বিশেষ সংবাদদাতা -ঃ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলাবাসী ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। গত দু’ সপ্তাহ যাবৎ ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে প্রচন্ড দাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনে ১০-১৫ বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়ার সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে বিপাকে পড়েছে এসএসসি, দাখিল ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীগণ। বিদ্যুতের আসা যাওয়া এবং লোডশেডিংয়ের কারণে বাড়ি-ঘরের ইলেকট্রনিক পণ্যসহ বিভিন্ন খাবার পণ্যসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। প্রচন্ড দাপদাহের মধ্যে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে সর্বস্তরের জনগণ। লোডশেডিংয়ের কারণে বিপাকে পড়ছেন ব্যবসায়ী, খামারিসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।
নাঙ্গলকোট উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের অবস্থাও খুব খারাপ। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা ভাল ব্যবসার আশা গুনলেও বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে তাদেরকে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি প্রচন্ড তাপদাহে ক্রেতাদেরও হাস-পাস করতে হচ্ছে। অসংখ্য গ্রাহক লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা আর ক্ষোভ প্রকাশ করে চলছে।
প্রতিদিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ১২ ঘন্টাই বিদ্যুৎ থাকেনা। বিশেষ করে সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাত ১০টা পর প্রায় ২/৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। দুপুর, সন্ধ্যা এবং রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় ব্যাঘাতসহ উপজেলা সদরসহ গ্রামাঞ্চলে প্রচন্ড গরমে এলাকাবাসী ঘুমাতে পারেন না। অনেককে রাতে ঘন্টার-পর ঘন্টা বিদ্যুতের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়। বিদ্যুৎ সমস্যায় কাজকর্মের ব্যাঘাত ঘটায় উপজেলার ব্যবসায়ী, কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরাসহ সর্বস্তরের মানুষ ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান জনসাধারণ। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল লোটাস এমপির শতভাগ বিদ্যুতায়িত নির্বাচনী এলাকায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়টা কোন ভাবে মেনে নিতে পারছেননা সাধারণ গ্রাহকরা। সরকারের সাফল্যকে কিছু মহল ইচ্ছাকৃত প্রশ্নবৃদ্ধ করছেন বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।
এ উপজেলায় প্রায় পাঁচ লাখ লোকের বসবাস। বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার। কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি- ৪ এর অধীনে নাঙ্গলকোট জোনাল অফিস দু’টি সাব স্টেশনের মাধ্যমে গ্রাহকদের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছেন। শতভাগ বিদ্যুতায়িত এ উপজেলায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করণের লক্ষে কুমিল্লা ছাড়াও নোয়াখালী এবং ফেনী গ্রীড থেকেও লাইন নেয়া আছে।
নাঙ্গলকোট পৌর বাজারের প্লোটি খামার ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান সোহাগ বলেন, বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং হওয়ায় বিভিন্ন পোল্টি খামারের মুরগীর বাচ্চাদের সময়মতন তাপ না দেওয়ার কারণে বাচ্চা মারা যাচ্ছে এবং বাচ্চার বৃদ্ধি ঘটছে না। এছাড়া বাচ্চা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে করে খামারীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। উপজেলার কাদবা গ্রামের প্রবাসী মীর হোসেন বলেন, বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংএ জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ৫ওয়াক্ত নামাজের সময় বিদ্যুৎ থাকে না। যার ফলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা নামাজ পড়তে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। এছাড়া রাত ১০ টার পর ২/৩ ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকাবাসীকে প্রচন্ড গরমে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। বাঙ্গড্ডা বাজারের ব্যবসায়ী দ্বীন মোহাম্মদ জানান, দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে অসহ্য অবস্থায় জীবন কাটাতে হচ্ছে। বিভিন্ন ফাস্টফুড দোকানের ব্যবসায়ীদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। এছাড়া ঈদ মৌসুমে বাজারের ধান, চাল, হলুদ, মরিচ ভাঙ্গানো মেশিনগুলোতে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে এ এলাকাবাসীকে ঘন্টার-পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
নাঙ্গলকোট জোনাল অফিস ডিজিএম নীল মাধব বণিক বলেন, চাহিদার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেক কম হওয়ার কারণে ভয়াবহ লোডশেডিং হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে বার বার পরামর্শ চেয়ে সঠিক কোন সমাধান পাচ্ছিনা।













