1. crimeletter24@gmail.com : crimelet_crimelet :
রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন

বিজিবি’র করা মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করে কোর্টে চার্জশীট দাখিলের অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১৩৯ ০৫ বার পঠিত

আনোয়ার হোসেন আরিফ, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি -ঃ- ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ তিলাই গ্রামের আজিজ (৪৫), পিতা, মৃত হাছেন আলী এর বিরুদ্ধে বিজিবি’র করা মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করে কোর্টে চার্জশিট দাখিলের অভিযোগ উঠেছে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ০৩/০৮/২০২২ ইং তারিখে আনুমানিক সকাল ৯ টা ১৫ মিনিটে ভাওয়াল কুড়ি বিওপি ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি)’র অধীনস্থ কর্মরত রেজি নং ৪৯৩১১ নায়েক আঃ মজিদ এর নেতৃত্বে টহলরত বিজিবি সদস্যগণ তিলাই ইউনিয়নের মেইন পিলার ৯৯৭/৬ এস এর পাশে ভারত বাংলার দুধকুমার নদীর পাড়ে বিজিবি চেকপোস্টে টহলরত বিজিবি সদস্যগন ভারতীয় গরু আটকের উদ্দ্যেশে নৌকা যোগে প্রায় হাফ কিলোমিটার ভারতের ভিতরে প্রবেশ করেন। নৌকায় থাকা একটি ভারতীয় বাছুর গরু নিয়ে অজ্ঞাত ৪/৫ জন ভারতীয় নাগরিকদের সাথে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনা উল্লেখ করে বিজিবি নায়েক আব্দুল মজিদ বাদী হয়ে গত ০৪/০৮/২০২২ ইং তারিখে ভূরুঙ্গামারী থানায় আজিজ (৪৫) কে অভিযুক্ত করে ৯ জন বাংলাদেশী নাগরিকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে একটি মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখিত ঘটনা ৫ নং আসামীর হুকুমে ১ নং আসামী তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে স্পীড বোট চালক সহকারী আঃ হামিদকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় ডাং মারে, ডাং মাথার উপরের বাম পার্শ্বে লেগে রক্তাক্ত জখম হয়। কিন্তু ৩ নং তিলাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দেওয়া প্রত্যয়ন পত্র, ভিডিও সাক্ষাৎকার, এলাকাবাসীর দেওয়া সাক্ষাতকার ও বিভিন্ন অনুসন্ধান বলছে ভিন্ন কথা। গত ০৩/০৮/ ২০২২ ইং তারিখে ঘটনা চলাকালীন সময় আনুমানিক সকাল ৯.০০ ঘটিকা হইতে দুপুর ১২.০০ ঘটিকা পর্যন্ত ভুক্তভোগী চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নতুন হাট বাজারে মাইদুল ইসলাম (৪৫), পিতা মৃত আবু বক্কর আকন্দ, গ্রাম: চর- ভূরুঙ্গামারী, ডাকঘর: চর ভূরুঙ্গামারী, উপজেলা: ভূরুসামারী, জেলা: কুড়িগ্রাম এর সাথেই ছিলেন। ঘটনার সময় উপস্থিত স্বাক্ষী ১। মোঃ কারুজ্জামান চেয়ারম্যান ৩ নং তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম। ২। মোঃ শাজাহান আলী (৩৫), পিতা মৃত আইনুদ্দিন শেখ, ৩। মোছাঃ ময়না বেগম (৪০) স্বামী মো: জামাল হোসেন, সর্ব সাং দক্ষিণ তিলাই গনের সামনে দিবালোকে ভারতের প্রায় হাফ কিলো মিটার ভিতরে বিজিবি ও নৌকায় থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর মামলাটির তদন্তকারী কমকর্তা হিসাবে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। সাঈদ আতিক নূর, সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র), বিপি ৯৪১৯২২৩৫৪৪ ভূরুঙ্গামারী থানা কে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটি তদন্তে গিয়ে ভুক্তভোগীকে ভূরুঙ্গামারী থানায় ডেকে আসে। তৎপর গত ২০/১১/২০১২ ইং তারিখে ভূরুঙ্গামারী থানার সামনে মকবুল হোসেনের হোটেলে তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে দেখা করতে গিয়ে দেখে মামলার ২ নং আসামী লাভলু (৩৫), ৪ নং আসামী ছদরুল (৫০), ৬ নং আসামী খোকন (৩০) সহ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা একই টেবিলে বসে মামলার চার্জশীট হতে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ হতে ৪০ হাজার টাকা করে ঘুষ দাবী করে, পরে আজিজের উপস্হিতিতে ৪ নং আসামী ছদরুল এর কাছ হতে ৪০ হাজার টাকা, ৬ নং আসামী খোকন এর কাছ হতে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন করে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাইদ আতিক নূর। এবং চার্জশীট হতে ভুক্তভোগী কে অব্যাহতি দিবে মর্মে তার কাছে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। চাহিদা মতো ঘুষের টাকা না দেওয়ায় পরবর্তীতে মামলায় থাকা ৯ জন আসামীর মধ্যে চার্জশীট হতে ৭ জন আসামী কে অব্যাহতি দিয়ে তাকে অভিযুক্ত করে ২ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সাঈদ আতিক নূর।

এ বিষয়ে মামলার বাদী নায়েক আঃ মজিদ এর কাছে জানতে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার কল দিলেও কল রিসিভ করেন নি।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাইদ আতিক নুর এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি মামলার রাইটার মাত্র।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ