মোঃ জহিরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি -ঃ প্রতিবছর ১৫ ই আগস্ট আমাদের দেশে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়ে থাকে এটার পিছনে রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সেনা বাহিনীর কতিপয় কিছু বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডিতে সপরিবারে হত্যা করেন। নিষ্ঠুরভাবে হত্যা যজ্ঞ চালিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের ওপর। সেই সময় দেশের বাইরে থাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের দুই জন সদস্য তার দুই কন্যা শেখ রেহেনা এবং শেখ হাসিনা বেঁচে যান। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার ও তার জন্য শোক পালনের জন্য ১৫ ই আগস্ট শোক দিবস পালন করা হয়ে থাকে প্রতিবছর। এই দিনটি বাঙালির ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন হিসেবে বিবেচিত করা হয়ে থাকে। কেননা এই দিনে মারা গিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাতে যারা নিহত হন তাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও ছিলেন তার স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তার বড় ছেলে শেখ কামাল, তার মেজো ছেলে শেখ জামাল, তার ছোট ছেলে শেখ রাসেল, তার ছোট ভাই শেখ আবু নাসের, তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু , সহকর্মী ও ভগ্নিপতি আরদুর রব সেরনিয়াবাত, তার মেজো বোনের ছেলে শেখ ফজলুল হক মণি, মণির স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা আরজু মণি, শেখ কামালের স্ত্রী ক্রীড়াবিদ পারভিন কামাল খুকু, মৃত্যুর এক মাস আগে শেখ কামালের সাথে তার বিয়ে হয়, শেখ জামালের স্ত্রী পারভিন জামাল রোজিসহ বঙ্গবন্ধুর আরও কতিপয় ঘনিষ্ঠ জন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার স্মরণের জন্য এই দিনটিকে বিশেষভাবে পালন করা হয়ে থাকে সারা বাংলাদেশে। সাধারনত এই ১৫ ই আগস্ট দিনটিতে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধেক নামিয়ে রেখে শোক দিবস পালন করা হয়ে থাকে। তাছাড়া এই দিন শহীদদের স্মরণে মুনাজাত এবং কোরআন তেলাওয়াত করা হয়ে থাকে। এই দিনটিতে সব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং স্মরণ করা হয়ে থাকে। দিনটিতে সবাইকে কালো ব্যাজ পরিধান করতে বলা হয়ে থাকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর এবং তার পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করার জন্য এই দিনে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হয়ে থাকে।













