এখন ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কতৃপক্ষঃ দাবী ভুক্তভোগীর

বিশেষ সংবাদদাতা -ঃ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সামনের ০.০৩৩২ শতক জমির সমাধান হচ্ছে না কিছুতেই । ভুক্তভোগীর দাবি তার ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির উপর জোর পূর্বক কৃষি সম্পর্কিত ডিসপ্লে নির্মাণ কাজ করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড় । ভুক্তভোগী মোঃ ইসলামুল কালাম বলেন, রেকডিয় মালিকের কাছ থেকে ৫৬৮ নং দাগে ০.০৩৩২ একর জমি মোঃ আশরাফ হুসাইন সুলতান ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছে । এমতাবস্থায় আমি মোঃ আশরাফ হুসাইন সুলতান এর কাছ থেকে দুই বারে ০.০১০১ একর জমি কিনে আমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছি এবং এই জমির উপর পঞ্চগড় সোনালী ব্যাংক থেকে ১৫ লক্ষ টাকা লোন নিয়েছি । কিন্তু আমার জমির পিছনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় । বর্তমান জেলা কৃষি অফিসার মোঃ রিয়াজ উদ্দিন  উপ-পরিচালক জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড়  ও মোঃ সাখাওয়াত হোসেন  অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড়  সম্পূর্ণ বে-আইনী ভাবে আমাকে উক্ত জমি হতে উচ্ছেদ করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে । ইতিপূর্বে  এই জমি নিয়ে বিগত জেলা কৃষি কর্মকর্তাগণের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হলে উক্ত বিষয়ে জমিদাতা সহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উভয় পক্ষই অভিযোগ করেছিলেন। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এল.এ.শাখা, পঞ্চগড় কালেক্টর, পঞ্চগড় ফাইল নং -/ নথি নং ৪-১২/২০০৭, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের জমি সংক্রান্ত আদেশ প্রদান করেন যে, নালিশি জমি কৃষি অফিসের দেয়ালের বাইরের অংশ রাস্তা সংলগ্ন হইতেছে । এবং উক্ত জমি জনাব মোঃ আশরাফ হোসেন সুলতানের ক্রয়কৃত হওয়ায় অধিগ্রহণের মাধ্যমে উক্ত জমি অর্জন করা যেতে পারে মর্মেগত ২১-৫-২০১৭ ইং তারিখে আদেশ প্রদান করেন। এর পর গত ১২-১২-২০১০ ইং তারিখে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কতৃপক্ষ জমি দাতার বিরুদ্ধে পুনরায় জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ করলে জেলা প্রশাসক ভূ-সম্পত্তি জবর দখলের বিষয়ে অভিযোগ গ্রহণ এর তদন্ত সংক্রান্ত কার্যক্রম মনিটরিং এর জন্য গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ০৩-০১-২০১১ ইং তারিখে আদেশ প্রদান করেন, মোঃ আশরাফ হুসাইন সুলতান, পিতা সিরাজ উদ্দিন আহাম্মদ, সাং- কায়েতপাড়া , পঞ্চগড় । তিনি ১৮-০৭-২০০০ ইং তারিখে ৪৫৪৬ নং রেজিঃ দলিল মুলে রেকডিয় মালিকের নিকট থেকে খরিদ করে জমির ভোগদখলে  আছেন ।জেলা প্রশাসক সদর উপজেলার পঞ্চগড় মৌজার/২২ আর.এস দাগ ৫৬৮ দাগের ০.০৩৩২ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড়কে অনুরোধ করেন । এরপর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পুনরায় পূর্বের বিষয়টিকে কোন তোয়াক্কা না করে জেলা প্রশাসক বরাবরের আবারো অভিযোগ আনায়ন করেন । এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক একই আদেশ প্রদান করেন । যাহার স্মারক নং ৩১.৪৭.৭৭০০.০১৮.০০.০০২.১৫ তারিখ ০৬-০৮-২০১৫ । ভুক্তভোগী আরো অভিযোগ করেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী  লোভের বশবর্তী হয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এখান থেকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করছে । এমনকি আমি এখানে ব্যবসা করতে গেলে তাদেরকে মোটা অংকের টাকা দিতে হবে অন্যথায় মামলা-মোকদ্দমা করে আমাকে সর্বশান্ত করে ফেলবে বোলে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি প্রদান করছে । এমত অবস্থায় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ জমির নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে তফসিল বর্ণিত জমি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাথে আমার জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য আবেদন করি । উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে সীমানা নির্ধারণের জন্য উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসন আদেশ প্রদান করেন । কিন্তু উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা জমির সীমানা নির্ধারণ করার পূর্বেই তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গত ১৭-০৭-২০২২ ইং তারিখের সকাল আনুমানিক ১০ টার সময় আমার ভোগ দখলীয় জমির উপর পাকা ওয়াল নির্মাণ করিবার প্রস্তুতি নেয় । আমি তাৎক্ষণিক বাধা প্রদান করি এবং পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করি । অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সদর থানা পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর এসে কাজ বন্ধ করে দিয়ে চলে গেলে পরবর্তীতে তারা পুনরায় কাজ শুরু করে । এভাবে একাধিক বার কৃষি সম্প্রসারণ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ কাজ শুরু করলে আমি এবং সদর থানা পুলিশ বাধা প্রদান করেন। এরপর গত ১৮-৭-২০২২ ইং তারিখে উক্ত জমিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ যে মাটি খোরাখুরি করিয়াছে এবং জমির যে আকার আকৃতি পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছে তা সংস্কার করি । আমার এই সংস্কার কাজকে ইস্যু বানিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা আনায়ন করে । যে মামলার কারণে আমি গত ১৮-৭-২০২২ ইং তারিখ হইতে ২৭-৭-২০২২ ইং তারিখ পর্যন্ত জেলহাজতে ছিলাম । এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জেলা প্রশাসকের একাধিক আদেশ ও পরামর্শ অমান্য করে কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ আমার জমির ভিতর দুটি বড় ধরনের লোহার খুঁটি স্থাপন সহ পাকা ওয়াল নির্মাণ করে । আমার জমি জবরদখল করেন কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ । তারা বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেন যে, তাদেরকে মোটা অংকের অর্থ দিলে এরূপ সমস্যার সম্মুখীন আমাকে হতে হতো না ।এমতাবস্থায় মোঃ ইসলামুল কালাম এর অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দেওয়া আদেশ ও পরামর্শ এর কপি সংগ্রহ করে দেখা গেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে প্রতিটি অভিযোগের তদন্ত ও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে ঐ জমি অধিগ্রহণ করার পরামর্শ/ নির্দেশ প্রদান করা হয় । মোঃ ইসলামুল কালাম এর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে । প্রকাশ থাকে যে বিষয়টি নিয়ে সদর থানা পুলিশের অফিসার্স ইনচার্জ আব্দুল লতিফ মিঞা, সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর পঞ্চগড়, সার্ভেয়ার ভূমি অধিগ্রহণ শাখা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পঞ্চগড়  এর সাথে কথা বললে প্রায় একই ধরনের মতামত পাওয়া গেছে সবার কাছ থেকে । সার্ভেয়ার মোঃ ইলিয়াস আহমেদ সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর পঞ্চগড় জানান,আমাদের রাাস্তা ১০০ ফিটের কাছাকাছি হলেও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের সামনের রাস্তা প্রায় ৬০ ফিট । ১৬ নং হাল খতিয়ান অনুযায়ী ৫৬৪ দাগে ৭.৯৪ শতক, ৫৬৫ নং দাগে ৩.১২ শতক, ৫৬৬ নং দাগে ৫.৬৯ শতক, জমি সড়ক ও জনপদ বিভাগের । পার্শ্ববর্তী ৫৬৮ ,৫৬৭ ,৫৬৯ ,৫৭০ ,৫৭৬ নং দাগ হাল খতিয়ানে নেই। এসএ ম্যাপ এর  মৌজা পঞ্চগড় জেল নং -২২ সিট নং -২ অনুযায়ী ৫১১ ,৫১০ ,৫১৫ ,৫০৯ নং দাগ সড়ক ও জনপদ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয় । এ বিষয়ে  পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত উপ পরিচালক (পি.পি) শাহ মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে, মোঃ ইসলামুল কালাম (৪৫) , মোঃ আশরাফুল হুসাইন সুলতান (৫২), মোঃ শাহিন হোসেন (৪০) সহ অজ্ঞাত চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে সরকারি অফিসের ওয়াল ভাঙচুর এবং সেখানে কর্মরত কর্মচারী ও কর্মকর্তাগণের সাথে অসৎ আচরণের লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন । তার এই অভিযোগের ভিত্তিতে মোঃ ইসলামুল কালাম কে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে । যেহেতু জমি সংক্রান্ত বিষয় ইসলামুল হক আদালতে মামলা করার মধ্য দিয়ে তার জমি পুনরুদ্ধার করতে পারে । এ বিষয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ন চন্দ্র বর্মন ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিভিন্ন আদেশ ও পরামর্শ এর কপি জমির দলিল সহ আনুষাঙ্গিক কাগজপত্র দেখে বলেন, যদি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই জমির প্রয়োজন হয় তবে জেলা প্রশাসনের দেওয়া নির্দেশ বা পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন । তিনি বলেন, তফসিল বর্ণিত জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে চিঠি এসেছে । আমাদের সার্ভেয়ার খুব শীঘ্রই ম্যাপ অনুযায়ী জমির সীমানা নির্ধারণ করতে যাবেন । এ বিষয়ে মোঃ রমজান আলী সার্ভেয়ার ভূমি অধিগ্রহণ শাখা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পঞ্চগড় বলেন, বিষয়টি আমরা জানি । জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে থেকে ইতিপূর্বে বিভিন্ন অভিযোগের শুনানি ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই পূর্বক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল । জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারে নাই । কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সামনের ওই জায়গাটি যদি প্রয়োজন হয়ে থাকে তবে জমির মালিকের সাথে বিবাদে না জড়িয়ে জমি অধিগ্রহণ এর মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান করা সবচেয়ে উত্তম । একই সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসক এর কার্যালয় থেকে একাধিকবার দেওয়ার পরেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কি কারণে একের পর এক সমস্যা সৃষ্টি করছে তা আমাদের বোধগম্য নয় । এ বিষয়ে, মোঃ শাখাওয়াত হোসেন অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড় বলেন, যেহেতু জায়গাটি আমাদের অফিসের সামনে তাই ঐ জায়গার মালিক আমরা । তাদের শব্দের কারনে আমরা ঠিকভাবে কাজ করতে পারছি না । জমির মালিক যদি কৃষি অফিস হয়ে থাকে, তবে ইতিপূর্বে তৈরি নকশা বা রেকর্ড হওয়ার সময় বা তারা যখন জমিতে ঘর উত্তোলন করল আপনারা নিষেধ করলেন না কেন ? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পূর্বের অফিসাররা কেন নিষেধ করেন নি আমি জানিনা । তবে ঐ ওয়ার্কশপের দোকান আমরা উচ্ছেদ করবোই । এ বিষয়ে, মোঃ রিয়াজ উদ্দিন উপ-পরিচালক জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড় বলেন, অফিসের সামনের জায়গা তারা জোরপূর্বক দখল করেছে । দীর্ঘদিন ধরে তারা যেহেতু আপনাদের জায়গা দখল করে আছে আপনারা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি কেন ? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি যুক্তিযুক্ত কোন বলতে পারেন নি । এমনকি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দেওয়া ইতিপূর্বের পরামর্শ, আদেশ এর ব্যপারে তিনি তেমন কিছু জানেন না । বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশে বাধা প্রদান করেন তিনি । তার সাথে কথা বলার সময় পাশে থেকে মোঃ শাখাওয়াত হোসেন অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড় বলেন, এই জমির মালিকানা নিয়ে মামলা চলমান । এমতাবস্থায়  গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে গণমাধ্যম কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বোলে হুমকি প্রদান করেন তিনি । কিন্তু জমির মালিকদের মধ্যে মালিকানা নিয়ে চলমান দন্দ্বের সাথে মোঃ ইসলামুল কালাম এর সাথে কৃষি অফিসের দন্দ্বের সম্পর্ক কি তার কোন প্রতি উত্তর দেননি তিনি৷

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কতৃপক্ষঃ দাবী ভুক্তভোগীর

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২

বিশেষ সংবাদদাতা -ঃ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সামনের ০.০৩৩২ শতক জমির সমাধান হচ্ছে না কিছুতেই । ভুক্তভোগীর দাবি তার ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির উপর জোর পূর্বক কৃষি সম্পর্কিত ডিসপ্লে নির্মাণ কাজ করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড় । ভুক্তভোগী মোঃ ইসলামুল কালাম বলেন, রেকডিয় মালিকের কাছ থেকে ৫৬৮ নং দাগে ০.০৩৩২ একর জমি মোঃ আশরাফ হুসাইন সুলতান ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছে । এমতাবস্থায় আমি মোঃ আশরাফ হুসাইন সুলতান এর কাছ থেকে দুই বারে ০.০১০১ একর জমি কিনে আমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছি এবং এই জমির উপর পঞ্চগড় সোনালী ব্যাংক থেকে ১৫ লক্ষ টাকা লোন নিয়েছি । কিন্তু আমার জমির পিছনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় । বর্তমান জেলা কৃষি অফিসার মোঃ রিয়াজ উদ্দিন  উপ-পরিচালক জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড়  ও মোঃ সাখাওয়াত হোসেন  অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড়  সম্পূর্ণ বে-আইনী ভাবে আমাকে উক্ত জমি হতে উচ্ছেদ করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে । ইতিপূর্বে  এই জমি নিয়ে বিগত জেলা কৃষি কর্মকর্তাগণের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হলে উক্ত বিষয়ে জমিদাতা সহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উভয় পক্ষই অভিযোগ করেছিলেন। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এল.এ.শাখা, পঞ্চগড় কালেক্টর, পঞ্চগড় ফাইল নং -/ নথি নং ৪-১২/২০০৭, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের জমি সংক্রান্ত আদেশ প্রদান করেন যে, নালিশি জমি কৃষি অফিসের দেয়ালের বাইরের অংশ রাস্তা সংলগ্ন হইতেছে । এবং উক্ত জমি জনাব মোঃ আশরাফ হোসেন সুলতানের ক্রয়কৃত হওয়ায় অধিগ্রহণের মাধ্যমে উক্ত জমি অর্জন করা যেতে পারে মর্মেগত ২১-৫-২০১৭ ইং তারিখে আদেশ প্রদান করেন। এর পর গত ১২-১২-২০১০ ইং তারিখে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কতৃপক্ষ জমি দাতার বিরুদ্ধে পুনরায় জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ করলে জেলা প্রশাসক ভূ-সম্পত্তি জবর দখলের বিষয়ে অভিযোগ গ্রহণ এর তদন্ত সংক্রান্ত কার্যক্রম মনিটরিং এর জন্য গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ০৩-০১-২০১১ ইং তারিখে আদেশ প্রদান করেন, মোঃ আশরাফ হুসাইন সুলতান, পিতা সিরাজ উদ্দিন আহাম্মদ, সাং- কায়েতপাড়া , পঞ্চগড় । তিনি ১৮-০৭-২০০০ ইং তারিখে ৪৫৪৬ নং রেজিঃ দলিল মুলে রেকডিয় মালিকের নিকট থেকে খরিদ করে জমির ভোগদখলে  আছেন ।জেলা প্রশাসক সদর উপজেলার পঞ্চগড় মৌজার/২২ আর.এস দাগ ৫৬৮ দাগের ০.০৩৩২ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড়কে অনুরোধ করেন । এরপর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পুনরায় পূর্বের বিষয়টিকে কোন তোয়াক্কা না করে জেলা প্রশাসক বরাবরের আবারো অভিযোগ আনায়ন করেন । এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক একই আদেশ প্রদান করেন । যাহার স্মারক নং ৩১.৪৭.৭৭০০.০১৮.০০.০০২.১৫ তারিখ ০৬-০৮-২০১৫ । ভুক্তভোগী আরো অভিযোগ করেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী  লোভের বশবর্তী হয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এখান থেকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করছে । এমনকি আমি এখানে ব্যবসা করতে গেলে তাদেরকে মোটা অংকের টাকা দিতে হবে অন্যথায় মামলা-মোকদ্দমা করে আমাকে সর্বশান্ত করে ফেলবে বোলে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি প্রদান করছে । এমত অবস্থায় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ জমির নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে তফসিল বর্ণিত জমি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাথে আমার জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য আবেদন করি । উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে সীমানা নির্ধারণের জন্য উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসন আদেশ প্রদান করেন । কিন্তু উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা জমির সীমানা নির্ধারণ করার পূর্বেই তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গত ১৭-০৭-২০২২ ইং তারিখের সকাল আনুমানিক ১০ টার সময় আমার ভোগ দখলীয় জমির উপর পাকা ওয়াল নির্মাণ করিবার প্রস্তুতি নেয় । আমি তাৎক্ষণিক বাধা প্রদান করি এবং পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করি । অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সদর থানা পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর এসে কাজ বন্ধ করে দিয়ে চলে গেলে পরবর্তীতে তারা পুনরায় কাজ শুরু করে । এভাবে একাধিক বার কৃষি সম্প্রসারণ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ কাজ শুরু করলে আমি এবং সদর থানা পুলিশ বাধা প্রদান করেন। এরপর গত ১৮-৭-২০২২ ইং তারিখে উক্ত জমিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ যে মাটি খোরাখুরি করিয়াছে এবং জমির যে আকার আকৃতি পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছে তা সংস্কার করি । আমার এই সংস্কার কাজকে ইস্যু বানিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা আনায়ন করে । যে মামলার কারণে আমি গত ১৮-৭-২০২২ ইং তারিখ হইতে ২৭-৭-২০২২ ইং তারিখ পর্যন্ত জেলহাজতে ছিলাম । এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জেলা প্রশাসকের একাধিক আদেশ ও পরামর্শ অমান্য করে কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ আমার জমির ভিতর দুটি বড় ধরনের লোহার খুঁটি স্থাপন সহ পাকা ওয়াল নির্মাণ করে । আমার জমি জবরদখল করেন কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ । তারা বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেন যে, তাদেরকে মোটা অংকের অর্থ দিলে এরূপ সমস্যার সম্মুখীন আমাকে হতে হতো না ।এমতাবস্থায় মোঃ ইসলামুল কালাম এর অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দেওয়া আদেশ ও পরামর্শ এর কপি সংগ্রহ করে দেখা গেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে প্রতিটি অভিযোগের তদন্ত ও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে ঐ জমি অধিগ্রহণ করার পরামর্শ/ নির্দেশ প্রদান করা হয় । মোঃ ইসলামুল কালাম এর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে । প্রকাশ থাকে যে বিষয়টি নিয়ে সদর থানা পুলিশের অফিসার্স ইনচার্জ আব্দুল লতিফ মিঞা, সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর পঞ্চগড়, সার্ভেয়ার ভূমি অধিগ্রহণ শাখা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পঞ্চগড়  এর সাথে কথা বললে প্রায় একই ধরনের মতামত পাওয়া গেছে সবার কাছ থেকে । সার্ভেয়ার মোঃ ইলিয়াস আহমেদ সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর পঞ্চগড় জানান,আমাদের রাাস্তা ১০০ ফিটের কাছাকাছি হলেও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের সামনের রাস্তা প্রায় ৬০ ফিট । ১৬ নং হাল খতিয়ান অনুযায়ী ৫৬৪ দাগে ৭.৯৪ শতক, ৫৬৫ নং দাগে ৩.১২ শতক, ৫৬৬ নং দাগে ৫.৬৯ শতক, জমি সড়ক ও জনপদ বিভাগের । পার্শ্ববর্তী ৫৬৮ ,৫৬৭ ,৫৬৯ ,৫৭০ ,৫৭৬ নং দাগ হাল খতিয়ানে নেই। এসএ ম্যাপ এর  মৌজা পঞ্চগড় জেল নং -২২ সিট নং -২ অনুযায়ী ৫১১ ,৫১০ ,৫১৫ ,৫০৯ নং দাগ সড়ক ও জনপদ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয় । এ বিষয়ে  পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত উপ পরিচালক (পি.পি) শাহ মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে, মোঃ ইসলামুল কালাম (৪৫) , মোঃ আশরাফুল হুসাইন সুলতান (৫২), মোঃ শাহিন হোসেন (৪০) সহ অজ্ঞাত চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে সরকারি অফিসের ওয়াল ভাঙচুর এবং সেখানে কর্মরত কর্মচারী ও কর্মকর্তাগণের সাথে অসৎ আচরণের লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন । তার এই অভিযোগের ভিত্তিতে মোঃ ইসলামুল কালাম কে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে । যেহেতু জমি সংক্রান্ত বিষয় ইসলামুল হক আদালতে মামলা করার মধ্য দিয়ে তার জমি পুনরুদ্ধার করতে পারে । এ বিষয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ন চন্দ্র বর্মন ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিভিন্ন আদেশ ও পরামর্শ এর কপি জমির দলিল সহ আনুষাঙ্গিক কাগজপত্র দেখে বলেন, যদি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই জমির প্রয়োজন হয় তবে জেলা প্রশাসনের দেওয়া নির্দেশ বা পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন । তিনি বলেন, তফসিল বর্ণিত জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে চিঠি এসেছে । আমাদের সার্ভেয়ার খুব শীঘ্রই ম্যাপ অনুযায়ী জমির সীমানা নির্ধারণ করতে যাবেন । এ বিষয়ে মোঃ রমজান আলী সার্ভেয়ার ভূমি অধিগ্রহণ শাখা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পঞ্চগড় বলেন, বিষয়টি আমরা জানি । জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে থেকে ইতিপূর্বে বিভিন্ন অভিযোগের শুনানি ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই পূর্বক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল । জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারে নাই । কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সামনের ওই জায়গাটি যদি প্রয়োজন হয়ে থাকে তবে জমির মালিকের সাথে বিবাদে না জড়িয়ে জমি অধিগ্রহণ এর মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান করা সবচেয়ে উত্তম । একই সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসক এর কার্যালয় থেকে একাধিকবার দেওয়ার পরেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কি কারণে একের পর এক সমস্যা সৃষ্টি করছে তা আমাদের বোধগম্য নয় । এ বিষয়ে, মোঃ শাখাওয়াত হোসেন অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড় বলেন, যেহেতু জায়গাটি আমাদের অফিসের সামনে তাই ঐ জায়গার মালিক আমরা । তাদের শব্দের কারনে আমরা ঠিকভাবে কাজ করতে পারছি না । জমির মালিক যদি কৃষি অফিস হয়ে থাকে, তবে ইতিপূর্বে তৈরি নকশা বা রেকর্ড হওয়ার সময় বা তারা যখন জমিতে ঘর উত্তোলন করল আপনারা নিষেধ করলেন না কেন ? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পূর্বের অফিসাররা কেন নিষেধ করেন নি আমি জানিনা । তবে ঐ ওয়ার্কশপের দোকান আমরা উচ্ছেদ করবোই । এ বিষয়ে, মোঃ রিয়াজ উদ্দিন উপ-পরিচালক জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড় বলেন, অফিসের সামনের জায়গা তারা জোরপূর্বক দখল করেছে । দীর্ঘদিন ধরে তারা যেহেতু আপনাদের জায়গা দখল করে আছে আপনারা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি কেন ? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি যুক্তিযুক্ত কোন বলতে পারেন নি । এমনকি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দেওয়া ইতিপূর্বের পরামর্শ, আদেশ এর ব্যপারে তিনি তেমন কিছু জানেন না । বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশে বাধা প্রদান করেন তিনি । তার সাথে কথা বলার সময় পাশে থেকে মোঃ শাখাওয়াত হোসেন অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড় বলেন, এই জমির মালিকানা নিয়ে মামলা চলমান । এমতাবস্থায়  গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে গণমাধ্যম কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বোলে হুমকি প্রদান করেন তিনি । কিন্তু জমির মালিকদের মধ্যে মালিকানা নিয়ে চলমান দন্দ্বের সাথে মোঃ ইসলামুল কালাম এর সাথে কৃষি অফিসের দন্দ্বের সম্পর্ক কি তার কোন প্রতি উত্তর দেননি তিনি৷