তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর অধিকাংশ বিসিআইসি ডিলার বরাদ্দপ্রাপ্ত স্থানে ব্যবসা না করে অন্যস্থানে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ব্যবসা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ কৃষকদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, সময় ও অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। যে কারণ প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি করেছেন এলাকার কৃষকরা।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় মোট ৮৯টি বিসিআইসি সার ডিলার রয়েছে। এর মধ্যে বোয়ালিয়ায় ১ টি, মতিহারে ১টি, পবা উপজেলায় ১১টি, তানোর উপজেলায় ৯টি, মোহনপুর উপজেলায় ৪টি, বাগমারা উপজেলায় ১৮টি, দুর্গাপুর উপজেলায় ৯টি, পুঠিয়া উপজেলায় ৮টি, গোদাগাড়ী উপজেলায় ১০টি, চারঘাট উপজেলায় ৭টি এবং বাঘা উপজেলায় ৮ টি রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এদের মধ্যে পবা উপজেলার হজরী পাড়া ইউনিয়নে বিসিআইসি ডিলার মেসার্স জীবন কুমার সাহা । অথচ তিনি নওহাটা বাজারে ব্যবসা করছেন। একই উপজেলায় হড়গ্রাম ইউনিয়নে বিসিআইসি ডিলার মেসার্স অরবিন্দু সাহা নিমাই। কিন্তু তিনিও নওহাটা বাজারে ব্যবসা করেন। তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির বিসিআইসি ডিলার মেসার্স প্রণব কুমার সাহা ও তালন্দ ইউপির মেসার্স সুমন কুমার শীল। অথচ তারা তানোর পৌর এলাকায় ব্যবসা করেন। মোহনপুর উপজেলার রায়ঘাটি ইউনিয়নে মেসার্স রহমান ট্রেডার্স ও ঘাসিগ্রাম ইউপির মেসার্স মোশাররফ ট্রেডার্স। কিন্তু তারা দুজনেই কেশরহাটে ব্যবসা করেন। বাগমারা উপজেলার বাসুপাড়া বিসিআইসি ডিলার মেসার্স তামান্না ট্রেডার্স, তিনি ব্যবসা করেন ভবানীগঞ্জ। উপজেলার ঝিকরা বিসিআইসি ডিলার মেসার্স ছনি এন্টারপ্রাইজ, তিনি ব্যবসা করেন তাহেরপুর এবং বাগমারা উপজেলার যোগীপাড়া বিসিআইসি ডিলার মেসার্স সুফিয়া এন্টার প্রাইজ। তিনি ব্যবসা করেন তাহেরপুর। দূর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স লাল মোহাম্মাদ সরকার ব্যবসা করেন দূর্গাপুর পৌরসাভা এলাকায়। পুঠিয়া উপজেলার পুঠিয়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স ইছাহক আলী ব্যবসা করেন পুঠিয়া পৌরসাভা এলাকায়। গোদাগাড়ী উপজেলার গোদাগাড়ী ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স রায়হান ট্রেডার্স ব্যবসা করেন গোদাগাড়ী পৌরসাভা এলাকায়। চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স মুন্টি ট্রেডার্স ব্যবসা করেন অন্যত্র। বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স লুৎফর রহমান ব্যবসা করেন বাঘা পৌরসাভায়। গড়গড়ী ইউনিয়নের ডিলার হয়েও মেসার্স আঃ গনি বাঘা পৌরসভা এলাকায় ব্যবসা করেন এবং বাউশা এলাকার ডিলার মেসার্স আঃ আজিজ, আড়ানীতে ব্যবসা করেন। কৃষকরা জানান, বিসিআইসি ডিলারদের স্ব স্ব ইউনিয়নে গেডাউন বা দোকান না থাকায় তাদেরকে কষ্ট করে, সময় নষ্ট করে উপজেলা সদরে গিয়ে সার, ঔষুধ ক্রয় করে আনতে হয়। এতে সময় ও অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে কৃষকেরা। এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন জানান, বিসিআইসি ডিলাররা যারা অন্যত্র ব্যবসা করেন তাদেরকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে গিয়ে ব্যবসা পরিচালনার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। তবে আমরা আশা করছি খুব শিঘ্রই তারা তাদের সংশ্লিট এলাকায় গিয়ে ব্যবসা করবে। এবিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলন, ডিলারদের যে ইউনিয়নে আমাদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে তাদের ওই ইউনিয়নে ব্যবসা করার কথা। যদি ওই ইউনিয়নের বাইরে অন্য কোথাও তার গোডাউন থেকে থাকে তাহলে এটা বেআইনি কাজ। এজন্য যে উপজেলার ডিলার ওই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তার উপরে দ্বায় দায়িত্ব বর্তাবে। কারণ তার তদারকির অভাবে সে অবৈধভাবে ব্যবসা করছে।













