেন জেল হাজতে থাকাকালীন মোঃ জমির হোসেনের প্রতিবন্ধী কার্ডে লিখিত বাক প্রতিবন্ধীতা লিখাকে পুঁজি করে তার পক্ষের আইনজীবী মোঃ আঃ কুদ্দুস বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চগড় আদালতে জামিনে মুক্তির জন্য কয়েক দফায় আবেদন করেন। উক্ত আবেদনে আইনজীবী মোঃ আঃ কুদ্দুস উল্লেখ্য করেন যে, আসামী মোঃ জমির হোসেন একজন বোবা ব্যক্তি হইতেছেন। সে কথা বলতে পারে না এবং নিজেও নামাজ পরে না, কাউকে নামাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে যাওয়া প্রশ্নই উঠে না মর্মে মোঃ জমির হোসেন’কে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবী করিয়া তার জামিন মঞ্জুরের জন্য আবেদন করেন। গত ০৭/০৭/২০২২ইং তারিখে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালত উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং কৌশলী আইনজীবীর বক্তব্য শ্রবণান্তে বিজ্ঞ আদালত মোঃ জমির হোসেনের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত হতে জামিনে মুক্তি লাভের পর মোঃ জমির হোসেন গত ২৭/০৭/২০২২ইং তারিখে হত্যা মামলার বাদীনি মোছাঃ হাসিনা বেগম’কে মামলা তুলে নিতে বাধ্য করার পরিকল্পনায় মোছাঃ হাসিনা বেগম সহ ১৪ জনকে আসামী করে আইনজীবী মোঃ আঃ কুদ্দুসের মাধ্যমে বিজ্ঞ আমলী আদালত (৪) পঞ্চগড় মিথ্যা ঘটনা বর্ণনা করে ৫৬২/২২নং পিটিশন মামলা আনয়ন করেন। বিজ্ঞ আদালত ঘটনার বিষয়বস্তু মোঃ জমির হোসেনের মুখে শ্রবণ করিয়া উক্ত ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তেঁতুলিয়া থানা’কে আদেশ প্রদান করেন। যাহা বর্তমানে তদন্তনাধীন রহিয়াছে। তেঁতুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ চৌধুরী, মোঃ জমির হোসেন কর্তৃক মিথ্যা মামলা করার বিষয়টি স্বীকার করেন।
প্রকৃত পক্ষে- মোঃ জমির হোসেন একজন শিক্ষিত ও স্বচ্ছল ব্যক্তি। সে সস্পস্ট ভাবে কথা বলতেও পারে এবং শুনতেও পারে। জন্মগত কারণে তার উপরের ঠোট কাটা থাকায় তার নামে গত ১৭/০৭/২০১৬ইং তারিখে প্রতিবন্ধী কার্ড ইস্যু করা হয়েছে বলে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শাহ মোঃ আল আমিন জানান। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শাহ মোঃ আল আমিন-এর ভাষ্য মতে সকল বাক প্রতিবন্ধী কার্ডধারী ব্যক্তি যে বোবা তা নয়। বাক প্রতিবন্ধী সাধারণত তীব্র, মৃদু ও মাঝারি এই তিন ক্যাটাগরির হয়ে থাকে। যাহার মধ্যে মোঃ জমির হোসেনের তথ্য নং- ৫৫৭৫৯০৮১২০-২৪৪৪৭৭ অনুযায়ী সে মাঝারি ধরণের কথা বলতে পারা বাক প্রতিবন্ধী বলে সত্যতা স্বীকার করেন। এই প্রসঙ্গে ৩নং ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ করিম সিদ্দিকি ও ৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ আঃ হানিফ, মোঃ জমির হোসেনের কথা বলতে পারা ও শুনতে পারার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিভাবে এবং কাহারা মোঃ জমির হোসেনের নামে বাক প্রতিবন্ধী কার্ড ইস্যু করেছে এ বিষয়ে তাহারা কিছুই জানেন না। মোঃ জমির হোসেন কর্তৃক ৫৬২/২২নং মিথ্যা মামলা আনয়ন ও হত্যা মামলার বিষয়ে বিভিন্ন ধরণের অশালিন ও অবাস্তব কথাবার্তা বলে বেরানো সহ হত্যা মামলা বাদীনি ও স্বাক্ষীদের সত্য স্বাক্ষী দিলে তাদেরকেও মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও প্রাণনাশের হুমকি সহ বিভিন্ন হুমকি প্রদান করার কারণে এলাকাবাসী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে এক ধরণের ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করিতেছে। এমতাবস্থায় মোঃ জমির হোসেনের প্রতিবন্ধী কার্ড বাতিল করা সহ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আলী আকবর, বজলু,কামাল, লোকমান শাহীন, নূর হোসেন সহ এলাকাবাসী জোর দাবী জানাচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

প্রতিবন্ধী কার্ড এর মাধ্যমে আদালতে’কে ধোঁকা দিয়া জামিনে মুক্তি পেয়ে বাদীনির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও সাক্ষীরদের প্রাণনাশের হুমকি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৫৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ অগাস্ট ২০২২

নুর আলম, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড় -ঃ ছবিতে প্রদর্শিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থানাধীন ৩নং তেঁতুলিয়া ইউপি পরিষদ এর ৬নং ওয়ার্ডের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। নাম: মোঃ জমির হোসেন, পিতা- মৃত: কোরবান আলী, সাং- ডাঙ্গাপাড়া, থানা- তেঁতুলিয়া, জেলা- পঞ্চগড়। প্রতিবন্ধী আইডি নং- ৭৭১৭০৮১৬২৪৮৫৫-০৫।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, জমাজমির বিরোধের কারণে গত ২৬/০৫/২০২২ইং তারিখে মোঃ জমির হোসেন ভোর ৪.৩০ ঘটিকায় বাবলু হোসেন, পিতা- মৃত: আরফান আলী’কে নামাজ পড়ার কথা বলে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েএকাধিক মামলার আসামি বিপ্লব @বিল্লু সহ তাদের দলভুক্ত লোকজন পরিকল্পিত ভাবে বাবলুকে হত্যা করে বিল্লুর নিজ দখলীয় চা-বাগানে সীমানায় একটি আম গাছের সরু ডালে ঝুলিয়ে রাখলে মৃত: বাবলুর স্ত্রী মোছাঃ হাসিনা বেগম উক্ত মোঃ জমির হোসেন ও বিল্লু সহ ১৭ জনকে আসামী করে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় জি.আর ৮৫/২২ নং হত্যা মামলা আনয়ন করিলে থানা পুলিশ মোঃ জমির হোসেন, বিপ্লব, বেলাল ও দুলাল সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন । উক্ত মামলায় মোঃ জমির হোসেন জেল হাজতে থাকাকালীন মোঃ জমির হোসেনের প্রতিবন্ধী কার্ডে লিখিত বাক প্রতিবন্ধীতা লিখাকে পুঁজি করে তার পক্ষের আইনজীবী মোঃ আঃ কুদ্দুস বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চগড় আদালতে জামিনে মুক্তির জন্য কয়েক দফায় আবেদন করেন। উক্ত আবেদনে আইনজীবী মোঃ আঃ কুদ্দুস উল্লেখ্য করেন যে, আসামী মোঃ জমির হোসেন একজন বোবা ব্যক্তি হইতেছেন। সে কথা বলতে পারে না এবং নিজেও নামাজ পরে না, কাউকে নামাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে যাওয়া প্রশ্নই উঠে না মর্মে মোঃ জমির হোসেন’কে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবী করিয়া তার জামিন মঞ্জুরের জন্য আবেদন করেন। গত ০৭/০৭/২০২২ইং তারিখে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালত উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং কৌশলী আইনজীবীর বক্তব্য শ্রবণান্তে বিজ্ঞ আদালত মোঃ জমির হোসেনের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত হতে জামিনে মুক্তি লাভের পর মোঃ জমির হোসেন গত ২৭/০৭/২০২২ইং তারিখে হত্যা মামলার বাদীনি মোছাঃ হাসিনা বেগম’কে মামলা তুলে নিতে বাধ্য করার পরিকল্পনায় মোছাঃ হাসিনা বেগম সহ ১৪ জনকে আসামী করে আইনজীবী মোঃ আঃ কুদ্দুসের মাধ্যমে বিজ্ঞ আমলী আদালত (৪) পঞ্চগড় মিথ্যা ঘটনা বর্ণনা করে ৫৬২/২২নং পিটিশন মামলা আনয়ন করেন। বিজ্ঞ আদালত ঘটনার বিষয়বস্তু মোঃ জমির হোসেনের মুখে শ্রবণ করিয়া উক্ত ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তেঁতুলিয়া থানা’কে আদেশ প্রদান করেন। যাহা বর্তমানে তদন্তনাধীন রহিয়াছে। তেঁতুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ চৌধুরী, মোঃ জমির হোসেন কর্তৃক মিথ্যা মামলা করার বিষয়টি স্বীকার করেন।
প্রকৃত পক্ষে- মোঃ জমির হোসেন একজন শিক্ষিত ও স্বচ্ছল ব্যক্তি। সে সস্পস্ট ভাবে কথা বলতেও পারে এবং শুনতেও পারে। জন্মগত কারণে তার উপরের ঠোট কাটা থাকায় তার নামে গত ১৭/০৭/২০১৬ইং তারিখে প্রতিবন্ধী কার্ড ইস্যু করা হয়েছে বলে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শাহ মোঃ আল আমিন জানান। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শাহ মোঃ আল আমিন-এর ভাষ্য মতে সকল বাক প্রতিবন্ধী কার্ডধারী ব্যক্তি যে বোবা তা নয়। বাক প্রতিবন্ধী সাধারণত তীব্র, মৃদু ও মাঝারি এই তিন ক্যাটাগরির হয়ে থাকে। যাহার মধ্যে মোঃ জমির হোসেনের তথ্য নং- ৫৫৭৫৯০৮১২০-২৪৪৪৭৭ অনুযায়ী সে মাঝারি ধরণের কথা বলতে পারা বাক প্রতিবন্ধী বলে সত্যতা স্বীকার করেন। এই প্রসঙ্গে ৩নং ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ করিম সিদ্দিকি ও ৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ আঃ হানিফ, মোঃ জমির হোসেনের কথা বলতে পারা ও শুনতে পারার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিভাবে এবং কাহারা মোঃ জমির হোসেনের নামে বাক প্রতিবন্ধী কার্ড ইস্যু করেছে এ বিষয়ে তাহারা কিছুই জানেন না। মোঃ জমির হোসেন কর্তৃক ৫৬২/২২নং মিথ্যা মামলা আনয়ন ও হত্যা মামলার বিষয়ে বিভিন্ন ধরণের অশালিন ও অবাস্তব কথাবার্তা বলে বেরানো সহ হত্যা মামলা বাদীনি ও স্বাক্ষীদের সত্য স্বাক্ষী দিলে তাদেরকেও মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও প্রাণনাশের হুমকি সহ বিভিন্ন হুমকি প্রদান করার কারণে এলাকাবাসী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে এক ধরণের ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করিতেছে। এমতাবস্থায় মোঃ জমির হোসেনের প্রতিবন্ধী কার্ড বাতিল করা সহ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আলী আকবর, বজলু,কামাল, লোকমান শাহীন, নূর হোসেন সহ এলাকাবাসী জোর দাবী জানাচ্ছেন।