1. crimeletter24@gmail.com : crimelet_crimelet :
শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
পঞ্চগড়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সার্বক্ষনিক স্বাভাবিক প্রসব সেবা জোরদার করণ বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনূষ্ঠিত খোঁজ মিললো নিখোঁজ প্রার্থী আসিফের তানোরে মটর মালিকের দৌরাত্ম্য কৃষকেরা অতিষ্ঠ গোদাগাড়ীতে শেখ কামাল আন্ত: স্কুল ও মাদ্রাসা অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন বরগুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির সহযোগী করছে ছাত্রলীগ কর্মীরা পাইকগাছা উপজেলা খাদ্যগুদামে খাওয়ার অনুপযোগী চাউল স্যাম্পল রেখে ফেরত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও মমতাজ বগুড়া-৪ আসনে ৮৩৪ ভোটে হারলো হিরো আলম, জয়ী তানসেন ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের দুই
সিংহের মধ্যে রাসেল অবশেষে মারা গেছে
আজ সাপ্তাহিক তিতাসের সম্পাদক ও লেখক রেজাউল করিমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী বড় ব্যবধানে জিতে সেই সাত্তার এমপি

কাউন্সিলরা যখন অস্ত্রধারী ডাকাত

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৫০ ০৫ বার পঠিত

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ- রাজশাহীর মোহনপুরের কেশরহাট পৌরসভার ৪ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার কেশরহাট বাজারের মেসার্স এফজে এন্টারপ্রাইজের (মোটরসাইকেল শো-রুম) ম্যানেজার মাহমুদ ইসলাম বাদি হয়ে ৪ জন কাউন্সিলরসহ মোট ১০ জনকে আসামি করে আদালতে ডাকাতি মামলা করেছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত কাউন্সিলরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নাগরিকগণ বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে মামলা করে চরম হুমকিতে রয়েছেন মামলার বাদি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,গত বুধবার রাতে হলদাগাছি গ্রামে তিনজন আসামী মাহমুদকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মামলা তুলে  না নিলে গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় গত ২০ ডিসেম্বর বৃহস্প্রতিবার নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন বাদী মাহমুদ বলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের নিশ্চিত করেছেন।

 মামলার এজাহারভূক্ত আসামীরা হলেন, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাবের আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবুল হোসেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসলাম হোসেন, এক নম্বর ওয়ার্ডের একরামুল হক ও কাউন্সিলর সাবের আলীর সহকারি কোরবান আলী। এদের মধ্যে বাবুল হোসেন পৌরসভা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। আর সাবের আলী জেলা যুবলীগের সহসাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি বিএনপি ছেড়ে যুবলীগে যোগদান করেন।স্থানীয়রা জানান, এক সময়ের দিনমজুর সাবের আলী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে রাতারাতি টাকার কুমির হয়েছেন। তার বিশাল বিত্ত-বৈভব অর্জন নিয়ে সাধারণের মুখরুচোক নানা গুঞ্জন রয়েছে। তারা সাবেরের সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান দাবি করেছেন।
এদিকে মামলা ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর কেশরহাট বাজারের এফজে এন্টারপ্রাইজের মোটরসাইকেল শোরুমের ম্যানেজার মাহমুদ ইসলাম শোরুমের হিসাব-নিকাশ শেষ করে রাত পৌনে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। শোরুম থেকে বের হয়ে প্রায় ১০০ গজ দুরে ব্রীজের উপর পৌঁছালে চার কাউন্সিলর ও তার লোকজন পথরোধ করে পিস্তল ধরে চাঁদা দাবি করে। দিতে অস্বীকার করলে তাকে পিটিয়ে জখম করে তার কাছ থেকে ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার ব্যাগ কেড়ে নেয়। পরে তার শোরুমের কর্মচারিরা মাহমুদকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনার পরের দিন ৩০ অক্টোবর এফজে এন্টারপ্রাইজের মালিক জামাল হোসেকেও হুমকি দেয় ওই কাউন্সিলররা। এ ঘটনায় ওই দিন তিনি মোহনপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন। এছাড়াও এ ঘটনার একদিন পর রাতের আঁধারে চার কাউন্সিলের লোকজন কেশরহাট বাজারের জামাল হোসেনের নির্মাণধীন ভবনে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলাও করেন জামাল হোসেন। এরপর চিকিৎসা শেষে গত ১ ডিসেম্বর মাহমুদ হোসেন আদালতে চার কাউন্সিলরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এবিষয়ে 
মাহমুদ ইসলাম বলেন, আমি শোরুমের টাকা নিয়ে রাতে বাড়ি ফিরার পথে চারজন কাউন্সিলর তার লোকজন নিয়ে আমার পথ রোধ করে এবং বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে টাকার ব্যাগ কেড়ে নেয়। এ সময় তারা আমাকে মারপিট করে জখম করে রাস্তার উপর ফেলে দেয়। আমি চিকিৎসা শেষে আদালতে মামলা দায়ের করেছি। এখন তারা এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেলা করছে। আমাকে মামলা তুলে নিতে অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। মামলা তুলে না নিলে গুলি করে মেরে ফেলবো বলেও হুমকি দিচ্ছে।এবিষয়ে কেশরহাট এফজে শোরুমের মালিক জামাল হোসেন বলেন, তারা বেশ কিছু দিন আগে থেকে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলো। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা প্রথমে হিজরা পাঠিয়ে আমার শোরুমে হামলা করায়। এ সময় আমাকে তারা মারপিটও করে। এর পর তারা আবার আমার ম্যানেজারের কাছ থেকে ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তাদের হুমকিতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে তার ন্যায বিচার পাওয়া নিয়েও সংশয় রয়েছে। এবিষয়ে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাবের আলী বলেন, আমিসহ চার কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা হয়েছে। আমরা সকলে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছি। ঘটনাটি সত্য নাকি মিথ্যা তা সঠিক তদন্ত হলে বেরিয়ে আসবে। এ মামলা নিয়ে কাউকে হুমকি দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। এবিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আসামীরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন। তাই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভাব হচ্ছে না। তবে হুমকি দেয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এবিষয়ে মোহনপুর থানার ওসি সেলিম বাদশাহ বলেন, আমি যোগদানের আগে এ ঘটনা। এছাড়াও মামলাটি আদালতে হয়েছে। আদালত মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষের পথে। দ্রুত প্রতিবেদন আদালতে পাঠাবো। তিনি আরও বলেন, আমি যোগদানের পর পৌর এলাকার মরগা বিলের বরফ মিলে একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। আমরা দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোর্পদ করেছি। আশা করছি, ওই ডাকাতির ঘটনাও দ্রুত প্রতিবেদন দিতে পারবো। এবিষয়ে জানতে চাইলে কেশরহাট পৌর মেয়র শহীদ কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ