
জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়; পঞ্চগড়ে সীসা বিষক্রিয়া ও সীসা দূষণ রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুরাতন ব্যাটারি, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার ব্যবহৃত ব্যাটারি এবং জুয়েলারি ব্যবসা থেকে সৃষ্ট বর্জ্য ও এসিডের যথাযথ ব্যবস্থাপনা না হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে বলে সভায় বক্তারা সতর্ক করেন।
৫ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় ব্যবহৃত পুরাতন ব্যাটারি, ব্যাটারি ভাঙা ও পুনর্ব্যবহারের সময় নির্গত বর্জ্য এবং জুয়েলারি দোকানের বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ও বর্জ্য থেকে পরিবেশে সীসা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বর্জ্য অপরিকল্পিতভাবে মাটিতে, পানিতে কিংবা খোলা জায়গায় ফেলা হলে দীর্ঘমেয়াদে মানুষ ও পরিবেশের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সীসার সংস্পর্শ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে উল্লেখ করে বক্তারা পুরাতন ব্যাটারি ও অন্যান্য সীসাযুক্ত বর্জ্য যথাযথ নিয়মে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীন বলেন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সীসা দূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পুরাতন ব্যাটারি ও অন্যান্য ক্ষতিকর বর্জ্য যেন যত্রতত্র ফেলা না হয়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদেরও সচেতন হতে হবে। সীসাযুক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়মনীতি মেনে চলার পাশাপাশি জনসাধারণকেও সচেতন করতে হবে।
বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিন) আলী আহসান মিলন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় ব্যবহৃত পুরাতন ব্যাটারি যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ব্যবহৃত ব্যাটারি যেন খোলা জায়গায় ফেলে রাখা বা অনিরাপদভাবে ভাঙা না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে।
পরিবেশ আন্দোলন বাপার পঞ্চগড় জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম জুয়েল বলেন, সীসা দূষণ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের হুমকি। তাই উৎস পর্যায় থেকেই সীসাযুক্ত বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
সভায় জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি রবিন চন্দ্র বনিক ও সাধারণ সম্পাদক মধুসূদন বনিক রনি জুয়েলারি ব্যবসা থেকে উৎপন্ন বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থের নিরাপদ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বক্তব্য দেন।
সচেতনতামূলক সভায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শহরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী, পরিবেশবাদী, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা সীসা বিষক্রিয়া প্রতিরোধে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, পুরাতন ব্যাটারি ও সীসাযুক্ত বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের পরিবেশগত বিধিবিধান মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।















