আলিফ হোসেন, তানোর -ঃ রাজশাহীর তানোর মহিলা ডিগ্রী কলেজের এক শিক্ষকের দাপটে সাধারণ শিক্ষক-কর্মচারীরা অতিষ্ঠ বলে গুঞ্জন বইছে।স্থানীয় সুত্র বলছে, এক সময়ের আত্মস্বীকৃত বিএনপি মতাদর্শী এই শিক্ষক রাতারাতি খোলস পাল্টিয়ে আমি লীগ (সুবিধাবাদী) হয়েছেন, যাকে সবাই (সেটেলম্যান) হিসেবেই চিনেন। তার প্রধান কাজ অর্থের বিনিময়ে গভীর নলকুপ অপারেটর ও শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে জনবল ম্যানেজ করে দেয়া এবং নিজে নিয়মিত কলেজ না করলেও অন্যদের ওপর ছড়ি ঘোরানো।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন,পদবিতে প্রভাষক হলেও চলাফেরায় অধ্যক্ষের চেয়েও বেশী, যাকে বলে ‘বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়’। চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে দিনের পর দিন অনুপস্থিত থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসুচিতে তার মাতব্বরি। তাকে আমন্ত্রণ জানানো হোক বা না হোক ক্ষমতাসীন দলের কোনো কর্মসুচি হলেই তিনি হাজির আর মিছিল-মিটিং হলে তো কথায় নাই ভৌঁ-দৌড়ে সামনে গিয়ে সেলফি পরক্ষণেই সেটি ফলাও করে প্রচার। অফিস সময় ফাঁকি দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, হাট-বাজারের পজিশন বেচা-কেনা, অবৈধ মটরে বিদ্যুৎ সংযোগ, কলেজের অর্থ কোথায় কিভাবে ব্যয় হবে, কোন শিক্ষককে কোথায় কি দায়িত্ব দিতে হবে, ফরম পুরুণে অর্থ হাতিয়ে নেয়া এবং নেতাদের কানমন্ত্র দিয়ে দলের ভিতরে কলহ-বিবাদ ছড়িয়ে ফায়দা হাসিল করে আসছেন বলেও আলোচনা রয়েছে।
জানা গেছে, সেটেলম্যান রুপী ওই শিক্ষকের উপজেলা সদরে সরব বিচরণ। কিন্ত্ত একজন শিক্ষকের ভাল গুন থাকলে যে বিচরণটা লক্ষ করা যায়, তিনি সেই গুনের অধিকারী নন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, কলেজ চলাকালীন সময়ে তাকে কলেজে উপস্থিত রেখে তার লাগাম এখানোই টেনে ধরতে হবে, নইলে আগামিতে তার দৌরাত্ম্য আরো বেড়ে যাবে। এসব কারণে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের কাছে সেটেলম্যান এখন রীতিমতো বিঁষফোঁড়া। দলের দায়িত্বশীল কোনো পদে না থেকেও দলীয় নেতাকর্মীদের ছবক দেয়া তার নিয়মে পরিনত হয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ অনুকুল কুমার ঘোষ বলেন, এসব অসত্য কথা। তিনি বলেন, কলেজে এমন শিক্ষকের কোনো অস্থিত্ব নাই।













