1. crimeletter24@gmail.com : crimelet_crimelet :
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
চকরিয়ার সবুজবাগে ড্রেনের পানি চলাচল পথ দখলে নিয়ে রাস্তা নির্মাণ, জনদুর্ভোগের আশঙ্কা খাদের কিনারে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি,এমপি ব্যারিস্টার শামীম পাটোয়ারী কুড়িগ্রামে সংবাদ টিভির কেক কাটার মাধ্যমে পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ উদযাপিত হলো বাংলাদেশ প্রিন্টিং মাষ্টার এসোসিয়েশন এর প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন মসজিদে নামাজ পড়াতে গিয়ে ইমামের সাইকেল চুরি রাংগাঝিরি মোঃ ইউনুছ চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত চৌদ্দগ্রামে ব্যাটমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের ২ গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১ ছাতকে খেলাফত মজলিসের আলোচনা সভা ও দোওয়া মাহফিল রাজশাহী কারাগারে গোদাগাড়ীর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে নবাব ফয়জুন্নেছার ওয়াকফকৃত সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

হরিপুর-চিলমারী তিস্তা সেতু নির্মাণে ভাগ্য খুলতে যাচ্ছে উত্তর জনপদসহ চরাঞ্চাল বাসীর

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২২
  • ৩৮ ০৫ বার পঠিত

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক আল রোহান, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) -ঃ- এবার এক সেতুতে ভাগ্য খুলতে যাচ্ছে উত্তরের অবহেলিত ও দারিদ্র পীড়িত দুই জেলার মানুষের। তিস্তা নদীর বিভক্ত দুই জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার তিস্তা সেতু নির্মিত হলে শুধু সংযোগেই নয় উন্মোচিত হবে কৃষি ব্যাবসা-বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা দ্বার।


গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের হরিপুর ঘাট থেকে তিস্তা নদীর উপর দিয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারী পর্যন্ত ১ হাজার ৪৯০ মিঠার দৈর্ঘ্যে সেতুটি নির্মানের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে সেপ্টেম্বর মাসে। সেতু নির্মানের ব্যায় সুন্দরগঞ্জ অংশে ৫ হাজার ২’শ কোটি ৫০ লাখ টাকা। মুল সেতু নির্মানে ব্যয় ৩’শ ৬৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সড়ক নির্মান, নদী শাষন, সংযোগ সড়ক, বক্স কালভার্ট, ৭ টি ছোট ব্রীজ, ৪০ টি কালভার্ট ও জমি অধিগ্রহণে মোট ব্যয় ১৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। নদীর মুল ব্রীজের নির্মাণ করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না স্ট্রেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন লিমিটেড বাস্তবায়নে এলজিইডি। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শামসুল আরেফিন খান জানান, সেতুতে পাইল বসানো হবে ২৯০ টি এর মধ্যে ১’শ ৭৫টি বসানো সম্পন্ন হয়েছে।

পিলার ৩০ টির মধ্যে ১০টি, গার্ডার স্থাপন ১৫৫ টি’র মধ্যে স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে ৫০টি, সেতুর নির্মানের কাজ ৪০ ভাগ সম্পন্ন। ২০২৩ সালের জুন মাস নাগাদ সেতুর কাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিস্তা সেতুর কাজ যা এখন দৃশ্যমান। এছাড়া গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর-সুন্দরগঞ্জ, চিলমারী পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ হবে প্রায় ৮৬ কিলোমিটার। সেতুর কাজ শেষ হলে এটি রংপুর বিভাগের নদীপাড়ের মানুষের যোগাযোগের পথ সুগম হবে। গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর জেলার মানুষের।
২৯, গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, তিস্তা সেতু নির্মিত হলে রংপুর অঞ্চলের মানুষের অর্থনীতির উন্নয়নের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার দারিদ্র- পীড়িত মানুষ খুঁজে পাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও জীবিকা নির্বাহের শ্রেষ্ঠ অবলম্বন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম সরকার লেবু বলেন, উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী ও প্রত্যাশার এই তিস্তা সেতুনির্মাণ কাজ শেষ হলে কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার যোগাযোগ উন্নয়নে ব্যাপক সাফল্য আসবে। কুড়িগ্রাম জেলার মানুষেরা ঢাকা যাতায়াতে অনেকটা পথ কমে আসবে। কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার দুরত্ব কমে আসবে প্রায় ১০০ কিলোমিটার। কাশেম বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আজিজুল হক বলেন, ০৩ কিলোমিটার নদী শাষণ করায় এই এলাকার পতিত জমি গুলো কৃষি কাজে ব্যবহার হবে এতে করে দরিদ্র কৃষকরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
উজান বেচাগাড়ীর সোহেল মিয়া বলেন, হঠাৎ করে একজন অসুস্থ্য রোগীকে জরুরীভাবে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারিনা। কাঁধে করে বাড়ী থেকে নদীর ঘাট পর্যন্ত আনতে হয়, অনেক সময় নৌকা পেতে দেরী হয়, নৌকায় কারে ওপার পৌঁছার আগেই রোগী মারা যায়,প্রতিনিয়ত এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসার জন্য এ সেতুটি বড় ধরনের কাজে আসবে বেঁচে যাবে অনেক মানুষের প্রাণ।
গণমাধ্যম কর্মী মোঃ আব্দুর রাজ্জাক আল রোহান বলেন, তিস্তা সেতুর নির্মান কাজ সম্পন্ন হলে এ এলাকার কৃষকদের মধ্যে কর্ম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হবে এবং তাদের উৎপাদিত ফসেলর ন্যায্য মুল্য পাবে। সেতু এলাকা থেকে সরাসরি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় উৎপাদিত ফসল পাঠানো সহজ হবে।
হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাযাহার ইসলাম বলেন, আমাদের গাইবান্ধা জেলা শহর কে পকেট শহর বলে থাকি। এখন আর আমরা এ শহরকে পকেট শহর বলতে পারবো না, কেননা সেতুর কাজ শেষ হলে গাইবান্ধার জেলার সঙ্গে অন্য জেলা ও উপজেলা গুলোর মধ্যে নতুন রুপে সেতু বন্ধন সৃষ্টি হবে।
সেতুর নির্মান কাজ শেষ হওয়ার আগেই সেতুর দু’পাশে গড়ে উঠেছে বাজারের ন্যায় বেচাকেনার স্থান, অসংখ্য দোকান পাট খাবার হোটেল ও রেষ্টুরেস্ট।দাম বেড়েছে জমির। দৃশ্যমান এ তিস্তা সেতু দেখতে প্রতিদিন নদীর দু’পারে আসছে দেশের দূর-দুরান্ত থেকে শত শত উৎসাহী পর্যটক।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ