এখন ০৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাটবাজারে উঠতে শুরু করেছে পাট, ভালো দামে খুশি কৃষকেরা

এস এ মাসুদ রানা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি -ঃ দিনাজপুর জেলার বিরামপুর হাটে পাট উঠতে শুরু করেছে। ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে কৃষকরা খুশি। বর্তমানে মণপ্রতি পাট বিক্রি হচ্ছে ২৭৫০ থেকে ৩০০০ টাকায়। গত বছর ছিল ২২০০ থেকে ৩৬০০ টাকা। শুরুতে দাম ভালো হওয়ায় পাট মৌসুমের শেষের দিকে দাম আরও বাড়বে বলে ধারণা কৃষকদের।

বিরামপুর উপজেলার কেশবপুর এলাকার কৃষক সাদেক দশ মণ পাট বাজারে বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, ‘পাটের ভালো দাম পেয়ে আমি খুশি। এ বছর শুরতেই পাটের বাজার ভালো। এবার পাঁচ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে দশ মণ পাট পেয়েছি। পানি সংকটের কারণে জমি থেকে পাট কেটে অন্যত্র জাগ দিতে হয়েছে। এতে খরচ বেড়েছে। অন্যান্য বছর প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষে ১৫ হাজার টাকা খরচ হতো। এ বছর ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তারপরও খরচ বাদ দিয়ে দশ মণ পাটে ১৪ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।’

উপজেলার বালুপারা গ্রামের পাট চাষি রবিউল বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি কম হয়েছে। তাই খাল বিলে পর্যাপ্ত পানি নেই। উচু জমিতে বেশি পাট হয়। এ পাট কেটে নিচু এলাকার খাল-বিলে জাগ দিতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়েছে। কিন্তু পাটের ভালো দাম পেয়ে এ কষ্ট লাঘব হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তোষা পাটের ৮০টি পাট কাঠির একটি বান্ডিল ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এতে পাট জাগ, পরিবহন, বাছাই ও শুকানোসহ সব ধরনের খরচ উঠে আসছে। সব মিলিয়ে পাটে এখন আমাদের সুদিন ফিরেছে।’

উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের জুয়েল বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে লাঙল, বীজ, সেচ, কাটা, পরিষ্কার করা ও সার দেওয়াসহ যাবতীয় খরচ হয় ৮-১০ হাজার টাকা। এবার উৎপাদন হচ্ছে ১০ থেকে ১২ মণ। বর্তমানে বাজারে নতুন পাট প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে তিন হাজার টাকা।’

বিরামপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নিক্সন চন্দ্র পাল বলেন, এই উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯০ হেক্টর জমিতে, কিন্তু এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে পাট চাষের আবাদ হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

হাটবাজারে উঠতে শুরু করেছে পাট, ভালো দামে খুশি কৃষকেরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৫০:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২

এস এ মাসুদ রানা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি -ঃ দিনাজপুর জেলার বিরামপুর হাটে পাট উঠতে শুরু করেছে। ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে কৃষকরা খুশি। বর্তমানে মণপ্রতি পাট বিক্রি হচ্ছে ২৭৫০ থেকে ৩০০০ টাকায়। গত বছর ছিল ২২০০ থেকে ৩৬০০ টাকা। শুরুতে দাম ভালো হওয়ায় পাট মৌসুমের শেষের দিকে দাম আরও বাড়বে বলে ধারণা কৃষকদের।

বিরামপুর উপজেলার কেশবপুর এলাকার কৃষক সাদেক দশ মণ পাট বাজারে বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, ‘পাটের ভালো দাম পেয়ে আমি খুশি। এ বছর শুরতেই পাটের বাজার ভালো। এবার পাঁচ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে দশ মণ পাট পেয়েছি। পানি সংকটের কারণে জমি থেকে পাট কেটে অন্যত্র জাগ দিতে হয়েছে। এতে খরচ বেড়েছে। অন্যান্য বছর প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষে ১৫ হাজার টাকা খরচ হতো। এ বছর ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তারপরও খরচ বাদ দিয়ে দশ মণ পাটে ১৪ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।’

উপজেলার বালুপারা গ্রামের পাট চাষি রবিউল বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি কম হয়েছে। তাই খাল বিলে পর্যাপ্ত পানি নেই। উচু জমিতে বেশি পাট হয়। এ পাট কেটে নিচু এলাকার খাল-বিলে জাগ দিতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়েছে। কিন্তু পাটের ভালো দাম পেয়ে এ কষ্ট লাঘব হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তোষা পাটের ৮০টি পাট কাঠির একটি বান্ডিল ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এতে পাট জাগ, পরিবহন, বাছাই ও শুকানোসহ সব ধরনের খরচ উঠে আসছে। সব মিলিয়ে পাটে এখন আমাদের সুদিন ফিরেছে।’

উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের জুয়েল বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে লাঙল, বীজ, সেচ, কাটা, পরিষ্কার করা ও সার দেওয়াসহ যাবতীয় খরচ হয় ৮-১০ হাজার টাকা। এবার উৎপাদন হচ্ছে ১০ থেকে ১২ মণ। বর্তমানে বাজারে নতুন পাট প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে তিন হাজার টাকা।’

বিরামপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নিক্সন চন্দ্র পাল বলেন, এই উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯০ হেক্টর জমিতে, কিন্তু এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে পাট চাষের আবাদ হয়েছে।