1. crimeletter24@gmail.com : crimelet_crimelet :
শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি (এনপিএস) খুলনা বিভাগ লাকসাম আজগরা ইউপি আ’স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী সমাবেশ ও পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে দুদকের গণশুনানি অনুষ্ঠিত বিরামপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ বগুড়ায় দুদিনব্যাপী জামাই মেলা: বড় মাছ কেনার লড়াইয়ে জামাই-শ্বশুর অভিযাত্রিক সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ-এর ২২৭২ তম সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত প্রশাসনের বন্ধ করা অবৈধ ইটভাটা ফের চালু তানোরে কৃষক দলের আহবায়ক কমিটি গঠন তানোরের দুই মেয়র গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপণে নাগেশ্বরীতে ১৮ টি সংখ্যালঘু পরিবার সরকারের সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বাস্তবায়ন হয়নি, মন্দিরের সংস্কার কাজ

তানোরে নয়নজুলি দখলের হিড়িক

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৩২ ০৫ বার পঠিত

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ- রাজশাহীর তানোরে চলছে রাস্তার ধারের সরকারী জমি মাটি কাটার খাদ (নয়নজুলি) দখলের হিড়িক। অথচ বিষয়টি যেনো দেখার কেউ নাই। নয়নজুলি মানে কী ? এ প্রশ্নে শহুরের মানুষ যে ভ্রু কুঁচকাবেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে গ্রামের বয়স্করা কেউ কেউ হয়তো এর মানে বলতে পারবেন, কিন্তু শিশু-কিশোরদের মাথায় এ শব্দটি একেবারেই নেই। আবার কেউ কেউ বলেন, জলনিকাশের নর্দমা। আবার অনেকে বলেন, সড়ক যদি হয় মানুষের নাক, তবে তার দুই পাশে দুই চোখ হলো সড়কের নয়নজুলি। আগের দিনে রাস্তা তৈরি হতো দুপাশ থেকে কাটা মাটি দিয়ে। সেই মাটি কাটার কারণে সড়কের দুপাশে তৈরি হতো নয়নজুলি। এই নয়নজুলি পরে বড় কোনো খাল, বিল বা নদীর সঙ্গে মিশে যেত। বর্ষায় পানি জমে থাকত নয়নজুলিতে। খেতে সেচের কাজ, গরুর গা ধোয়ানো, পাট পচানো বা গ্রাম্য কিশোর-কিশোরীদের গোসল হতো নয়নজুলির পানিতে। আসলে নয়নজুলি ছিল আমজনতার খাসজমি, যেখানে পানিটুকুই ভরসা। সেই নয়নজুলি হঠাৎ সড়ক থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে গেল।জানা গেছে, মহাসড়ক আইন ২০২১’ নামে দেশে একটি আইন আছে। সেই আইনের ১৫ (খ) ধারায় বলা আছে, সড়ক-মহাসড়কের ঢাল বা কিনারার পর নয়নজুলিও থাকবে। কিন্তু সড়কের ডিজাইন যাঁরা করেন, তাঁরা এসব আইনের ধার ধারেন না। এখন সড়কের মাটি বা বালু আনা হয় অন্য স্থান থেকে। ফলে সড়কের পাশে এই সামান্য নয়নজুলির দিকে কারও নজর থাকে না। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মনির হোসেন পাঠানের কথাতেও এর আঁচ পাওয়া গেল। তিনি বলেন, এত সড়কে পানিনিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা সম্ভব না। তবে প্রয়োজন হলে রাখা হয়। এ জন্য তিনি সড়কের পাশের জমির মালিকদের অভিযুক্ত করে বলেন, সড়কের পানি যাওয়ার মহাসড়কে নেই নয়নজুলি। সড়ক-মহাসড়কের জন্য পানি আটকে থাকা অত্যন্ত ক্ষতিকর। সড়কে বেশিক্ষণ পানি জমে থাকলে সড়কের বিটুমিন নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে যত দ্রুত সম্ভব সড়ক থেকে বৃষ্টির পানি নামিয়ে দেওয়া হয়। এ জন্য মাঝখানে উঁচু এবং দুপাশে ঢালু করে দেওয়া হয়, যাতে পানি দ্রুত সড়ক থেকে নেমে যেতে পারে। কিন্তু সড়কের এই পানি নামবে কোথায় ? এর জন্য থাকবে নয়নজুলি। বৃষ্টির সময় সড়কের পানিতে যাতে পাশের খেতের ফসল নষ্ট না হয়, সে জন্য থাকবে নয়নজুলি। কিন্তু এখন কোনো সড়কে নয়নজুলি নেই। সব বেদখল। উপজেলায় কি পরিমান নয়নজুলি রয়েছে, কতটুকু বে-দখল হয়েছে এসব বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি ভূমি অফিস ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। এদিকে তানোর-বায়া, তানোর-আমনুরা ও তানোর-চৌবাড়িয়া রাস্তার ধারের সিংহভাগ নয়নজুলি উধাও। স্থানীয় প্রভাবশালীরা জবরদখল করেছে। সরেজমিন দেখা গেছে, তানোর-বায়া রাস্তার থানা মোড়, গোল্লাপাড়া বাজার, মেডিক্যাল মোড়, কাশেম বাজার, কালীগঞ্জহাট, তানোর-মুন্ডুমালা রাস্তার যোগীশো মোড়, দেবীপুর, প্রাণপুর মোড়,তানোর-চৌবাড়িয়া রাস্তার চৌবাড়িয়া প্রেট্রোল পাম্প, মাদারীপুর বাজার, সাধুর মোড়, মালার মোড়, চাপড়া প্রভৃতি স্থানে নয়নজুলি ভরাট করে কাঁচা-পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

এবিষয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েট শিক্ষক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামানবলেন, সড়কের পানি নেমে যাওয়ার একটি ভালো ব্যবস্থা থাকতে হবে। খরচ বেশি হলেও এই ব্যবস্থা করতেই হবে। সড়কের পানি যদি মানুষের খেতে গিয়ে পড়ে, সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এ জন্য নয়নজুলিই সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ