এখন ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো সৈয়দপুর গণহত্যা দিবস

তপন দাস, নীলফামারী প্রতিনিধি -ঃ মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের নৃশংসতার সাক্ষী নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গোলাহাটে সংঘটিত ‘ট্রেন গণহত্যা’ দিবস পালন করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টায় শহরের উপকণ্ঠে সৈয়দপুর-নীলফামারী রেল লাইনে গোলাহাট বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভে ‘আমরা একাত্তর’ সংগঠনের উদ্যোগে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, চারা রোপন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এসব কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন আমরা একাত্তরের কেন্দ্রীয় নেতা ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান। তিনিসহ বিশেষ অতিথি আমরা একাত্তরের কেন্দ্রীয় সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা হিলাল ফয়েজী, আবুল কালাম আজাদ, কানিজ রহমান, মীর সানোয়ার, নিয়ামত আলী খোকন, এনামুল আজিজ রুমী ও রেজাউর রহমান রেজু আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও শহীদ পরিবারের সন্তান মহসিনুল হক মহসিন, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু, শহীদ পরিবারের সদস্য রতন কুমার আগারওয়ালা, সাংবাদিক এম আর আলম ঝন্টু, আওয়ামীলীগ সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিটলার চৌধুরী প্রমূখ।

এতে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধার সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আমারা একাত্তরের স্থানীয় প্রতিনিধি ও পৌর দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান সরকার মুন্না।

সভার শুরুতেই শহীদ স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে আমরা একাত্তরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার অদম্য স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে গণহত্যার শিকার অগনিত বাঙালি রেলকর্মীদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

উল্লেখ্য ১৯৭১ সালে এদিন সৈয়দপুর শহরের বসবাসরত সংখ্যালঘু হিন্দু ও মাড়োয়ারীদের নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে জড়ো করা হয়। এরপর সবাইকে তোলা হয় একটি বিশেষ ট্রেনে। পরে ট্রেনটি শহরের উপকণ্ঠে গোলাহাট এলাকায় নিয়ে গিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়।

এখানে হানাদার পাক বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর অবাঙ্গালিরা ট্রেন থেকে নামিয়ে একে একে ৪৪৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বর্বর হত্যাযজ্ঞের স্থানটি সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত। আর সেই থেকে ১৩ জুন মুক্তিযুদ্ধকালীন সৈয়দপুরের গোলাহাট গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন হয়ে আসছে।

ঘটনার ৫১ বছর উপলক্ষে বধ্যভূমিতে ট্রেন থামিয়ে ৪৪৮ জন মাড়োয়ারিকে নৃশংস গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন আমরা একাত্তর নেতৃবৃন্দ। এমন দাবী তোলায় সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ওই ঘটনায় শহীদদের পরিবারসহ সৈয়দপুরবাসী।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো সৈয়দপুর গণহত্যা দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুন ২০২২

তপন দাস, নীলফামারী প্রতিনিধি -ঃ মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের নৃশংসতার সাক্ষী নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গোলাহাটে সংঘটিত ‘ট্রেন গণহত্যা’ দিবস পালন করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টায় শহরের উপকণ্ঠে সৈয়দপুর-নীলফামারী রেল লাইনে গোলাহাট বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভে ‘আমরা একাত্তর’ সংগঠনের উদ্যোগে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, চারা রোপন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এসব কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন আমরা একাত্তরের কেন্দ্রীয় নেতা ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান। তিনিসহ বিশেষ অতিথি আমরা একাত্তরের কেন্দ্রীয় সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা হিলাল ফয়েজী, আবুল কালাম আজাদ, কানিজ রহমান, মীর সানোয়ার, নিয়ামত আলী খোকন, এনামুল আজিজ রুমী ও রেজাউর রহমান রেজু আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও শহীদ পরিবারের সন্তান মহসিনুল হক মহসিন, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু, শহীদ পরিবারের সদস্য রতন কুমার আগারওয়ালা, সাংবাদিক এম আর আলম ঝন্টু, আওয়ামীলীগ সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিটলার চৌধুরী প্রমূখ।

এতে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধার সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আমারা একাত্তরের স্থানীয় প্রতিনিধি ও পৌর দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান সরকার মুন্না।

সভার শুরুতেই শহীদ স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে আমরা একাত্তরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার অদম্য স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে গণহত্যার শিকার অগনিত বাঙালি রেলকর্মীদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

উল্লেখ্য ১৯৭১ সালে এদিন সৈয়দপুর শহরের বসবাসরত সংখ্যালঘু হিন্দু ও মাড়োয়ারীদের নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে জড়ো করা হয়। এরপর সবাইকে তোলা হয় একটি বিশেষ ট্রেনে। পরে ট্রেনটি শহরের উপকণ্ঠে গোলাহাট এলাকায় নিয়ে গিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়।

এখানে হানাদার পাক বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর অবাঙ্গালিরা ট্রেন থেকে নামিয়ে একে একে ৪৪৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বর্বর হত্যাযজ্ঞের স্থানটি সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত। আর সেই থেকে ১৩ জুন মুক্তিযুদ্ধকালীন সৈয়দপুরের গোলাহাট গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন হয়ে আসছে।

ঘটনার ৫১ বছর উপলক্ষে বধ্যভূমিতে ট্রেন থামিয়ে ৪৪৮ জন মাড়োয়ারিকে নৃশংস গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন আমরা একাত্তর নেতৃবৃন্দ। এমন দাবী তোলায় সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ওই ঘটনায় শহীদদের পরিবারসহ সৈয়দপুরবাসী।