এখন ০৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোরে ইউপি চেয়ারম্যান মতিনের সালিশের নামে প্রহসণ

রাজশাহী প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়নের (ইউপি) আলোচিত চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে তালাক বাণিজ্যর অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার পাঁচন্দর ইউপি ভবনে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইউপি জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানায়, গত ৩১ জুলাই রোববার পাঁচন্দর ইউপি ভবনে চেয়ারম্যান মতিন সালিশের নামে প্রহসণ করেছে। বিবাহ-বিচ্ছেদ
সালিশে বিবাদীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেখিয়ে দেনমোহরের পুরো টাকা আদায় করা হয়েছে।

তবে টাকা আদায় করা হলেও তালাকনামার নোটিশে সেটা লেখা হয়নি, উদ্দেশ্যে এসব টাকা নয়ছয় করে পরবর্তীতে আবারো ছেলের কাছে থেকে টাকা আদায়ের কৌশল।
স্থানীয় সুত্র জানায়, বিগত ২০২১ সালে উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির ইলামদহী গ্রামের আব্দুল বারীর কন্যা অন্তরা আক্তার সাথীর সঙ্গে মোহনপুর উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউপি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আফসার আলীর পুত্র শাহিন আজিমের বিবাহ হয়। কিন্ত্ত স্বামীর সঙ্গে আর সংসার করবে না বলে সাথী বাড়িতে চলে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রোববার পাঁচন্দর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশ বৈঠকে সাথী তার স্বামী আজিমের সঙ্গে আর সংসার করবেন না বলে জানান, তবে আজিম সংসার করতে চাই এবং তালাক দিতে অসম্মতি প্রকাশ করে। অথচ বিচারকগণ আজিমকে এক তরফা দিতে বাধ্য করিয়ে জোরপুর্বক দেনমোহরের পুরো টাকা আদায় করা হয়। এসময় আজিমের স্বজনরা দুই কিস্তিতে দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করতে চাই। অথচ আজিমকে আটকে রেখে পুরো টাকা আদায় করা হয়।তবে দেনমোহরের আদায় করা টাকার কথা কাগজে না লিখে গোপণ করা হয়। সালিশে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন,
আদালতে মামলা হলেও দেনমোহরের টাকা কিস্তি করে দেওয়া যায়, এই সালিশে সেটা মানা হয়নি, এটা সালিশ নামের প্রহসণ বৈ কিছু নয়। এবিষয়ে শাহিন আজিম জানান, সংসার জীবনে কোন কলহ বিবাদ ছিল না। কিন্তু আমি বাচ্চা নিতে চাইলেও কোনভাবেই নিতে দিত না মেয়ের মা। কেউ চায় না সংসার ছিন্ন ভিন্ন হোক। তিনি বলেন, আজ যদি আমার সন্তান থাকত তাহলে হয় তো এমন ঘটনার শিকার হতে হত না, আমার জীবনে দাগ লেগে গেল সেটা তো আর ফিরে পাব না। পরিকল্পিত ভাবে আমাদের কাছ থেকে জুলুম করে দেনমোহরের পুরো টাকা আদায় করা হয়েছে। দেনমোহরের টাকা দিতেই হবে, আমিও রাজি, কিন্তু একসাথে এত টাকা দেওয়া কষ্টকর। এবিষয়ে আজিমের এক স্বজন জানান, জীবনে অনেক বিচার সালিশ করেছি দেখেছি। কিন্তু এটা বিচার ছিলনা এটা ছিল প্রহসন। কেন না ঘর ভাঙ্গা সহজ, কিন্তু ঘর সংসার করা কঠিন। তাদের মেয়ে ভাত খাবেনা পিতা মাতা বাড়িতে রেখে মেয়েকে বোঝাবে। নচেৎ তারাই তালাক নিতে মরিয়া। ঠিক আছে আবেগে মনের খেদে অনেক কিছু বলা যায়। কিন্তু সেটা বাস্তবে রুপ দেওয়া ঠিক না। বিচারে চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহচর ইলামদহী গ্রামের মুন্জুরের ভুমিকা ছিল কঠোর। দেনমোহরের পুরো এক লাখ ২১ টাকা চেয়ারম্যানের হাতে দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে মুন্জুরের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলা হলে তিনি জানান মেয়ে ভাত খাবে না, তালাক নিবে। সেক্ষেত্রে কারো কিছু করার নেই,এজন্য দেনমোহরের পুরো টাকা আদায় করা হয়েছে। এবিষয়ে পাঁচন্দর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের কাছে জানতে চাই, তালাকের নোটিশে দেনমোহর পরিশোধের কোন কথা উল্লেখ নাই এবং ছেলে পক্ষ দেনমোহরের টাকা দুই কিস্তিতে দিতে চেয়েছিল আপনি নাকি সময় দেন নি এই প্রশ্নের জবাবে তিনি কর্কশ ভাষায় বলেন,
কাজি কিভাবে লিখেছেন তিনি বলতে পারবেন আর পুরো টাকা আমি কেন আদায় করবো এমপি আয়েন উদ্দিনের ভাই বোর্ডে ছিল, আর বাহানচোদেরা আমার দোষ দিচ্ছে, শালাদেরকে বাধা উচিত ছিল, মানুষের ভালো করতে নেই বলে মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এবিষয়ে কাজি মিজানুর রহমান জানান, আমাকে চেয়ারম্যান ডেকে তালাক নামা লিখতে বলেছেন আমি সে অনুযায়ী কাজ করেছি। তালাকের নোটিশে দেনমোহর বিয়ের তারিখ এবং আপনার কোন স্বাক্ষর নেই কেন জানতে চাইলে তিনি জানান, এটা নোটিশ সাটিফাই কপিতে সব উল্লেখ করা হবে।
তবে তার কথার সত্যতা নিশ্চিত হতে অপর এক কাজির কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, নোটিশে দেনমোহর পরিশোধের টাকার পরিমান ও কাজির স্বাক্ষর থাকতেই হবে, এভাবে নোটিশ হয় না।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

তানোরে ইউপি চেয়ারম্যান মতিনের সালিশের নামে প্রহসণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ জুলাই ২০২২

রাজশাহী প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়নের (ইউপি) আলোচিত চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে তালাক বাণিজ্যর অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার পাঁচন্দর ইউপি ভবনে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইউপি জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানায়, গত ৩১ জুলাই রোববার পাঁচন্দর ইউপি ভবনে চেয়ারম্যান মতিন সালিশের নামে প্রহসণ করেছে। বিবাহ-বিচ্ছেদ
সালিশে বিবাদীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেখিয়ে দেনমোহরের পুরো টাকা আদায় করা হয়েছে।

তবে টাকা আদায় করা হলেও তালাকনামার নোটিশে সেটা লেখা হয়নি, উদ্দেশ্যে এসব টাকা নয়ছয় করে পরবর্তীতে আবারো ছেলের কাছে থেকে টাকা আদায়ের কৌশল।
স্থানীয় সুত্র জানায়, বিগত ২০২১ সালে উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির ইলামদহী গ্রামের আব্দুল বারীর কন্যা অন্তরা আক্তার সাথীর সঙ্গে মোহনপুর উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউপি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আফসার আলীর পুত্র শাহিন আজিমের বিবাহ হয়। কিন্ত্ত স্বামীর সঙ্গে আর সংসার করবে না বলে সাথী বাড়িতে চলে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রোববার পাঁচন্দর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশ বৈঠকে সাথী তার স্বামী আজিমের সঙ্গে আর সংসার করবেন না বলে জানান, তবে আজিম সংসার করতে চাই এবং তালাক দিতে অসম্মতি প্রকাশ করে। অথচ বিচারকগণ আজিমকে এক তরফা দিতে বাধ্য করিয়ে জোরপুর্বক দেনমোহরের পুরো টাকা আদায় করা হয়। এসময় আজিমের স্বজনরা দুই কিস্তিতে দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করতে চাই। অথচ আজিমকে আটকে রেখে পুরো টাকা আদায় করা হয়।তবে দেনমোহরের আদায় করা টাকার কথা কাগজে না লিখে গোপণ করা হয়। সালিশে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন,
আদালতে মামলা হলেও দেনমোহরের টাকা কিস্তি করে দেওয়া যায়, এই সালিশে সেটা মানা হয়নি, এটা সালিশ নামের প্রহসণ বৈ কিছু নয়। এবিষয়ে শাহিন আজিম জানান, সংসার জীবনে কোন কলহ বিবাদ ছিল না। কিন্তু আমি বাচ্চা নিতে চাইলেও কোনভাবেই নিতে দিত না মেয়ের মা। কেউ চায় না সংসার ছিন্ন ভিন্ন হোক। তিনি বলেন, আজ যদি আমার সন্তান থাকত তাহলে হয় তো এমন ঘটনার শিকার হতে হত না, আমার জীবনে দাগ লেগে গেল সেটা তো আর ফিরে পাব না। পরিকল্পিত ভাবে আমাদের কাছ থেকে জুলুম করে দেনমোহরের পুরো টাকা আদায় করা হয়েছে। দেনমোহরের টাকা দিতেই হবে, আমিও রাজি, কিন্তু একসাথে এত টাকা দেওয়া কষ্টকর। এবিষয়ে আজিমের এক স্বজন জানান, জীবনে অনেক বিচার সালিশ করেছি দেখেছি। কিন্তু এটা বিচার ছিলনা এটা ছিল প্রহসন। কেন না ঘর ভাঙ্গা সহজ, কিন্তু ঘর সংসার করা কঠিন। তাদের মেয়ে ভাত খাবেনা পিতা মাতা বাড়িতে রেখে মেয়েকে বোঝাবে। নচেৎ তারাই তালাক নিতে মরিয়া। ঠিক আছে আবেগে মনের খেদে অনেক কিছু বলা যায়। কিন্তু সেটা বাস্তবে রুপ দেওয়া ঠিক না। বিচারে চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহচর ইলামদহী গ্রামের মুন্জুরের ভুমিকা ছিল কঠোর। দেনমোহরের পুরো এক লাখ ২১ টাকা চেয়ারম্যানের হাতে দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে মুন্জুরের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলা হলে তিনি জানান মেয়ে ভাত খাবে না, তালাক নিবে। সেক্ষেত্রে কারো কিছু করার নেই,এজন্য দেনমোহরের পুরো টাকা আদায় করা হয়েছে। এবিষয়ে পাঁচন্দর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের কাছে জানতে চাই, তালাকের নোটিশে দেনমোহর পরিশোধের কোন কথা উল্লেখ নাই এবং ছেলে পক্ষ দেনমোহরের টাকা দুই কিস্তিতে দিতে চেয়েছিল আপনি নাকি সময় দেন নি এই প্রশ্নের জবাবে তিনি কর্কশ ভাষায় বলেন,
কাজি কিভাবে লিখেছেন তিনি বলতে পারবেন আর পুরো টাকা আমি কেন আদায় করবো এমপি আয়েন উদ্দিনের ভাই বোর্ডে ছিল, আর বাহানচোদেরা আমার দোষ দিচ্ছে, শালাদেরকে বাধা উচিত ছিল, মানুষের ভালো করতে নেই বলে মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এবিষয়ে কাজি মিজানুর রহমান জানান, আমাকে চেয়ারম্যান ডেকে তালাক নামা লিখতে বলেছেন আমি সে অনুযায়ী কাজ করেছি। তালাকের নোটিশে দেনমোহর বিয়ের তারিখ এবং আপনার কোন স্বাক্ষর নেই কেন জানতে চাইলে তিনি জানান, এটা নোটিশ সাটিফাই কপিতে সব উল্লেখ করা হবে।
তবে তার কথার সত্যতা নিশ্চিত হতে অপর এক কাজির কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, নোটিশে দেনমোহর পরিশোধের টাকার পরিমান ও কাজির স্বাক্ষর থাকতেই হবে, এভাবে নোটিশ হয় না।