এখন ০৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেঁতুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কামরুলকে আটকের দাবি

রাজশাহী প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী মান্দার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের (ইউপি) আলোচিত চেয়ারম্যান মকলেছার রহমান কামরুলকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি তুলেছে সাধারণ মানুষ বলে গুঞ্জন বইছে। এদিকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির এমন জনবিরোধী কাজে উপজেলা জুড়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড় বইছে মুখরুচোক নানা গুঞ্জন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যানের বিরোধীতা করে প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে ভোট করায় বিদ্যুৎকে পিটিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছে জামায়াত মতাদর্শী চেয়ারম্যান মকলেছার রহমান কামরুল।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ হোসেন প্রামানিক (৪৫) নামের সাধারণ এক কৃষককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মকলেছার রহমান কামরুলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি বাদী হয়ে নওগাঁ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে-২ একটি মামলা করেন। মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান মকলেছার রহমান কামরুলসহ তাঁর ভাতিজা সাজেদুর রহমান সাজু, ব্যক্তিগত সহকারী কাবিরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও বাবুল হোসেনকে আসামি করা হয়। আদালতের বিচারক বিকাশ চন্দ্র বসাক মামলাটি রেকর্ডভূক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মান্দা থানার ওসিকে নিদের্শ দিয়েছেন। কিন্ত্ত আদালতের নির্দেশনার চেয়ারম্যানের দৌরাত্ম্য আরো বেড়ে গেছে। তাকে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েও ব্যর্থ হয়ে ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন। প্রকৃত ঘটনা ধাঁমাচাপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে চেয়ারম্যান এবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন। স্থানীয়রা বলছে, তার সংবাদ সম্মেলনই প্রমাণ করে তিনি দোষী এর মধ্য দিয়ে তিনি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন। কারণ চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যদি অপরাধী না হন, তাহলে সংবাদ সম্মেলন করার কি প্রয়োজন, তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা সবাই জানতে পারবেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম বিদ্যুৎ হোসেন প্রামানিক (৪৫)। তিনি উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের পানিয়াল গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ বলেন, পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামআদালতে তাঁর ওয়ারিশদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। এ মামলা ফি’র নামে চেয়ারম্যান কামরুলের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে নেওয়া হয় ২৫০০ টাকা। একইভাবে মামলার বিবাদীর কাছ থেকেও নেওয়া হয় একই পরিমাণ টাকা। বিদ্যুৎ আরও বলেন, ‘গ্রামআদালতে মামলা ফি’র নামে নেওয়া টাকার কথা সাবাই বাজারের অনেকের কাছে প্রকাশ করে দেই। এতে চেয়ারম্যান কামরুল আমার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।’ ভুক্তভোগী আরো বলেন, ‘এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোরবানির ঈদের দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে সাবাই বাজারের মাহাবুরের চায়ের দোকান থেকে আমাকে পরিষদে ধরে নিয়ে যান চেয়ারম্যানের ভাতিজা সাজেদুর রহমান সাজু। সেখানে আগে থেকেই চেয়ারম্যান কামরুল, চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী কাবিরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে বসা ছিলেন। চেয়ারম্যান আমাকে সামনে পেয়েই লোহার রড দিয়ে মারধর শুরু করেন। লোহার রডের আঘাতে আমার ডান হাতের হাড্ডি ভেঙে যায়। সংবাদ পেয়ে পরিবারের লোকজন পরিষদে এসে চেয়ারম্যানের কবল থেকে আমাকে বিধস্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।’ ভুক্তভোগীর ভাই আবদুল কুদ্দুস বলেন, ভাই বিদ্যুৎকে উদ্ধার করে প্রথমে মান্দা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু হাতের হাড্ডি ভেঙে যাওয়ায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসকেরা। সেখানে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে মান্দা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে নওগাঁ আদালতে মামলা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মকলেছার রহমান কামরুল বলেন, ‘বিদ্যুৎ হোসেনের বিবাদমান বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আবদুল হাকিমের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। টাকা পয়সা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।’
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ হোসেনকে মারধর করা হয়নি। পরিষদ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে হাতটি ভেঙে গেছে বলে শুনেছি। এবিষয়ে মান্দা থানার ওসি বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ মামলা করতে আসেননি। এবিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ-সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

তেঁতুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কামরুলকে আটকের দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই ২০২২

রাজশাহী প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী মান্দার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের (ইউপি) আলোচিত চেয়ারম্যান মকলেছার রহমান কামরুলকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি তুলেছে সাধারণ মানুষ বলে গুঞ্জন বইছে। এদিকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির এমন জনবিরোধী কাজে উপজেলা জুড়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড় বইছে মুখরুচোক নানা গুঞ্জন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যানের বিরোধীতা করে প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে ভোট করায় বিদ্যুৎকে পিটিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছে জামায়াত মতাদর্শী চেয়ারম্যান মকলেছার রহমান কামরুল।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ হোসেন প্রামানিক (৪৫) নামের সাধারণ এক কৃষককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মকলেছার রহমান কামরুলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি বাদী হয়ে নওগাঁ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে-২ একটি মামলা করেন। মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান মকলেছার রহমান কামরুলসহ তাঁর ভাতিজা সাজেদুর রহমান সাজু, ব্যক্তিগত সহকারী কাবিরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও বাবুল হোসেনকে আসামি করা হয়। আদালতের বিচারক বিকাশ চন্দ্র বসাক মামলাটি রেকর্ডভূক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মান্দা থানার ওসিকে নিদের্শ দিয়েছেন। কিন্ত্ত আদালতের নির্দেশনার চেয়ারম্যানের দৌরাত্ম্য আরো বেড়ে গেছে। তাকে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েও ব্যর্থ হয়ে ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন। প্রকৃত ঘটনা ধাঁমাচাপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে চেয়ারম্যান এবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন। স্থানীয়রা বলছে, তার সংবাদ সম্মেলনই প্রমাণ করে তিনি দোষী এর মধ্য দিয়ে তিনি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন। কারণ চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যদি অপরাধী না হন, তাহলে সংবাদ সম্মেলন করার কি প্রয়োজন, তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা সবাই জানতে পারবেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম বিদ্যুৎ হোসেন প্রামানিক (৪৫)। তিনি উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের পানিয়াল গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ বলেন, পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামআদালতে তাঁর ওয়ারিশদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। এ মামলা ফি’র নামে চেয়ারম্যান কামরুলের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে নেওয়া হয় ২৫০০ টাকা। একইভাবে মামলার বিবাদীর কাছ থেকেও নেওয়া হয় একই পরিমাণ টাকা। বিদ্যুৎ আরও বলেন, ‘গ্রামআদালতে মামলা ফি’র নামে নেওয়া টাকার কথা সাবাই বাজারের অনেকের কাছে প্রকাশ করে দেই। এতে চেয়ারম্যান কামরুল আমার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।’ ভুক্তভোগী আরো বলেন, ‘এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোরবানির ঈদের দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে সাবাই বাজারের মাহাবুরের চায়ের দোকান থেকে আমাকে পরিষদে ধরে নিয়ে যান চেয়ারম্যানের ভাতিজা সাজেদুর রহমান সাজু। সেখানে আগে থেকেই চেয়ারম্যান কামরুল, চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী কাবিরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে বসা ছিলেন। চেয়ারম্যান আমাকে সামনে পেয়েই লোহার রড দিয়ে মারধর শুরু করেন। লোহার রডের আঘাতে আমার ডান হাতের হাড্ডি ভেঙে যায়। সংবাদ পেয়ে পরিবারের লোকজন পরিষদে এসে চেয়ারম্যানের কবল থেকে আমাকে বিধস্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।’ ভুক্তভোগীর ভাই আবদুল কুদ্দুস বলেন, ভাই বিদ্যুৎকে উদ্ধার করে প্রথমে মান্দা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু হাতের হাড্ডি ভেঙে যাওয়ায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসকেরা। সেখানে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে মান্দা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে নওগাঁ আদালতে মামলা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মকলেছার রহমান কামরুল বলেন, ‘বিদ্যুৎ হোসেনের বিবাদমান বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আবদুল হাকিমের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। টাকা পয়সা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।’
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ হোসেনকে মারধর করা হয়নি। পরিষদ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে হাতটি ভেঙে গেছে বলে শুনেছি। এবিষয়ে মান্দা থানার ওসি বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ মামলা করতে আসেননি। এবিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ-সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।