1. crimeletter24@gmail.com : crimelet_crimelet :
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:০৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
তানোরে বোরো চাষে খরচ বাড়ছে গোপালগঞ্জ পুইশুরের কৃতিসন্তান মরহুম ছোটন সিকদারের মৃত্যু বার্ষিকী রমজানে পণ্যের অভাব নেই – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাকের পার্টির নেতাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা সহ টাকা ছিনতাই অভিযাত্রিকের ২৩২৬ সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত রাজধানীর ডেমরায় যৌতুক লোভী স্বামীর অত্যাচারে গৃহবধু মৌসুমী এখন দিশেহারা গলাচিপায় অবৈধ জাল অপসারণে বিশেষ কম্বিং অপারেশন শুরু গলাচিপায় আইপিএম পদ্ধতিতে বেগুন উৎপাদন শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস মুন্সীগঞ্জ সদরের রিকাবীবাজার মাছ আড়তে ৩৫ মণ জাটকা জব্দ মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা উপ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে,আজ থেকে প্রচারণা

পঞ্চগড়-১ বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হলেন নতুন মুখ নাঈমুজ্জামান মুক্তা প্রতিশ্রুটি বাস্তবায়নে চাইলেন সহযোগিতা

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৭২ ০৫ বার পঠিত

মোঃ রেজাউল করিম আলম, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্ধির চেয়ে ৬৭ হাজার ৫৩২ বেশি ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা। তিনি আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করলেন।

নাঈমুজ্জামান ভূইয়া মুক্তা নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৪২ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ছিলেন ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত স¤্রাট। তিনি পেয়েছেন ৫৭ হাজার ২১০ ভোট। ভোটের জয়লাভের ব্যবধান ৬৭ হাজার ৫৩২ ভোট।

এ আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন আরও চার প্রার্থী। অপর প্রতিদ্বন্ধিদের মধ্যে বিএসপির আব্দুল ওয়াদুদ বাদশা একতারা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ৩৭১ ভোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মশিউর রহমান বাবুল আম প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ৩৯৯ ভোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির সিরাজুল ইসলাম টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ৪৮১ ভোট ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আব্দুল মজিদ ছড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৭৪৩ ভোট।

এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৩ জন। তার মধ্যে নির্বাচনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৪৬ টি। ভোট বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৬৩৩ টি। ভোট প্রদানের হার ৪৪ দশমিক ০৮ শতাংশ।

গতকাল ৭ জানুয়ারী রোববার দেশের সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে পঞ্চগড়ের দুটি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করতে দুটি আসনে মাঠে দায়িত্ব পালন করেছেন ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং দুইজন বিচারক। এছাড়া মোতায়েন করা হয় ৪ হাজার ৬৪৪ জন ফোর্স। ভোট কেন্দ্র, ভ্রাম্যমান ও স্ট্রাইকিং এ ৮৫২ জন পুলিশ সদস্য, ১৩ প্লাটুন বিজিবি, ৪ প্লাটুন র‌্যাব, ৪ প্লাটুন এপিবিএন পুলিশ ও ৮ প্লাটুন আনসার।

রোববার রাতে পঞ্চগড় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেসরকারিভাবে এ ফলাফলে পঞ্চগড়-১ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী নাঈমুজামান ভুইয়া মুক্তার নাম ঘোষনা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম।

এদিকে নৌকার বিজয়ের পর সন্ধ্যার পর থেকে এ আসনে নৌকার জয়ধ্বনিতে আনন্দ মিছিল করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন নাঈমুজ্জামান মুক্তা। সৌজন্য সাক্ষাতে বিপুল ভোটে জয়ী করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন, তাদের প্রতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা থাকবেই, তাই আগামীকাল থেকে সব প্রতিদ্বন্ধিতার দ্বন্ধ-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে ভোটারদের কাছে দেয়া প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানান মুক্তার সহধর্মিনী কাজী মৌসুমী তুম্পা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচনী পরিচালনার কো-চেয়ারম্যান বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ তারিন, যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হাকিম, আতাউর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত আলীসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী ও ভোটাররা।

নাঈমুজ্জামান ভুইয়া মুক্তা জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাবেক জনপ্রেক্ষিত কর্মকর্তা। তিনি গত ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। সে সময় মনোনয়ন না পেলেও সে সময় থেকেই এ আসনের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌছতে ‘হামার পঞ্চগড় হামরাই গড়িমো’-পরিকল্পনা নিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে, পথে-ঘাটে চষে বেড়িয়ে মানুষের সাথে কথা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন একটি স্মার্ট পঞ্চগড় গড়ার স্বপ্ন নিয়ে নির্বাচনের ভোট গ্রহণের কয়েকদিন আগে ভোটারদের কাছে ৩৮ পৃষ্ঠার একটি আঞ্চলিক ইশতেহার তুলে ধরেছেন।

মেডিকেল কলেজ স্থাপন, কারিগরি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন, ক্রীড়া শিক্ষা/ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, জ্ঞান, দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান এবং ব্যক্তির শক্তি বিকাশ উপযোগী শিক্ষা, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ল্যাব স্থাপন, একটি হাই-টেক পার্ক/ আইটি ভিলেজ স্থাপন, পঞ্চগড়কে বহুমাত্রিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা, পরিকল্পিত এবং কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ডিজিটাল পঞ্চগড় থেকে স্মার্ট পঞ্চগড়ের পথে যাত্রা, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ, আগামীর পঞ্চগড়কে তারুণ নির্ভর করে গড়ে তোলা, অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক পঞ্চগড় বিনির্মাণ, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে উদার ও অসাম্প্রদায়িক প্রজন্ম গড়ে তোলার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এছাড়াও জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ৭২ এর সংবিধানের চার মূলনীতি অনুযায়ী দেশ ও পঞ্চগড় গড়ার ঘোষণা করেন। এখন এমপি হওয়ার পর এ ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে পারলে বদলে যেতে পারে পঞ্চগড় এমনটি মনে করছেন জেলার সুশীল নাগরিকরা।

সে ইশতেহারে আওয়ামীলীগের ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে দিন বদলের হাতিয়ার হিসেবে শিক্ষা, কৃষি ও কৃষি পণ্যের বহুমুখীকরণ, গ্রাম কেন্দ্রিক অংশগ্রহণ মূলক উন্নয়ন, আমার গ্রাম-আমার শহর, তারুণ্যের শক্তি, পঞ্চগড়ের সমৃদ্ধি ও পরিবেশ- জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে চেকসই উন্নয়ন এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ