আলিফ হোসেন, তানোর -ঃ রাজশাহীর তানোরে চাকরি প্রত্যাশী যুবকদের পকেট কাটা যাচ্ছে। একশ্রেণীর প্রতিষ্ঠান তাদের কাছে থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, চাকরির বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই বাণিজ্যে মেতেছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বে-সরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে, দরখাস্তের সঙ্গে (অফেরতযোগ্য) ব্যাংক-ড্রাফ, পে-অর্ডার ও ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে বেকারের পকেট কেটে দিচ্ছেন তারা।
সুত্রে প্রকাশ আয়া, দারোয়ান ও নৈশ প্রহরীর পদেও ব্যাংক ড্রাফ ও পেঅর্ডারের মাধ্যমে নেয়া হচ্ছে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত। ফলে চাকরির জন্য একটি পদে আবেদন করতেই বেকার যুবকদের পকেট হয়ে যাচ্ছে ফাঁকা। অধিকাংশক্ষেত্রে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা যোগ্যতা থাকা স্বতেও চাকরির আবেদন করতে উৎসাহী হয় না অনেকেই আবার আবেদন করতেই পারে না। বেশিরভাগ সময়, ব্যাংক-ড্রাফ, পে-অর্ডার ও ট্রেজারি চালান করেও অনেকেরেই চাকরির জন্য পরীক্ষার ডাক মেলে না।
অভিযোগ উঠেছে, তানোরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই পদে একাধিকবার বিজ্ঞাপন দিয়েও মুনাফার পর মুনাফা করছে। সমাজ বিশ্লেষকদের অভিমত, এভাবে চাকরির দরখাস্তের সঙ্গে টাকা চেয়ে সমাজের গরীব, অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানদের দরজা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষিত বেকার অর্থের অভাবে চাকরির আবেদন করতে পারছে না, তাদের কর্মজগতে প্রবেশে এটাই বড় বাধা হয়ে দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওয়াদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তানোর উপজেলা প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে যেভাবে টাকা নেয়া হচ্ছে সেটা অন্যায়, তিনি বলেন, আয়া, মালী ও পিয়নসহ যেসব পদে চাকরির জন্য লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয় না, সেখানে আবেদনের সঙ্গে টাকা চাওয়া কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য বা যুক্তিযুক্ত নয়। তবে লিখিত পরীক্ষার খরচ বাবদ কিছু টাকা চাওয়া যাইতে পারে। তবে কোন ভাবেই ৫শ’ থেকে হাজার টাকা হতে পারে না। বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে এভাবে বাণিজ্য করা অনৈতিক।
স্থানীয় সুত্র জানায়, সম্প্রতি উপজেলার চৌরখৈর উচ্চ বিদ্যালয়, সরনজাই ও চিনাশো মাদরাসায় আয়া-নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যেখানে অফেরতযোগ্য এক হাজার টাকা ব্যাংক ড্রাফ চাওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, যেই দেশে একটি পদের বিপরীতে সহস্রাধিক প্রার্থীর আবেদন করার রেকর্ড রয়েছে সেই দেশে কি বিবেচনায় একটি শূণ্য পদে আবেদনের জন্য অফেরতযোগ্য এক হাজার টাকা ব্যাংক ড্রাফ চাওয়া হয়, তাহলে যদি সহস্রাধিক আবেদন পড়ে তবে ব্যাংক ড্রাফের সেই বিপুল অর্থ কারা পাবেন। আবার কৃষি প্রধান এলাকার কৃষক পরিবারের সন্তানেরা কি ভাবে সেই টাকা সংগ্রহ করবে। আসলে স্কুল কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত হয়েই হাজার টাকা ব্যাংক ড্রাফ চেয়েছেন যাতে সাধারণ কেউ আবেদন করতে না পারে তাহলেই তারা তাদের পচ্ছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ করতে পারবেন।
সচেতন মহলের দাবি এভাবে প্রতি পদে পদে টাকা চাওয়ায় চাকরি খুঁজতে গিয়ে এলাকার অসংখ্য বেকারের পকেট কাটা যাচ্ছে। তারা অফেরতযোগ্য হাজার টাকা ব্যাংক ড্রাফ ছাড়াই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি করেছেন যাতে এলাকার প্রার্থীরা সকলেই আবেদন করতে পারেন। স্থানীয় যুবসমাজ বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে দেখভালের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এবিষয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আয়া-পিয়ন পদে এক হাজার টাকা ব্যাংক ড্রাফ চাওয়াটা অনৈতিক, তবে এটা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়।













