তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের তালন্দ ইউনিয়নের (ইউপি) আলোচিত চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজিমুদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে টেষ্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসির মাঝে চাঁপাক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ৮ আগস্ট সোমবার সকালে ঘটনা সরেজমিন তদন্ত করে চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে গ্রামবাসি ইউপি ভবন চত্ত্বরে মৃদু বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
জানা গেছে, ইউপির মোহর গ্রামে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্প বরাদ্দের বেশ কয়েক মাস আগেই পুকুর মালিকগণ পুকুর খননের মাটি রাস্তায় ফেলেছেন পুকুর মালিক সালাম, আসাদুল ও এন্তাজ। অথচ ইউপি চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন বাবু তাঁর পছন্দের ইউপি মেম্বারকে প্রকল্পের সভাপতি সাজিয়ে ব্যক্তিগত পুকুরের এসব মাটি ফেলাকে প্রকল্পের কাজ দেখিয়ে তাঁরা নিজেদের মধ্যে প্রকল্পের অর্থ ভাগাভাগী করেন বলে মোহর গ্রামবাসীর পক্ষের আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৭ আগস্ট রোববার তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দ্বিতীয় পর্যায়ে উপজেলার তালন্দ ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা মোহর মোল্লাপাড়া গ্রামের আনোয়ারের বাড়ি হতে ইদলের বাড়ি পর্যন্ত প্রটেকশান ওয়ালের মাটি ভরাট ও রাস্তা সংস্কার বাবদ প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়। ওই প্রকল্পের সভাপতি করা হয় ওয়ার্ডের মেম্বার আবদুল করিমকে। প্রকল্প
সভাপতি করিম কোনো কাজ না করেই পুকুর খননের ফেলা মাটিকে প্রকল্পের কাজ দেখিয়ে প্রকল্পের সমুদয় টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ
করেছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে
আবদুল করিম মেম্বার কোনো অনিয়ম হয়নি দাবি করে ইউপি চেয়ারম্যান ও পিআইও অফিসের উমেদার খলিলের সঙ্গে কথা বলতে বলেন তবে বয়োজৈষ্ঠ কয়েকজন
গ্রামবাসী ও অভিযোগকারী আসাদুজ্জামান বলেন, প্রকল্প বরাদ্দের প্রায় দুই মাস আগে পুকুর পুন:খনন করে মাটি পাশের রাস্তায় ফেলেন পুকুর মালিক সালাম, আসাদুল ও এন্তাজ। এরআগে ওই রাস্তায় চলাফেরায় মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় তারা নিজ উদ্যোগে পুকুর খননের মাটি রাস্তায় ফেলেন। অবশ্য মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই কাজটি করেন তাঁরা। কিন্তু তাদের এই কাজ দেখিয়ে টিআর প্রকল্পের সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা উচিত হয়নি। তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন। অপরদিকে, ইউপি লালপুর পশ্চিমপাড়া ওয়াক্তিয়া মসজিদের ইমাম আবুল কালাম আজাদকে সভাপতি দেখিয়ে টিআর প্রকল্পের ৬২ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করা হয়। কিন্তু পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ইমামকে শুধু ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়। বাঁকি টাকা পরে দেয়া হবে বলেও তাঁকে আশ্বাস দেন চেয়ারম্যান। এছাড়াও একই ইউপির দেউল আলফালা দাখিল মাদ্রাসার নামে টিআর প্রকল্প হতে ৬২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দের এসব টাকা সুপার শরিফুল ইসলামের নামে চেয়ারম্যান উত্তোলন করেন। কিন্তু মাদ্রাসা সুপারকে মাত্র ১৪ হাজার টাকা দেন চেয়ারম্যান। এসব তথ্য বিষয়ে নিশ্চিত করেন অত্র ইউপি ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার হাসান আলী। তাঁর এ-সংক্রান্ত কল রেকর্ড এ প্রতিবেদকের নিকট সংরক্ষণ রয়েছে। তবে মাদরাসার সভাপতি আব্দুর আজিজ বলেন, প্রকল্পের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।এবিষয়ে তালন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন বাবু বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কমিটির সভাপতিরা কিভাবে কাজ করেছেন তা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস দেখভাল করে, প্রকল্পের বিল পরিশোধ করেছেন। এতোদিন পরে আপনাদের খোঁজ-খবর কেন বলে এড়িয়ে গেছেন চেয়ারম্যান।
এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। যদি তাঁর দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান। এবিষয়ে ইউপি সচিব রাশেল বলেন, অভিযোগ একশ’ ভাগ সত্যি না,তবে ছোটখাটো অনিয়ম হয়েছে, যা ধরার মধ্য পড়ে না, তিনি বলেন, আপনারা (সাংবাদিক) যদি এসব ধরেন তাহলে তো চেয়ারম্যানদের পক্ষে কাজ করা মুশকিল।













