এখন ০৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকেরগঞ্জ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

সংবাদদাতা, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি -ঃ জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে উপজেলার যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অনুমোদন নিয়েও অনেক প্রতিষ্ঠান কোনো নিয়মকানুন মানছে না। নানা রকম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো চলছে। চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো চালিয়ে আসছে বছরের পর বছর। অথচ ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান দুরের কথা কার্যকারী ব্যাবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঔষধ প্রশাসনের উদাসিনতায় এই ধর চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সাধারণমানের থেকে শুরু করে নামিদামি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারও রয়েছে। গত ৮ এপ্রিয় নিয়ামতি বন্দর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইনসাফ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বেতাগী থানার বিবিচিনি গ্রামের জলিল হাওলাদার, তিনি জানান, আমরা এই হসপিটালে ১৫ দিন যাবত আমার মেয়ে সুমিকে নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছি। সিজারের মাধ্যমে আমার মেয়ে সুমির বাচ্চা হয়েছে। সিজার করা স্থানে তিন তিনবার সেলাই দেয়া হলেও কোন উন্নতি হয়নি। তাকে অনেকবার রক্ত দিয়েছি। সিজার করা স্থানে ইনফেকশন হয়ে পচন ধরেছে। আমার মেয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এরকম পরিস্থিতিতে আমার রোগীকে বরিশালে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদেরকে ইনসাফ হসপিটাল থেকে বের করে দিয়েছে। হসপিটালের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখানে কোন আবাসিক ডাক্তার থাকেনা যখন কোন রোগীকে অপারেশন করানো দরকার তখন ফোন করে বরিশাল থেকে ডাক্তার এসে অপারেশন করানো হয়। অপারেশন শেষে আর ডাক্তারদের সাথে দেখা মেলে না। নামেমাত্র নার্স দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করানো হয়।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বাকেরগঞ্জ খেজুরতলা ইসলামিয়া ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা দিয়ে আসছে। কয়েক মাস আগে নলছিটির চৌদ্দবুড়িয়া ঝোরারপোল গোচড়া গ্রামের মো: নাসির এর স্ত্রী তামান্নার নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে বাচ্চা জন্মগ্রহণ করলেও অপচিকিৎসায় মারা যায়। বালিগ্রাম খয়রাবাদ কবির হোসেনের স্ত্রী আমেনা বেগম ৩৫ সপ্তাহের সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা জন্মগ্রহণ করলেও চিকিৎসায় মারা যায়। এছাড়াও লোকমান হোসেন মিঠু ডি,এম,এফ, বিজয় কৃষ্ণ পাইক আর,এম,পি ও মিজানুর রহমান সোহেল ডি,ম,এফ দীর্ঘদিন যাবৎ ইসলামিক ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৩০০ টাকা ভিজিটে রোগী দেখে আসছেন। যাহারা কোন ডাক্তার নয় তাদের হাতে চিকিৎসা নিলে রোগ নিরাময়ের চেয়ে রোগী মৃত্যুর মুখে চলে যাবে। এছাড়াও পাদ্রিশিবপুর নিউমার্কেট নিরাময় ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নিয়ামতি বন্দর ডক্টরস পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দাড়িয়াল ইউনিয়নের কামারখালী বাজারে আধুনিক হেলথ কেয়ার লিমিটেড সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে রোগ নির্ণয়ের মেশিনগুলোর যান্ত্রিক ত্র“টি ও টেকনিক্যাল কাজে দক্ষ জনবলের অভাব, লাইসেন্সে ত্রুটি সহ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী জানান, সরকারি হিসাব মতে আমাদের উপজেলায় ৬ টি ক্লিনিক ও ৯ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। একটি প্রতিষ্ঠান অননুমোদিত ছিল সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অথচ কতটি অননুমোদিত ও অনুমোদিত চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে তার কোনো পরিসংখ্যান নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে চলছে কিনা তা তদারকির জন্য উপজেলাভিত্তিক কোনো কমিটি নেই। বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এবং জেলা পর্যায়ের প্রধান জেলা সিভিল সার্জন। তবে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় পরিচালিত চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার রয়েছে জেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন সংস্থার। এগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর চোখের আড়ালে থেকে চিকিৎসার নামে চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা অবৈধ বাণিজ্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল সিভিল সার্জন ডা: মারিয়া হাসান জানান, অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তবে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর বিষয়ে আগামী সপ্তাহে কার্যক্রম শুরু করব।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

বাকেরগঞ্জ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুন ২০২২

সংবাদদাতা, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি -ঃ জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে উপজেলার যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অনুমোদন নিয়েও অনেক প্রতিষ্ঠান কোনো নিয়মকানুন মানছে না। নানা রকম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো চলছে। চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো চালিয়ে আসছে বছরের পর বছর। অথচ ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান দুরের কথা কার্যকারী ব্যাবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঔষধ প্রশাসনের উদাসিনতায় এই ধর চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সাধারণমানের থেকে শুরু করে নামিদামি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারও রয়েছে। গত ৮ এপ্রিয় নিয়ামতি বন্দর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইনসাফ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বেতাগী থানার বিবিচিনি গ্রামের জলিল হাওলাদার, তিনি জানান, আমরা এই হসপিটালে ১৫ দিন যাবত আমার মেয়ে সুমিকে নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছি। সিজারের মাধ্যমে আমার মেয়ে সুমির বাচ্চা হয়েছে। সিজার করা স্থানে তিন তিনবার সেলাই দেয়া হলেও কোন উন্নতি হয়নি। তাকে অনেকবার রক্ত দিয়েছি। সিজার করা স্থানে ইনফেকশন হয়ে পচন ধরেছে। আমার মেয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এরকম পরিস্থিতিতে আমার রোগীকে বরিশালে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদেরকে ইনসাফ হসপিটাল থেকে বের করে দিয়েছে। হসপিটালের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখানে কোন আবাসিক ডাক্তার থাকেনা যখন কোন রোগীকে অপারেশন করানো দরকার তখন ফোন করে বরিশাল থেকে ডাক্তার এসে অপারেশন করানো হয়। অপারেশন শেষে আর ডাক্তারদের সাথে দেখা মেলে না। নামেমাত্র নার্স দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করানো হয়।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বাকেরগঞ্জ খেজুরতলা ইসলামিয়া ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা দিয়ে আসছে। কয়েক মাস আগে নলছিটির চৌদ্দবুড়িয়া ঝোরারপোল গোচড়া গ্রামের মো: নাসির এর স্ত্রী তামান্নার নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে বাচ্চা জন্মগ্রহণ করলেও অপচিকিৎসায় মারা যায়। বালিগ্রাম খয়রাবাদ কবির হোসেনের স্ত্রী আমেনা বেগম ৩৫ সপ্তাহের সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা জন্মগ্রহণ করলেও চিকিৎসায় মারা যায়। এছাড়াও লোকমান হোসেন মিঠু ডি,এম,এফ, বিজয় কৃষ্ণ পাইক আর,এম,পি ও মিজানুর রহমান সোহেল ডি,ম,এফ দীর্ঘদিন যাবৎ ইসলামিক ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৩০০ টাকা ভিজিটে রোগী দেখে আসছেন। যাহারা কোন ডাক্তার নয় তাদের হাতে চিকিৎসা নিলে রোগ নিরাময়ের চেয়ে রোগী মৃত্যুর মুখে চলে যাবে। এছাড়াও পাদ্রিশিবপুর নিউমার্কেট নিরাময় ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নিয়ামতি বন্দর ডক্টরস পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দাড়িয়াল ইউনিয়নের কামারখালী বাজারে আধুনিক হেলথ কেয়ার লিমিটেড সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে রোগ নির্ণয়ের মেশিনগুলোর যান্ত্রিক ত্র“টি ও টেকনিক্যাল কাজে দক্ষ জনবলের অভাব, লাইসেন্সে ত্রুটি সহ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী জানান, সরকারি হিসাব মতে আমাদের উপজেলায় ৬ টি ক্লিনিক ও ৯ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। একটি প্রতিষ্ঠান অননুমোদিত ছিল সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অথচ কতটি অননুমোদিত ও অনুমোদিত চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে তার কোনো পরিসংখ্যান নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে চলছে কিনা তা তদারকির জন্য উপজেলাভিত্তিক কোনো কমিটি নেই। বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এবং জেলা পর্যায়ের প্রধান জেলা সিভিল সার্জন। তবে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় পরিচালিত চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার রয়েছে জেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন সংস্থার। এগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর চোখের আড়ালে থেকে চিকিৎসার নামে চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা অবৈধ বাণিজ্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল সিভিল সার্জন ডা: মারিয়া হাসান জানান, অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তবে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর বিষয়ে আগামী সপ্তাহে কার্যক্রম শুরু করব।