এখন ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভালুকায় গৃহবধূকে নির্যাতন করার
অভিযোগ, থানায় মামলা দায়ের

আফরোজা আক্তার জবা, ভালুকা প্রতিনিধি -ঃ যৌতুক ও নারী লোভী এক পাষন্ড স্বামী যৌতুক ও দ্বিতীয় বিয়ের অনুমুতির দাবিতে নিজের স্ত্রী মোছা. ঝর্না খানম (৩২) কে ২০ বছর যাবত মানষিক ও শারীরিক ভাবে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তার স্বামী লুৎফর রহমান দ্বিতীয় বিয়ে করে বউকে বাড়িতে নিয়ে আসে। ঝর্না এর প্রতিবাদ করায় সবশেষ গত ২২ আগষ্ট স্বামী ও তার পরিবারের অন্যান্যরা গৃহবধু ঝর্না খানমকে ব্যাপক মারধর করে ঘরে আটকে রাখে। এ ঘটনা ঝর্না তার বোনকে ফোনে জানালে, তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ঝর্না খানম বাদি হয়ে গত ২৫ আগষ্ট নারী নির্যাতন ও যৌতুক আইনে ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানাযায়, উপজেলার মেদুয়ারী গ্রামের উত্তরপাড়ার
মৃত জোনাব আলীর ছেলে লুৎফর রহমানে (৪০) সাথে ২০ বছর পূর্বে সাতেঙ্গা
গ্রামের মোবারক হোসেন খানের মেয়ে ঝর্না খানমের আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়।
বিয়ের সময় বাবা মোবারক হোসেন খান মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে চার ভরি
ওজনের স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রসহ চার লক্ষাধিক টাকার জিনিসপত্র উপহার
হিসেবে দেন। বিয়ের কিছুদিন তাদের সংসার বেশ সুখে-শান্তিততে কাটছিল।
এর কিছুদিন পর থেকেই ¯স্বামীসহ যৌতুক লোভী ওই পরিবারের লোকজন ঝর্নাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে তার বাবার বাড়ী থেকে টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। ঝর্না এতে সম্মতি না হলে, তার উপর শুরু হতো মানষিক ও
শারীরিক নির্যাতন। কিছুদিন আগে বাড়ির অন্যান্য সদস্যেদের পরামর্শে ঝর্নার
স্বামী আরও ৫ লাখ টাকা তার বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে চাপ সৃষ্টিসহ
মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে তার স্বামী লুৎফর রহমানকে
অন্যত্র বিয়ে করানোর জন্য তার পরিবারের লোকজন উঠে পরে লাগে। মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে. গৃহবধু ঝর্না এক পর্যায়ে বিষয়টি তার পরিবারকে জানান। অসহায় বৃদ্ধ বাবা ও পরিবারের লোকজন ঝর্নার সুখের কথা চিন্তা করে জামাই লুৎফরকে বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রথমে ৩ লাখ ও পরে আরও ২ লাখসহ মোট পাঁচ লাখ টাকা দেন। কিন্তু ওই টাকা বিভিন্ন কাজে খরচ করে
কিছুদিন পর আবারো ৫ লাখ টাকার জন্য ঝর্নার উপর চাপ সৃষ্টিসহ শারীরিক ও
মানসিক নির্যাতন শুরু করে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। এমনকি স্বামী লুৎফর রহমান প্রথম স্ত্রী ঝর্না খানমের অনুমতি ছাড়াই পরিবারের অন্যান্য লোকদের পরামর্শে দ্বিতীয় বিয়ে করে। ঘটনাটি ঝর্নার পরিবার জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ভাবে সালিশ বসে মীমাংসার পর ঝর্না আবারো ঘর সংসার শুরু করেন। গত ২২ আগস্ট দুপুরে তার স্বামী ব্যবসা করার জন্য তাকে বাবার বাড়ি থেকে আবারোও ৫ লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এতে সে অস্বীকৃতি প্রকাশ করলে, তার স্বামী ও পরিবারের অন্যান্যরা ঝর্নাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্বক আহত করে ফেলে রাখে। পরে ঝর্নার জ্ঞান ফিরলে সে মোবাইলে তার বড় বোন লাভলী আক্তারকে বিষয়টি জানালে তিনি আহত অবস্থায় ঝর্নাকে উদ্ধার করে
ভালুকা ৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঝর্না খানম জানান, সংসারে সুখের কথা চিন্তা করে ও স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার হুমকির কারনে, বিয়ের ২০ বছরে কয়েক দফায় বাবার বাড়ি থেকে নগদ টাকাসহ প্রায় ৯ লাখ টাকার জিনিসপত্র আনা হয়েছে। তারপরও তার স্বামী দ্বিতীয়
বিয়ে করেন এবং দিনের পর দিন তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে তিনি স্বামীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের জন্য মারধর করার অভিযোগে মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা রুজুর পর গ্রেফতার এড়াতে ঝর্নার স্বামী ও অন্যান্য আসামীরা আত্ম গোপনে রয়েছে। বার বার চেষ্টা করেও ঝর্নার স্বামী সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সরেজমিন উপজেলার মেদুয়ারী গ্রামে ঝর্নার স্বামীর বাড়িতে গেলে বাড়ির মহিলারা পুলিশ ভেবে ভয়ে পালিয়ে যায়।
ভালুকা মডেল থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে ঝর্না খানম বাদি হয়ে ভালুকা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী ২০০৩ এর ১১ (গ)/৩০ ও যৌতুকের দাবীতে মারপিট আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

ভালুকায় গৃহবধূকে নির্যাতন করার
অভিযোগ, থানায় মামলা দায়ের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২২

আফরোজা আক্তার জবা, ভালুকা প্রতিনিধি -ঃ যৌতুক ও নারী লোভী এক পাষন্ড স্বামী যৌতুক ও দ্বিতীয় বিয়ের অনুমুতির দাবিতে নিজের স্ত্রী মোছা. ঝর্না খানম (৩২) কে ২০ বছর যাবত মানষিক ও শারীরিক ভাবে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তার স্বামী লুৎফর রহমান দ্বিতীয় বিয়ে করে বউকে বাড়িতে নিয়ে আসে। ঝর্না এর প্রতিবাদ করায় সবশেষ গত ২২ আগষ্ট স্বামী ও তার পরিবারের অন্যান্যরা গৃহবধু ঝর্না খানমকে ব্যাপক মারধর করে ঘরে আটকে রাখে। এ ঘটনা ঝর্না তার বোনকে ফোনে জানালে, তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ঝর্না খানম বাদি হয়ে গত ২৫ আগষ্ট নারী নির্যাতন ও যৌতুক আইনে ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানাযায়, উপজেলার মেদুয়ারী গ্রামের উত্তরপাড়ার
মৃত জোনাব আলীর ছেলে লুৎফর রহমানে (৪০) সাথে ২০ বছর পূর্বে সাতেঙ্গা
গ্রামের মোবারক হোসেন খানের মেয়ে ঝর্না খানমের আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়।
বিয়ের সময় বাবা মোবারক হোসেন খান মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে চার ভরি
ওজনের স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রসহ চার লক্ষাধিক টাকার জিনিসপত্র উপহার
হিসেবে দেন। বিয়ের কিছুদিন তাদের সংসার বেশ সুখে-শান্তিততে কাটছিল।
এর কিছুদিন পর থেকেই ¯স্বামীসহ যৌতুক লোভী ওই পরিবারের লোকজন ঝর্নাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে তার বাবার বাড়ী থেকে টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। ঝর্না এতে সম্মতি না হলে, তার উপর শুরু হতো মানষিক ও
শারীরিক নির্যাতন। কিছুদিন আগে বাড়ির অন্যান্য সদস্যেদের পরামর্শে ঝর্নার
স্বামী আরও ৫ লাখ টাকা তার বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে চাপ সৃষ্টিসহ
মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে তার স্বামী লুৎফর রহমানকে
অন্যত্র বিয়ে করানোর জন্য তার পরিবারের লোকজন উঠে পরে লাগে। মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে. গৃহবধু ঝর্না এক পর্যায়ে বিষয়টি তার পরিবারকে জানান। অসহায় বৃদ্ধ বাবা ও পরিবারের লোকজন ঝর্নার সুখের কথা চিন্তা করে জামাই লুৎফরকে বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রথমে ৩ লাখ ও পরে আরও ২ লাখসহ মোট পাঁচ লাখ টাকা দেন। কিন্তু ওই টাকা বিভিন্ন কাজে খরচ করে
কিছুদিন পর আবারো ৫ লাখ টাকার জন্য ঝর্নার উপর চাপ সৃষ্টিসহ শারীরিক ও
মানসিক নির্যাতন শুরু করে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। এমনকি স্বামী লুৎফর রহমান প্রথম স্ত্রী ঝর্না খানমের অনুমতি ছাড়াই পরিবারের অন্যান্য লোকদের পরামর্শে দ্বিতীয় বিয়ে করে। ঘটনাটি ঝর্নার পরিবার জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ভাবে সালিশ বসে মীমাংসার পর ঝর্না আবারো ঘর সংসার শুরু করেন। গত ২২ আগস্ট দুপুরে তার স্বামী ব্যবসা করার জন্য তাকে বাবার বাড়ি থেকে আবারোও ৫ লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এতে সে অস্বীকৃতি প্রকাশ করলে, তার স্বামী ও পরিবারের অন্যান্যরা ঝর্নাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্বক আহত করে ফেলে রাখে। পরে ঝর্নার জ্ঞান ফিরলে সে মোবাইলে তার বড় বোন লাভলী আক্তারকে বিষয়টি জানালে তিনি আহত অবস্থায় ঝর্নাকে উদ্ধার করে
ভালুকা ৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঝর্না খানম জানান, সংসারে সুখের কথা চিন্তা করে ও স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার হুমকির কারনে, বিয়ের ২০ বছরে কয়েক দফায় বাবার বাড়ি থেকে নগদ টাকাসহ প্রায় ৯ লাখ টাকার জিনিসপত্র আনা হয়েছে। তারপরও তার স্বামী দ্বিতীয়
বিয়ে করেন এবং দিনের পর দিন তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে তিনি স্বামীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের জন্য মারধর করার অভিযোগে মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা রুজুর পর গ্রেফতার এড়াতে ঝর্নার স্বামী ও অন্যান্য আসামীরা আত্ম গোপনে রয়েছে। বার বার চেষ্টা করেও ঝর্নার স্বামী সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সরেজমিন উপজেলার মেদুয়ারী গ্রামে ঝর্নার স্বামীর বাড়িতে গেলে বাড়ির মহিলারা পুলিশ ভেবে ভয়ে পালিয়ে যায়।
ভালুকা মডেল থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে ঝর্না খানম বাদি হয়ে ভালুকা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী ২০০৩ এর ১১ (গ)/৩০ ও যৌতুকের দাবীতে মারপিট আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।