এখন ০৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোরে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং

আলিফ হোসেন, তানোর -ঃ রাজশাহীর তানোরে পিডিবি ও পল্লীবিদ্যুতের অসহীয় লোড শেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে ওঠেছে। এছাড়াও ঘণ ঘণ লোড শেডিংয়ের কারণে নানান ধরণের কাজকর্ম বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে উপজেলা বাসিকে। অনেকেই ক্ষোভ ঝাড়ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিদিন চাহিদার তুলনায় মাত্র এক-চতুর্থাংশ পরিমান বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় কিছুটা লোড শেডিং হচ্ছে।
জানা গেছে, অনেক আগেই উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকরা বলছেন, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এক থেকে দুই ঘন্টা পর পর বিদ্যুৎ চলে যায় আবার এক ঘন্টা পর আসে। এতে ব্যবসা বানিজ্যসহ বিভিন্ন কাজকর্ম চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। এছাড়া ভ্যাপসা গড়মে অতিষ্ট হয়ে ওঠেছে সাধারণ মানুষ। লোড শেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে মুন্ডুমালা বাজারের ব্যবসায়ী রাশেল তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন“বিদ্যুৎখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পরেও যদি বিরামহীন লোডশেডিং চলতেই থাকে তাহলে এই উন্নতির সুবিধাটা কোথায় ? কামারগাঁ ইউপির মালার মোড়ের ব্যবসায়ী আইয়ুব ও আব্দুল বলেন,
লোড শেডিং হতেই পারে, কিন্তু একদম নামাজের সময় এটা কেমন কথা ? এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে আমরা মনে করি, তাই কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি”। কলমা ইউপির তানভির রেজা বলেন, ইরির মৌসুমে এতো লোডশেডিং থাকেনা, অথচ আষাঢ় মাসে বিদ্যুৎ এর এতো লোড শেডিং ? গত কয়েক দিন ধরে খুব ভেলকি বাজী চলছে। মুন্ডুমালা বাজারে অনলাইনে জমি খারিজের (নামজারি) আবেদন করতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন আবেদন থেকে শুরু করে অসংখ্য কাজ অনলাইনে করতে হচ্ছে। যে কাজ করতে ২০ মিনিট সময় লাগার কথা সেখানে বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারনে দুই ঘন্টায়েও শেষ করতে পারছি না। তিনি নিরবিচ্ছিন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। ওয়েলডিং ওয়ার্কশপ কারখানার এরশাদ আলী বলেন, প্রতিদিনই বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে রাতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ বার করে বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করছে। এতে ব্যবসায়ীকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে।
রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তানোর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জহুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় গ্রাহকের চাহিদার বিপরীতে মাত্র এক চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কিছুটা লোড শেডিং হচ্ছে। এছাড়া অনেক সময় লাইনের কিছু কাজকর্ম করতে গিয়ে বন্ধ রাখতে হয়। এতে করেও ওই ফিডার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে। আবার অনেক সময় মেইন লাইন বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের লাইনগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তবে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ পরিস্থিতী স্বাভাবিক হতে পারে তা বলা যাচ্ছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

তানোরে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ জুলাই ২০২২

আলিফ হোসেন, তানোর -ঃ রাজশাহীর তানোরে পিডিবি ও পল্লীবিদ্যুতের অসহীয় লোড শেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে ওঠেছে। এছাড়াও ঘণ ঘণ লোড শেডিংয়ের কারণে নানান ধরণের কাজকর্ম বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে উপজেলা বাসিকে। অনেকেই ক্ষোভ ঝাড়ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিদিন চাহিদার তুলনায় মাত্র এক-চতুর্থাংশ পরিমান বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় কিছুটা লোড শেডিং হচ্ছে।
জানা গেছে, অনেক আগেই উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকরা বলছেন, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এক থেকে দুই ঘন্টা পর পর বিদ্যুৎ চলে যায় আবার এক ঘন্টা পর আসে। এতে ব্যবসা বানিজ্যসহ বিভিন্ন কাজকর্ম চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। এছাড়া ভ্যাপসা গড়মে অতিষ্ট হয়ে ওঠেছে সাধারণ মানুষ। লোড শেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে মুন্ডুমালা বাজারের ব্যবসায়ী রাশেল তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন“বিদ্যুৎখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পরেও যদি বিরামহীন লোডশেডিং চলতেই থাকে তাহলে এই উন্নতির সুবিধাটা কোথায় ? কামারগাঁ ইউপির মালার মোড়ের ব্যবসায়ী আইয়ুব ও আব্দুল বলেন,
লোড শেডিং হতেই পারে, কিন্তু একদম নামাজের সময় এটা কেমন কথা ? এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে আমরা মনে করি, তাই কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি”। কলমা ইউপির তানভির রেজা বলেন, ইরির মৌসুমে এতো লোডশেডিং থাকেনা, অথচ আষাঢ় মাসে বিদ্যুৎ এর এতো লোড শেডিং ? গত কয়েক দিন ধরে খুব ভেলকি বাজী চলছে। মুন্ডুমালা বাজারে অনলাইনে জমি খারিজের (নামজারি) আবেদন করতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন আবেদন থেকে শুরু করে অসংখ্য কাজ অনলাইনে করতে হচ্ছে। যে কাজ করতে ২০ মিনিট সময় লাগার কথা সেখানে বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারনে দুই ঘন্টায়েও শেষ করতে পারছি না। তিনি নিরবিচ্ছিন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। ওয়েলডিং ওয়ার্কশপ কারখানার এরশাদ আলী বলেন, প্রতিদিনই বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে রাতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ বার করে বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করছে। এতে ব্যবসায়ীকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে।
রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তানোর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জহুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় গ্রাহকের চাহিদার বিপরীতে মাত্র এক চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কিছুটা লোড শেডিং হচ্ছে। এছাড়া অনেক সময় লাইনের কিছু কাজকর্ম করতে গিয়ে বন্ধ রাখতে হয়। এতে করেও ওই ফিডার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে। আবার অনেক সময় মেইন লাইন বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের লাইনগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তবে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ পরিস্থিতী স্বাভাবিক হতে পারে তা বলা যাচ্ছে না।