মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগের ঘটনায় কলাবাগানের ওই বাসার গার্ড (দারোয়ান) দুলাল হোসেন আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুলাল আদালতে জানিয়েছেন, নিহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে একাই দেখা গেছে অভিযুক্ত ফারদিন দিহানকে। অচেতন হয়ে পড়া মেয়েটিকে দিহান কোলে করে বাসা থেকে নিচে নামিয়ে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। তারা বাসায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা ছিলেন। এ সময় বাসার ভেতরে বা দিহানের সঙ্গে অন্য কেউ ছিল না।
ঘটনার দিন দুপুর থেকে পলাতক এই গার্ড (দারোয়ান) চারদিন পর এসে এই সাক্ষ্য দেওয়ায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ভিকটিম কিশোরীর মা।
তিনি বলেন, আমরা মামলার প্রতি কোনও আস্থা রাখতে পারছি না। তাদের সবই কেনা হয়ে গেছে। সবই কিনে ফেলেছে আসামিপক্ষ। তাদের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা আছে। সাক্ষ্য, প্রতিবেদন যা দেখছেন তা সাজানো নাটক। সাজিয়ে-গুছিয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
নির্যাতনে মারা যাওয়া কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, টাকা দিয়েই সব কেনা যায়। সবখানে সবকিছু এভাবেই চলে। বিচার কখনও হয়নি, হবেও না। এটাই আমাদের মেনে নিতে হবে। মেনে নেওয়া শুরু করছি।
গার্ড দুলালকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ
বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) ঘটনার পর থেকেই পলাতক দিহানের বাসার গার্ড (দারোয়ান) দুলাল হোসেন। গতকাল সোমবার (১১ জানুয়ারি) সকালে তিনি আবার ফিরে এলে এখন পর্যন্ত ঘটনার প্রথম সাক্ষী হিসেবে দুলালকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। সারা রাত প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর দুপুরে আদালতে গিয় সাক্ষ্য দেন দুলাল। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানান, মেয়েটিকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দিহান ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে, এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সাক্ষী হিসেবে দুলাল মিয়াকে হেফাজতে নিয়েছিলাম। সে ঘটনার দিন যা দেখেছেন তা আদালতের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
সন্ধ্যায় ডিএমপি রমনা বিভাগের নিউ মার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান বলেন, আমরা যেহেতু তাকে আটক করিনি, সাক্ষী হিসেবে আদালতে তুলেছিলাম, সাক্ষ্য দেওয়া শেষ, সে এখন মুক্ত।
জট খুলবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, শুধু মরদেহ দেখে অনেক কিছু বোঝা সম্ভব নয়। এজন্য ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ প্রতিবেদন আমাদের দেখতে হবে। ভিসেরা ও ডিএনএ রিপোর্ট এলে আমরা প্রতিবেদন দিয়ে দেবো। ভিসেরা রিপোর্ট আসতে সাধারণত এক থেকে দেড় মাস সময় লাগে, কোনও ক্ষেত্রে দুই মাসও লেগে যায়। আর ডিএনএ রিপোর্ট আসতে আরেকটু বেশি সময় লাগে।
ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে এই ফরেনসিক বিভাগের প্রধান বলেন, ঘটনার সময় কতজন ছিলেন তা ডিএনএ প্রতিবেদন পেলে বলা যাবে। আমরা সেটার জন্য অপেক্ষা করছি। আর তাছাড়া আমরা ব্লাড ও ভিসেরা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি। তার ব্লাডে যদি কোনও টক্সিক সাবস্টেনসের উপস্থিতি পাওয়া যায় তবে বুঝতে হবে তাকে কিছু খাইয়ে অবচেতন করা হয়েছিল। অথবা তার ভিসেরাতে যদি চেতনানাশক কিছু পাওয়া যায় তবে বুঝতে হবে তাকে আগে ড্রাগ খাইয়ে অবচেতন করেছিল। সবকিছুর জন্য প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
বাদীপক্ষের অভিযোগে পুলিশ যা বলছে
পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর অনেক কিছু পরিষ্কার হবে- ঘটনাস্থলে একজন নাকি একাধিক ব্যক্তি ছিল। মামলায় যদি প্রয়োজন হয় দিহানের তিন বন্ধুকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।













