জামাল উদ্দিন স্বপন, কুমিল্লা -ঃ কুমিল্লা সদরে প্রেমিককে ফোন করে বাড়িতে ডেকে নিয়ে রাতের আধারে মারধর করে শরীরে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রমিকা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এঘটনায় অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী যুবকের শরীরের ৭০শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।আশংকাজনক অবস্থায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।
বন্ধুত্বের সূত্র ধরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বড়দৈল দক্ষিণপাড়া এলাকার ড্রাইভার শফিক মিয়ার ছেলে অনিকের বাড়িতে প্রায়ই যাতায়াত ছিলো রবিনের। এক পর্যায়ে অনিকের বোন ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী তাসফিয়া আক্তার রুমা (১৬) এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে একই উপজেলার আমতলী এলাকার রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী রেজাউল মিয়ার ছেলে আরাফাত ইসলাম রবিন (২০)এর ।
ভুক্তভোগী যুবকের পিতা রেজাউল ইসলামের লিখিত অভিযোগ, প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী এবং সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, গতকাল বুধবার রাত আনুমানিক ৯টায় দোকান থেকে ২লক্ষ টাকা নিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে প্রেমিকা তাসফিয়া ফোন করে রবিনকে। এসময় অপর এক বন্ধু কে সাথে নিয়ে তার বাইকে চরে তাসফিয়াদের বাড়ি সামনে নেমে বন্ধুকে বাইক নিয়ে চলে যেতে বলে, তাসফিয়াদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এর কিছুক্ষণ পর আনুমানিক রাত ১০টায় তাসফিয়ার ভাই অনিক (২০) তার বাবা শফিক ড্রাইভার (৫৫) সহ আরো কয়েকজন রবিনকে ধরে বেঁধে বাড়ির পাশের একটি বাগানে নিয়ে যায়। অনিকের মটরসাইকেল থেকে পেট্রোল নিয়ে সেখানেই রবিনের শরীরের ওপর ঢেলে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সরে যায় । চিৎকার চেচামেচি শুনে স্থানীয় কয়েকজন নারী পুরুষ এগিয়ে এসে পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। তবে আগুনে মূহুর্তেই তার পুরুষাঙ্গ ও শ্বাসনালী সহ শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরে অবস্থার অরো অবনতি হলে রাতেই ঢাকায় প্রেরণ করা হয় যুবককে।
রবিনের বাবা রেজাউল জানান, বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। ডাক্তাররা তার জন্য দোয়া করতে বলেছেন৷
এদিকে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার সহ কেতয়ালী মডেল থানা পুলিশের অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাৎক্ষণিক ভাবে অভিযুক্তদের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক জিগ্যেসাবাদের জন্য তাসফিয়ার মা রোকসানা আক্তার কে আটক করে থানায় নেয়া হয়।
ক্যান্টনমেন্ট নাজিরা বাজার ফাঁড়ি পুলিশের এসআই সামসুল হক জানান, দুপুরে অভিযান চালিয়ে গুনানন্দি গ্রাম থেকে প্রধান অভিযুক্ত অনিক ও তাসফিয়া কে আটক করা হয়েছে। তদন্তের পাশাপাশি আটককৃতদের জিগ্যেসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। আহত রবিনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে, পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক আহতের খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি ।













