1. crimeletter24@gmail.com : crimelet_crimelet :
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:৪২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
চকরিয়ায় সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানে শ্রেষ্ঠ জয়িতা ২২ পুরস্কার পেলেন জিনিয়া মুছা আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপন উপলক্ষে চকরিয়ায় মানববন্ধন ও আলোচনা রংপুরে সাহিত্য সংস্কৃতি সামাজিক সংগঠন ‘ফিরেদেখা আয়োজনে রোকেয়ার ভাস্কর্যে পুষ্পমাল্য অর্পণ ইউএনও সহ পাইকগাছার ৫ নারী পেলন জয়িতা সম্মাননা বাগাতিপাড়ায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত সরকারী সুবিধা বঞ্চিত মহাছেনা’র জীবন হাতে হাত রেখে সরকারি কর্মকর্তা, শিশু থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ‘না’ বললো দুর্নীতিকে ‘বিজিবি -বিএসএফ এর সীমান্ত বৈঠক ফলপ্রসু হয়েছে’  আদমদীঘিতে নৈশপ্রহরীর ২য় স্ত্রীর আত্মহত্যা গোদাগাড়ীতে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও ২০২২ উদযাপন উপলক্ষে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা

কুমড়ো বড়ি বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন, বিরামপুরের অনেক পরিবার

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২২
  • ৩৫ ০৫ বার পঠিত

এস এম মাসুদ রানা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি -ঃ- ডাল রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় কুমড়ো বড়ি। এটি তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের প্রায় অনেক পরিবার। একে পেশা হিসেবে নিয়েছে তারা। আগে শীতকালে এই পণ্যটির বেশি চাহিদা থাকতো। সেই কারণে শুধু শীতকালেই বড়ি তৈরি হতো। সারাদেশে চাহিদা ক্রমশ বেড়েছে। ফলত, পরিবারগুলোর ওপর তাগিদ সৃষ্টি হয়েছে সারাবছরই সরবরাহের।

সরেজমিনে বিরামপুর উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বড়ি তৈরি করে শুকানোর জন্য সারি সারি রোদে দেওয়া। নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও এই কাজ করছেন। এটি তৈরির প্রধান উপকরণ এংকার ডাল,মাষকলাইয়ের ডাল,খেসারির ডাল এবং সামান্য মসলা দিয়ে বানানো হচ্ছে।

প্রথমে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা ডাল পানিতে ভেজাতে হয়। এরপর মেশিনে ভাঙ্গিয়ে মিশ্রণ তৈরি করা হয়। তারপর মিশ্রণে বড়ির উপকরণ তৈরি হয়। রৌদ্র উজ্জ্বল ফাঁকা স্থান, বাড়ির আঙিনায় খোলা জায়গায় ভোর থেকে তা তৈরির কাজ শুরু হয়। টিন বা পাতলা কাপড়ে সারি সারি এটি রোদে রাখা হয় শুকানোর জন্য। দুই থেকে তিনদিন টানা রোদে শুকাতে হয়। অতপর বিক্রির উপযোগী হয়।

কারিগররা জানান, এই বড়ি দিয়ে বোয়াল, বাইম, কৈ, শিং বা শোল মাছের ঝোল বেশ মুখরোচক ও জনপ্রিয়। এটি বানানোর উপযুক্ত সময় শীতকাল। তবে চাহিদা বাড়ায় এখন সারাবছরই তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্বনাথপুর গ্রামের নারী পুরুষরা সারাবছর ব্যস্ত বড়ি বানানোয়। বাড়ির আপন চাহিদা মিটিয়ে এটি হাত বদল হয়ে চলে যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে।

বড়ি তৈরির কারিগর বিশ্বনাথপুর গ্রামের শ্রী: দুলাল চন্দ্র বলেন, ৯ বছরের অভিজ্ঞতা আমার। মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করি। সেটি দিয়ে পরিবার ও নিজের চাহিদা মিটিয়ে থাকি। তিনি আরো জানান, আমাদের দেখে এলাকার বেশ কিছু পরিবারের নারী-পুরুষরা এই কাজে এখন ব্যস্ত। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে তা বানানোর ধুম পড়ে যায়। এখানকার বড়ি বেশ সু-স্বাদু। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা যাচ্ছে।

বড়ির কারিগর অধির চন্দ্র জানান, এই পেশা প্রায় ১৫ বছর ধরে করি। তাই আজও তা করে আসছি। বড়ি মূলত ডাল,মাষকলাই, চালকুমড়া, জিরা, কালোজিরা, মোহরী দিয়ে তৈরি করা হয়। প্রতি কেজি ১৭০-১৮০ টাকা করে পাইকারি বিক্রয় করা হয়।
স্থানীয় বাজারে প্রতিকেজি মাষকলাই ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে দোকানীরা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়তই পাইকাররা এসে আমাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে যায়। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন হাটেও খুচরা বিক্রয় করা হয় এই পণ্য।

দিনাজপুর জেলা থেকে বড়ি কিনতে এসেছেন ব্যবসায়ী কুদ্দুস আলী। তিনি বলেন, এখানকার বড়ি যেমন নরম, তেমনি খেতেও বেশ ভালো লাগে। একবার যে এটি খায়, পরেরবার আবার খুঁজে কিনে নিয়ে যায়। আমার কিছু নিজস্ব খরিদ্দার আছেন, যাদের প্রধান পছন্দ এখানকার বড়ি। অন্য বড়ি কম দামে পাওয়া গেলেও নিতে চান না গ্রাহকরা। তাই বাধ্য হয়ে তাদের জন্য এখান থেকেই নিয়ে যাই।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ